Tuesday, July 28, 2026

সবার আগে বাংলদেশ

আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জুলাই বিপ্লবের পর থেকে শুরু হয়েছিল বিশেষ একটা দলের নানা রকমের ফাদ পাতা।দীর্ঘ দেড় দশক আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে লাখ লাখ বিএনপির নেতা-কর্মী গনতন্ত্রের দাবীতে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে জেল-জুলুম ,গুম-খুন, হামলা-মামলা,ঘড় ছাড়া-বাড়ি ছাড়া, স্ত্রী -সন্তান পরিবার-পরিজন ছাড়া, নিপীড়ন -নিযা'তনে পযু'দস্ত, কিন্তু  নিজেদের পরিচয় লুকায় নাই, নাম পাল্টায় নাই দল পাল্টায় নাই, মোনাফেকি করে নিজেদের আদশ' দলের প্রতি আনুগত্য অন্য দলের কাছে বিকায় নাই। পালিয়ে বেড়িয়েছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে।কোথাও দিন মুজুর কোথাও রিক্সা চালিয়ে খেয়ে না খেয়ে নি’ঘুম রাত কাটিয়েছে, সপ্তাহ-মাস বছর হিসাব নাই।বিপ্লবের পর সেই  নিবা'চনের কথা বলতেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের চাদাবাজ, সেই দলকে নব্য ফ্যাসিবাদ বলে দেশের মানুষের কাছে চিহ্নিত করতে এহেন কোনো প্রপাগাণ্ডা নাই যা তারা করে নাই।অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল লীগ নাই জাপা নাই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারলেই মঈন-ফখরুদ্দিনের মাইনাস টু ফরমুলা বাস্তবায়ন হবে, নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যাবে।পরিকল্পনা অনুসারে নিজেদের মত বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে ফেলা যাবে।মুছে ফেলা যাবে ৭১ এর নিজেদের বিত'কিত পুতি-গন্ধময় কম'কান্ড।সেই  পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বারবার ব্যথ' হয়েছে।

রাজনীতি আগের সেই সম্মানের জায়গায় নাই। রাজনীতি এখন গরীব ধনী হয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবার পুজিবিহীন ব্যবসা। রাজনীতিতে এখন ভালো মানুষ ঢুকলে ভালো থাকতে পারে না।সব রাজনৈতিক দলের মতই বিএনপিতেও খারাপ মানুষ আছে,অস্বীকার করা যাবে না।কমী' এবং অনুসারীর সংখ্যা অনুপাতে অপরাধের সংখ্যা ও ভালো কাজের সংখ্যা  অন্য দলের তুলনায়  বেশি হবারই কথা । কথায় আছে হাতী যেমন তার লাদাও তেমনই তো হবে। দল অপরাধের প্রমাণ পেলে কেন্দ্র থেকে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করছে কিন্তু তার প্রচার নাই। নিবা'চনের আগে এবং পরে  বিএনপির বিরুদ্ধে  এনসিপির নেতারাও মাঠে নেমে  যে নোংরা বিদ্রুপ এবং শ্লেষাত্মক আক্রমণ মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালিয়েছে তা জাতি আশা করে নাই। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংঘাত এড়াতে  প্রশংসাতিত ধৈয্য’ এবং সংযম দেখিয়েছে।তারা বুঝতে পারে নাই বিএনপি কমী’ নিভ’র  দল নয় তার সাথে সম্পক’ মাটি ও মানুষের, তারাই দলের প্রান শক্তি।

অবশেষে  সকল ছলা-কলা ব্যথ' করে সাধারন মাটি ও মানুষের ৫১% ভোটে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বিএনপি জয় লাভ করেছে।বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার কমিটির সদস্য  হিসাবে শপথ না নেয়ায় তাদের গাদ্দার বলা হয়েছে।কেউ আবার  নতুন বিপ্লবের ডাক দিচ্ছেন।স্মরণ করা প্রয়োজন ইনটেরিম সরকারের ঘটা  করে উদযাপিত জুলাই সনদ সই করার নিধা'রিত দিন বিএনপি উপস্থিত থেকে সনদে সই করেছে।এনসিপি  কি সই করেছিল, করে নাই।শোনা যায় সই করেছে উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের শেষ কম'দিবসে।জুলাই বিপ্লব পরবর্তীতে সমন্বয়কদের ইনটেরিম সরকারের সহযোগী হবার কথা নয় তারা হয়েছে।অনৈতিক কম'কান্ডে জড়িয়ে জাতির  প্রত্যাশার নতুন সুয্য' না উঠতেই  সমন্বয়করা কোটি টাকার গাড়ি, কোটি  টাকার মালিক হয়ে  জাতির সাথে প্রথম গাদ্দারী করেছে। জুলাই সনদে সই না করে  তারা সেদিন কক্সবাজারে সমুদ্রবিলাসে গিয়ে  জাতির সাথে দ্বিতীয়বার বেঈমানী করেছে।শোনা যায় নিবা’চনে বিএনপির সাথে আসন ভাগাভাগিতে ব্যথ'-ব্যাথিত হয়ে  জুলাই বিপ্লবের পর জামায়াতকে গালাগাল করা একেবারেই বিলীনপ্রায়  দলের কয়েক নেতা এমপি পদের জন্য সেই জামায়াতের সাথে জোট করে নিবা'চন করে আবারও জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। ফলে যারা দেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী হীরো হবার কথা তারা জামায়াতের ছায়াতলে থেকে মাত্র ৩% ভোট পেয়ে  কোনোভাবে টিকে আজ ভিলেনে পরিনত হতে যাচ্ছে। তারা বুঝতে পারে নাই অতিদ্রুত দল করে রাজনৈতিক নেতা হয়ে ,ক্ষমতার মজা নিয়ে, নানা রকম অনৈতিক কম’কান্ডে জড়িয়ে, সেনাবাহিনীকে বিত’কিত করতে গিয়ে,সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা,সরকারী কম’কতা’ শিক্ষকদের সাথে শিষ্টাচার বহি’ভুত আচার-আচরণ করে সারাক্ষন জামাতকে গালি দিয়ে,একটা এমপি হতে তাদের সাথে জোট করে মানুষের মাঝে তাদের আকাশ্চুম্বী গ্রহন যোগ্যতা কতখানি নিচে নামিয়েছে।

মনে রাখতে হবে  বিএনপি জুলাই সনদ দিয়ে জনগণের রায় পায় নাই তারা তাদের ৩১ দফার দলীয় ম্যানুফেষ্ট দিয়ে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতা এসেছে।তারা জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার কমিটি সদস্য হিসাবে নয় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে নিবা’চীত হয়েছেন। জুলাই সনদ মানবে না তারা কখনো বলেও নাই।বরং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুন'বাসনের অংগীকার করেছে বহুবার।তারা বলছে সনদ অনুযায়ী অক্ষরে অক্ষরে  সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। তাই নিজেদের ব্যথ'তা এবং অপরাধ থেকে বাচতে ক্ষমতার চেয়ারে বসতে না বসতে পাচ মাস বয়সী সরকারকে  ফেলে দেবার শ্লোগান তোলা কারো ঠিক হয় নাই। দীঘ' দেড় দশক পর গনতান্ত্রিক পন্থায় নিবা'চনের মাধ্যমে নিবা'চীত সরকারকে সহায়তা করা সবারই দায়িত্ব।মতবিরোধ থাকবে কিন্তু গনতন্ত্রের সৌন্দয্য' আলাপ আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।মেনে নিলাম আজকের বিরোধীদল খুব বেশি আশাবাদী ছিল ক্ষমতায় যাবার কিন্তু  হয় নাই। তাতে ক্ষোভ থাকতেই পারে কিন্তু দেশ ও দেশের মানুষের শান্তির জন্য বিজয়ী দলকে সময় দিতে অসুবিধা কোথায়? এখন উদ্দেশ্যই যদি হয় দেশ ও দেশের মানুষ গোল্লায় যাক আমরা যেহেতু ক্ষমতায় যাইতে পারি নাই সুতরাং এক মুহুত্ত’ কাউকে ক্ষমতায় শান্তিতে থাকতে দেব না তাতে আশংকা জাগে।তখন জামাত-এনসিপি জোট কারো ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হয়ে কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে জন রায়ের বিরুদ্ধে দেশের ভেতর অরাজকতায় নামার আগে খুব বেশি  ভাবতে হবে।

ভুলে গেলে চলবে না জুলাই বিপ্লবে নাহিদ-হাসনাত-সারজিসরা  গ্রেফতার হয়ে বহুল আলোচীত ডিবি হারুনের খাবার হোটেলের টেবিলে থাকতেই আন্দোলন  শেষ হয়ে যেত যদি না সেদিন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ছেলেরা, সকল পেশার সব’স্তরের সাধারন মানুষ নতুনভাবে জেগে উঠে রাস্তায় না নামতো।আজকে সব ভুলে জামাত-এনসিপি জোট একমাত্র নিজেদেরই একক কৃতিত্ব দাবী করে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মত ২৪ এর চেতনা বেচতে শুরু করে যখন তখন যাকে যেভাবে হুমকি দিয়ে ভুল করছে।এক সময় তারা যে সেনাপ্রধান এবং তার বাহিনীর নিরপেক্ষতায় বিপ্লব সফল হয়েছিল  তাকেও কম বিব্রত করতে, কটাক্ষ করতে ভাবে  নাই।সেই সেনা প্রধান এবং তার বাহিনীর নিরলস চেষ্টা, নিরপেক্ষতায় আবারও একটা রক্তপাতহীন নিবাচ’ন জাতিকে উপহার দিয়ে প্রমান করলেন রাজনৈতিক নেতারা দেশে সমস্যা তৈরী  করে আর শেষে জাতির গব’ সেনাবাহিনীকে সমাধানে রাস্তায় নামতে হয়।স্মরণে রাখতে হবে জুলাই বিপ্লবের জুলাই যোদ্ধাদের দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে কিন্তু বিপ্লবের পর অনৈতিক কর্মকান্ডের দায়মুক্তি জাতি কোনো নেতাকে  দেয় নাই।

বত'মান অবস্থায় দেশ আর কোনো অরাজকতার চাপ নিতে পারবে, মনে হয় না।সরকার দলীয় মন্ত্রী–এমপি, নেতা-কমী’দের সচেতন হতে হবে,মিডিয়ায় কাভারেজ পেতে অতিআবেগ অতিবাচলতা ত্যাগ করতে হবে,দেশের কোন নাগরিক কোনভাবে কোনো নেতা-কমী’দের দ্বারা যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়  সতক’ থাকতে হবে। চারিদিকে হাজার লক্ষ চোখ ত্রুটি ধরতে অপেক্ষায় আছে।আছে তিলকে তাল করে উদর পিন্ডি বুদর ঘাড়ে চাপিয়ে প্রপাগান্ডা ছড়াতে।একটু ভুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের  সকল অজ’ন ম্লান হতে পারে,তার জনকল্যানের সকল প্লান ভেস্তে যেতে পারে।গত রোজায় জামায়াতের ইফতার পাটি’তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের বক্তব্য শুনে আশাবাদী হয়েছিলাম একে অপরের প্রতি হুমকী ধামকি কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হবে কিন্তু হয় নাই।আমরা দেখেছি রাজপথে আমেরিকার ইরান আক্রমণের প্রতিবাদ মিছিলে “ ইরানে হামলা কেন বিএনপি জবাব চাই” “ইরানে হামলা কেন তারেক জিয়া জবাব চাই” শ্লোগান, প্রতিপক্ষ নেতাদের নিয়ে কুরুচীপুণ’ পোষ্ট ,ডাকসু , রাকসুর নেতাদের ন্যাক্কারজনক অশালীন বক্তব্য শুনেছি। এখন তাদেরই কেউ কেউ প্রশ্নপত্র কঠিন কেন, হলে গাড’ কঠিন কেন এমন বাহানায় শিক্ষা-মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবীতে অভব্য--অসভ্য আচরণ করা পরীক্ষাথী’দের উৎসাহ দিচ্ছেন।আফসোস হয় কি শিক্ষা অতীত থেকে আমরা পেলাম ? রাষ্ট্রের সংস্কার চাইছি অথচ নিজেদের সংস্কার করতে পারি নাই।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চীম বাংলার নিবা’চনে উগ্র কট্ট’র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ক্ষমতায়ন।সীমান্তে পুশ-ইন  এর চেষ্টা, বিভিন্নভাবে দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে দিয়ে শান্তি-সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেশের গাইবান্ধায় বিশাল রামমুতি’ নিমা’নের নামে একটা ফাদ পাতা হয়েছে, সারাবিশ্ব জুড়ে  যুদ্ধাবস্থায় দেশকে অস্থিতিশীল করে  দেশের স্বাধীনতা- সাবো'ভৌমকে বিপন্ন করার চেষ্টা চলছে।এমন অবস্থায় দেশ ও দেশের মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য  অতি প্রয়োজন এখন  জাতীয় ঐক্য এবং সকলের দেশ-প্রেমিক হবার।সবাই মিলেমিশে কাধে কাধ রেখে আসুন দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করে আত্ননির্ভরশীল একটা সুন্দর নিরাপদ বাংলাদেশের গবী'ত নাগরিক হবার চেষ্টা করি।মনে-প্রানে ধারন করে নিজেদের জীবনে তা লালন-পালন করতে আওয়াজ  তুলি  “ আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা , সবার আগে বাংলদেশ” ।

প্রকাশ ঃ দৈনিক গণমুক্তি   ঃ ২৮/০৭/২০২৬ ইং

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA