আমরা অপরাধ দমন করতে বলি অপরাধ সংগঠিত হলে প্রশাসনের ব্যথ'তার কথা বলি আবার প্রশাসন মাঠে নামলে নিজেদের মত না হলে প্রতিবাদে রাস্তায় নামি।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাই অপারেশনে গেলে তাদের আচরণ তেমন ই হবার কথা।ফসলের ক্ষেতের আগাছা পরিস্কার করতে গেলে দু'চারটা ভালো ফসলের গাছও নষ্ট হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও অপরাধ দমনের অপারেশনে গেলে অপরাধীর সাথে দু’একজন ভালো মানুষের উপর চড়াও হওয়া কোনো অস্বাভাবিক নয়। কৃষক ভাই যেমন দুই’চারটা ভালো গাছ নষ্ট হলেও বাকি ফসল ভালো থাকবে সে আশায় তার আগাছা পরিষ্কার বন্ধ করতে পারে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরও অপরাধ নিয়ন্ত্রনের অপারেশন বন্ধ করবে ভাবা ঠিক নয়।
আমরা সত্যি বড় বিচিত্র জাতি। ঢাকা সহ সারা বাংলাদেশে অপরাধের আখড়া কোথায় কোন রাস্তার কোন গলিতে কম বেশি সবাই জানে।সন্ধ্যা দূরে থাক ভালো নিরীহ মানুষ দিনের বেলায়ও সব সময় সেই সব এলাকা এড়িয়ে চলেন।তেমনি ঢাকা শহরের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যে ভালো না সবাই জানে। রাতে সেখানে যাবার ভালো কোন কারণ থাকতে পারে কি ? হাতুড়ি নিয়ে সেখানে যাবার উদ্দেশ্যও ভালো হবার কথা নয়।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে কোনো অনুসন্ধানী প্রশ্ন শুনে আমরা উগ্রতা দেখাচ্ছি কথায় কথায় তাদের জুলাই আন্দোলনের কথা বলে তাদের উপর চড়াও হতে চেষ্টা করছি।আমরা অবাক বিস্ময়ে হতবাক হয়ে আমাদেরই সন্তান যাদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছি আমাদের সেই সন্তানেরা রাতে তাদের সহপাঠিদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেনস্থা করার অজুহাতে অশ্রাব্য অশালীন শ্লোগান তুলে মাদক নিয়ন্ত্রন ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নেতৃত্বদানকারী অফিসারের অপসারনের দাবীতে পড়াশুনা রেখে থানায় জড়ো হতে দেখেছি। শোনা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী মাদকাসক্ত এবং প্রশাসন মাঠে নামলেই তখন নানা অজুহাতে তাদেরই কাছ থেকে আসে প্রতিবাদ।
সময় এসেছে অবিভাবকদের তাদের সন্তানকে শুধু পড়াশুনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালে হবে না ।মাসে মাসে তার খরছের জন্য রক্ত-ঘাম পানি করা টাকা পাঠালেই হবে না।তারা সাবালক হয়েছে তারা ভালোমন্দ বোঝে ভাবলে হবে না।তাদের এখন খোজ-খবর রাখা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে।তাদের রাস্তায় নয় রাতে কোনো অপরাধপ্রবন এলাকায় নয় তাদের পড়ার টেবিলে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন মিডিয়ায় আমাদের অনেক সন্তানদের নিয়ে কথা উঠছে তাদের অনেকের অশ্লিল বক্তব্যের ভিডিও, অশ্রাব্য শ্লোগানের প্ল্যাকাড’ হাতে ছবি পত্রিকা-সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে আছে। আমরা অবিভাবক হিসাবে দেশের ভবিষৎ প্রজন্মকে ধংসের হাত থেকে বাচানো জন্য সেই সন্তানদের দিয়ে সংশোধনের সুচনা করতে পারি। যদি আমরা পারবারিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে না পারি শুধু প্রশাসন দিয়ে সব জঞ্জাল সরানো যাবে না সব, সমস্যার সমাধান আশা করা যাবে না। রাজনৈতিক নেতাদের ও দায়িত্ব আছে ক্ষমতায় যেতে আর ক্ষমতা আকড়ে বসে থাকতে ছাত্র শিক্ষকদের নোংরা রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। দেশের উন্নয়নের জন্য জাতির ভবিষৎ কান্ডারীদের বাচাতে হবে।
গুনীজনদের অভিমত এখন একটা জাতিকে ধংস করতে যুদ্ধের প্রয়োজন নাই , প্রয়োজন নাই দেশ দখলের তার শিক্ষা-সংস্কৃতি ধংস করতে হবে,সমাজকে মাদক ব্যাভিচারে ডুবিয়ে দিতে হবে।চারিদিকে তাকালে তার ছড়াছড়ি কল্পনার চাইতেও অনেক বেশি। গত দেড় দশকে শিক্ষাকে নিয়ে কাটা-ছেড়া পোষ্টমটে’ম করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে ছাত্র-শিক্ষকদের হাতিয়ার বানিয়ে শিক্ষাকে ধংস করা হয়েছে।ছাত্ররা আজ অটোপাশের জন্য আন্দোলন করে, শিক্ষককে বহিস্কারের জন্য আন্দোলন করে । ছাত্ররা এখন পড়ার টেবিলে নাই, লাইব্রেরিতে নাই। ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের পর কিছু অনৈতিক সুবিধা দিয়ে কিছু ছাত্রনেতাদের বিপথগামী করে ধন সম্পদের মালিক বানানো হয়েছে ।তাদের দেখিয়ে অন্যদের মাঝেও নেতা হবার উদগ্র বাসনা জাগিয়ে দেয়া হয়েছে। চারিদিকে তাকিয়ে আজ কেন জানি আশংকা জাগে কাদের ষড়যন্ত্রে আমাদের এই সোনার ছেলেরা পড়াশুনার টেবিলে না বসে, ক্লাসে না গিয়ে রাস্তায় নামছে, কথায় কথায় মব তৈরি করছে। তারা কোথায় থাকে কোথায় খায় ? শিক্ষককে অপমান করছে যাকে তাকে ট্যাগ দিয়ে অপদস্ত করছে, আইন হাতে নিয়ে অরাজক অবস্থা তৈরি করছে। আমাদের সোনার ছেলে-মেয়েদের ভবিষৎ,তাদের স্বপ্নকে ধংস করছে দেশের ভবিষৎ কান্ডারীদের ধংস করছে জানতে চাই কারা সে বংশীবাদক কে পারবে এদের অগ্রযাত্রা করতে পথরোধ ?
No comments:
Post a Comment
Note: Only a member of this blog may post a comment.