Thursday, April 3, 2025

আরবদের ভাবতে হবে

মাকি’ন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসে তার পুব’ পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা দখলের ডাক দিলে গোটা বিশ্বময় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।বাধ্যহয়ে পরিকল্পনা থেকে পিছু হটলেও তার বরকন্দাজ রক্তপিপাসু দানব নেতানাহুকে দিয়ে গাজায় গনহত্যা চালিয়ে জনশুন্য করার সব কায’ক্রম চলমান রেখেছে।যুদ্ধবিরতির নামে সময়ক্ষেপন করে ইজরাইলকে অস্ত্র গোলাবারুদ দিয়ে শক্তিশালী করেছে।ইজরাইলকে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লংঘণ করে আবারও গাজায় আক্রমণের অনুমোদন দিয়েছে।দখলদার দানব নেতানাহুর বাহিনী এখন গাজা জনশুন্য করার সাথে সাথে ভুমি দখলের জন্য পশ্চীমতীরেও ধংসলীলায় মেতেছে।রমজানমাস এমন কি ঈদের দিনও তাদের বোমার আঘাতে ধ্বংস আর হত্যাকান্ড করা বাদ যায় নাই ।রেডক্রসের নিরিহকমী’দের হ্যান্ডকাপ পড়া অবস্থায় গুলিকরে গণকবর দিয়েছে।কাতার-মিসরের যুদ্ধবিরতিচুক্তি হামাস সম্মত হলেও নেতানাহু বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে গাজাবাসীকে এলাকা ত্যাগ করার আদেশ দিয়ে তার ধংসযজ্ঞ আর হত্যাকন্ড চলমান রেখেছে।খাদ্যত্রাণ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে গাজাবাসীর জীবন দুবি’সহ করে তুলেছে।অবস্থা দেখে মনে হয় সভ্যবিশ্বের কোথাও যেন কেউ নাই এই দানব থামাবার, মানবতা রক্ষা করবার, গনহত্যা বন্ধ করবার।

ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে রাজী না হলে হামাসকে হুমকী দিয়েছিল যে নরকের সকল দরজা দিয়ে আগুন নামিয়ে আনবে।হামাস সেই চুক্তি মানলেও ইজরাইল তা কখনো মানে নাই।আমেরিকা পরমানু ইস্যু নিয়ে ইরানকে আক্রমণ করে ধ্বংস করার হুমকীর দিয়েছে।সৌদিআরব সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত  ইরান আক্রমণে তাদের ভুমি ও আকাশসীমা আমেরিকাকে ব্যবহার করতে দেবে না জানিয়ে দিয়েছে।আমেরিকা তাই ভারত মহাসাগরের দিয়াগোগাসি’য়া ঘাটিতে সমরসজ্জা বাড়াতে শুরু করেছে।ইরানও বসে নাই সেও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ইজরাইলকে ধ্বংস ও আমেরিকান সেনাদের কফিনে ফেরত পাঠানোর।আমেরিকার ইয়ামেন আক্রমণ,ইজরাইলের যুদ্ধবিরতি লংঘন করে লেবাননে আক্রমণের মাধ্যমে পুরা মধ্যপ্রাচ্য আবার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

এমন যুদ্ধের ডামাডোলে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে আগামী মে মাসের মধ্যবতী’ সময়ে ট্রাম্প দ্বিতীয়বারে ক্ষমতা গ্রহনের পর প্রথম তার অফিসিয়াল সফরে সৌদি আরব যাচ্ছেন।বত’মান অবস্থায় সৌদি আরব হোয়াইট হাউজের কাছে খুবই গুরত্বপুন্য’ হয়ে পড়েছে।রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচানায় সৌদি আরবকে ভেন্যু হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।ট্রাম্পের সফরের লক্ষ্য  সৌদিসহ ও অন্যান্ন আরব রাষ্ট্রের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পক’ উন্নয়ন, গাজার যুদ্ধবিরতি এবং আমেরিকায় সৌদির প্রায় ৬০০বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ।সেই সাথে ট্রাম্প জামাতার আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারনের চেষ্টা করা ও সৌদিআরব ইজরাইল সম্পক’ উন্নয়ন।যা কিনা সৌদিআরব এর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া ইজরাইলের সাথে সম্পক’ উন্নয়নের সম্ভাবনা নাই শত’ এবং  ইজরাইলের তা না মানায় থমকে আছে।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় বসে বিশ্বব্যাবস্থায় একটা ঝাঁকুনি দিয়ে ফেলেছেন।গাজার সাথে সাথে আগ্রাসী আক্রমণকারীর মতো পানামাখাল, গ্রীনল্যান্ড এবং কানাডার নিয়ন্ত্রন নেওয়ার হুমকী দিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারন পরিষধে ইউক্রেন এবং মিত্রদের রাশিয়াকে আগ্রাসী বাহিনী বলে আনিত বিলের বিপক্ষে দাড়িয়েছে।জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা থেকে বেড়িয়ে যাবার সিদ্ধান্ত।ন্যাটো মিত্রদের আমেরিকার অথ’নীতির খুব বেশি সুবিধাভোগী বলে শুল্ক আরোপ করে মিত্রদের আস্থায় ফাটল ধরিয়েছেন।তারা কেউ আর এখন আমেরিকার উপর ভরসা রাখতে না পারায় নিজেদের নিরাপত্ত্বায় পারমানবিক অস্ত্র ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করেছে।ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনে অস্ত্র-গোলাবারুদ প্রযুক্তিসহ সকল সহায়তা দিয়ে পাশে থাকা আমেরিকা ন্যাটোভুক্ত দেশ গুলির সাথে আলাপ আলোচনা না করে ইউক্রেনকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থায় আমেরিকার প্রদত্ত সাহায্যের বিনিময় ইউক্রেনের মুল্যবান খনির অংশ দাবী করেছে।ইউক্রেন তাতেও রাজি এবং আরো সাহায্যের তাগাদায় হোয়াইট হাউজে ওভাল অফিসে আলোচনায় ট্রাম্প ভলোদিমি জেলনিস্কি একেবারেই বিরল উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে।

গত মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে চেয়ারে বসে  ঠিক প্রায় একই সময়ে  ট্রাম্পের প্রথম  সৌদি  সফর দেখেছি তার সফরকালে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে ইরানের জুজুর ভয় দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব রক্ষার জন্য সৌদি আরবকে অস্ত্র গোলাবারুদ সরবরাহের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করা হয়েছিলআরব নেতাদের বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, সৌদি নেতাদের এমন কিছু  বুঝিয়েছিলেন  যার জন্য ট্রাম্প  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পরপরই  সৌদি নেতৃত্বাধীন পাঁচটি দেশ কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। এমনকি রমজান মাসে কাতারে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয় কারণ কাতার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করছে শোনা গিয়েছিল কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার পর, এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে ট্রাম্প টুইট করেছিলেন যে এটি তার মধ্যপ্রাচ্য সফরের সাফল্য কারণ সমস্ত  পদক্ষেপই  মার্কিন-ইসরায়েলের পক্ষে এই নীতি অনুসরণ করে আমেরিকা আরব দেশগুলিতে তাদের ঘাঁটি স্থাপন করেছে আরব নেতারা বিশ্বাস করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষা করবে এবং ক্ষমতায়  থেকে আমৃত্যু  আরামদায়ক জীবন উপভোগ করবেননিঃসন্ধে বলা যায়  সেই বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র গোলা বারুদ আরব নিধনে ব্যবহার হয়েছে ।

যুক্ত্রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যে দলই আসুক তাদের সবারই পররাষ্ট্রনীতি  মধ্যপ্রাচ্যে ইজরাইলকে রক্ষা করা তাকে একচ্ছত্র ক্ষমতাধর করে মধ্যপ্রাচ্যের নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা।বাইডেন এর সময় দেখেছি তার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ব্লিঙ্কেন যুদ্ধ বিরতিতে কাজ না করে  ইসরায়েলি  যুদ্ধ  মন্ত্রিসভার নেতার মতো ভুমিকা পালন করতে মধ্যপ্রাচ্যে  তার শাটল সফরে  আরব নেতাদের প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছেন আরব নেতারা ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় একতাবদ্ধ হতে পারে নাই। আরব নেতাদের মধ্যে বিভাজন এবং তাদের নীরবতা, নিরপেক্ষতায়  হলোকাষ্ট থেকে বেচে আসা ইহুদীদের তৈরী ইসরায়েল আজ রক্তপিপাসু দানব রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, দানব নেতানিয়াহু ফাকা মাঠে ওয়াকওভার নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো গনহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে

আরব নেতাদের বুঝতে হবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয়রা কখনই আরবদের বন্ধু হতে পারে না,বন্ধু কেবলই তখনই হয় যখন  আরবদের  বিভক্ত করতে প্রয়োজন হয়।যখন একে অপরকে হত্যা করতে তাদের সামরিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে অনুপ্রাণিত করতে  এবং অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে হয় আরব ভুমিতে মার্কিন ঘাঁটি কেবল তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং  ইসরায়েলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরবদের জন্য নয় তাই আরব রাষ্ট্রের মাকি’ন ঘাটি থেকে ইজরাইল সুবিধা পায় কিন্তু ইজরাইল লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আকাশসীমা লঙ্ঘনের কারণ দেখিয়ে তা ধ্বংস করে ইজরাইলকে রক্ষা করা হয়।আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলির দ্বৈত ভূমিকাও লক্ষ্য করেছি তারা রাশিয়ান আগ্রাসন বন্ধ করতে ইউক্রেনকে সমস্ত সহায়তা প্রদান করছে কিন্তু একই সাথে তারা ফিলিস্তিনি গনহত্যার জন্য রক্ত পিপাসু দানব ইসরায়েলকে সমস্ত ধরণের লজিস্টিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে

মার্কিন-যুক্তরাজ্য নেতৃত্বাধীন জোটের আশীর্বাদে ইসরায়েল  গাজাকে ফিলিস্তিনিদের  জন্য একটি  কসাইখানা হিসেবে প্রস্তুত করেছে। যেখানে ফিলিস্তিনিরা এখন তাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য তাদের সর্বস্ব উৎসর্গ করছে ফিলিস্তিনিরা এ যুদ্ধ যেন কেবলমাত্র ইসরায়েলের সাথে নয়, মার্কিন-যুক্তরাজ্য জোটের সাথেও এক অসম যুদ্ধে লিপ্ত সম্ভবতঃ কোনো অলৌকিক ঘটনা ছাড়া ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার আর কোনও সুযোগ এবং সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না ইতিহাস  হয়তো কোনো একদিন বলবে যে ফিলিস্তিনিরা কেবল ইসরায়েলের সাথেই নয়, বরং স্বাধীন ফিলিস্তিনের জন্য বিশ্বের মানবতার মুখোশধারী শক্তিধর  জোটের সাথে লড়াই করে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেতারা বেছে নিয়েছিল  ভেড়ার মতো দীর্ঘ জীবনযাপন করার জন্য বেচে থাকার চেয়ে অনেক অনেক বেশি উত্তম একদিন সিংহের মতো বেঁচে থাকা সময় এখন আরব নেতাদের বিবেক জাগ্রত করার।সময় এখন শিয়া-সুন্নী নানা বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হওয়ার, সময় এখন পশ্চীমাদের উপর নিভ’রতা কমানোর।সময় এখন আরব ভুমি থেকে সকল বিদেশি ঘাটি বন্ধ করার।সময় এখন একতাবদ্ধ আরব একক শক্তি নিয়ে ইজরাইলকে ফিলিস্তিন ভুমি থেকে নিজ সীমান্তে ফেরত যেতে বলার।আরব নেতারা কি করবে এখন তারা কি গাজাকে বিশ্বের সবব’বৃহৎ কবরস্থান বানাতে দেখবে?ট্রাম্পের কুটচালে ক্ষমতায় থেকে আমরণ সুখভোগের জন্য নিজেদের মাঝে বিভেদ রেখে ইরানকে ধ্বংস করতে সহযোগীতা করবে?ইরানের পরমানু কেন্দ্র ধ্বংস করলে আমেরিকানদের কিছু হবে না প্রাকৃতিক বিপ’যয়ে পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলির জনজীবনে বিপয’য় ঘটতে পারে।আরবদের ভাবতে হবে।আমাদের কিছুই করার নাই শুধু কেবলই পারি পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে মানবতা রক্ষার প্রাথ’না করবার। 

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA