পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ১১/১২টি নৃগোষ্ঠীর ভেতর সংখ্যানুপাতে প্রথমত চাকমা, দ্বিতীয়ত মারমা, আছে ত্রিপুরা, ম্রো ,তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াং, খুমি, চাক,পাংখো , লুসাই জনগোষ্টী , আছে বাংলাভাষী জনগোষ্টীর বসবাস। আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ জনঅধ্যুষিত পাহাড়ের প্রাকৃতিক নৈস্বর্গের লীলাভুমি এখন দেশি-বিদেশী মদদপুষ্ট সশস্র সন্ত্রাসীতে পূর্ণ। যাদের চাদাবাজীতে পাহাড়ি-বাঙ্গালী সবাই অতিষ্ট কেহই শান্তিতে নাই। বাতাসে বারুদের গন্ধ আর মানুষের মনে হিংসার বিষে প্রশারিত সাপের মতো লকলকে জিহব্বা। যে যখন সুযোগ পাচ্ছে ছোবল দিতে সাপের মত ফণা তুলছে, শান্ত পরিবেশ অশান্ত হচ্ছে। অনেকের অভিমত এসব কিছুর পেছনে আছে আঞ্চলিক ও আর্ন্তজাতিক আগ্রাসী চক্রান্ত। দেখছি দেশে দেশপ্রেমিক সরকার ক্ষমতায় বসলেই কখনো বঙ্গভুমি আন্দোলনকারী আবার কখনো জুমল্যান্ড দাবীকারীদের অপ-তৎপরতা। তার উদাহরণ ৭৫ এর ক্ষমতার পট-পরবর্তনের পর সীমান্তে বঙ্গভুমি দাবীদারদের আস্ফালন, ২৪ শে জুলাই এর পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের গঠীত উপদেষ্টা ইউনুসের ইনটেরিম সরকারকে বিব্রত করতে ভারতপ্রেমী একটা গোষ্ঠীর আস্ফালন, সাথে ছিল পাহাড় অশান্ত করার অপ-তৎপরতা ।
২০২৬ শে সুদীর্ঘ ১৭ বছর পর গনতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচীত সরকার ক্ষমতায় বসতে না বসতে রংপুরে মুর্তী নির্মান ইস্যুতে ভারতপ্রেমী বাংলাদেশী পথভ্রষ্ট সনাতনী একটা গোষ্ঠীর আলাদা রাষ্ট্র দাবীর আন্দোলনের রেশ না কাটতেই উত্তপ্ত করা হল আবারও পাহাড়ী জনপদ। সম্প্রতি উপজাতীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর ব্যানারে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের রাঙ্গামাটির সাজেক থেকে অপসারন , আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশী বন্ধ করার দাবী সহ পাচ দাবীতে সড়ক অবরোধ করলে ভ্রমণপিপাসু কয়েক হাজার পর্যটক সাজেকে আটকা পড়ে। সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে গেলে কথিত অবরোধকারীদের বাধার সম্মুখীন হয়। অবরোধকারীরা সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পর্যটকবাহী গাড়ীতে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকা অবস্থায় সশস্ত্র একটা গোষ্ঠী সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর অতর্কিত গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মাঝে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পরে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠীচার্জ করে অবরোধকারীদের সরিয়ে পর্যটকদের নিরাপদে বের করে আনে। সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই হামলার জন্য সশস্ত্র ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছে । যদিও ইউপিডিএফ তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে বলে জানা যায়।
এই বিবাদ নতুন কোনো সৃষ্ট ঘটনার কারণে নয় । দেশ স্বাধীনের পূর্বে ইউএসএইড ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের আমলে শিল্পায়নের জন্য জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ সুবিধার জন্য রাঙ্গামাটির কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে বাধ দিয়ে জলাধার নির্মান করে। ফলে সৃষ্ট বিশাল জলাধার আজকের কাপ্তাই হ্রদ । এখানে জল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি ১৯৫৭ সালে শুরু করা হয় এবং ১৯৬২ সালে শেষ হয়। প্রথমে ৮০ মেগাওয়াট থেকে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা ২৩০ মেগাওয়াটে উন্নিত করা হয়। এই প্রকল্পের উৎপাদিত স্বল্প মুল্যের বিদ্যুৎ আজও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভুমিকা রাখছে। অন্যদিকে এই বাধের কারণে আনুমানিক ২৫০ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃন্ন এলাকা জলমগ্ন হলে পাহাড়ী বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী ভূমিহীন-গৃহহীন হয়ে পড়ে। তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জনশ্রুতি আছে অনেকে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। আজকের এই বিবাদের শুরু তখন থেকে।
শোনা যায় ভারত এই সুযোগ কাজে লাগাতে নামে। উপজাতীয় নৃগোষ্ঠীর মাঝে অশান্তির বীজ বপণ করে তাদের বিদ্রোহী হতে উদ্বুদ্ধ করে। তাদের গেরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং দেয়া হয়। ১৯৭১ সালে পাহাড়ের উপজাতীয় নেতৃত্ব স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল এবং পাকিস্তানীদের পক্ষ নিয়েছিল । দেশ স্বাধীনের পর অতি আবেগী বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদীতে আপ্লুতরা তাদের বাঙ্গালী হতে বলায় তারা আরও বিক্ষুব্ধ হয়। পরবর্তিতে মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS) এবং ১৯৭৩ ইং সালে তার সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনী গঠিত হয়। শান্তি বাহিনীর অপ-তৎপরতা এবং সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যদের উপর ক্রমাগত গেরিলা হামলা বেড়ে যায়। কিন্তু আজ অবধি বাংলাদেশের কোন সরকার রাস্ট্রীয়ভাবে পথভ্রষ্ট উপজাতিদের ভারতে ট্রেনিং দেয়ার প্রতিবাদ কিংবা বন্ধ করার আহবান জানানোর কথা শুনি নাই। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর নদী ভাংগনে ক্ষতিগ্রস্থ ভুমিহীন-গৃহহীন বাংগালীদের পাহাড়ে পুনর্বাসন করতে শুরু করেন । শান্তিবাহিনী পুর্নবাসিত বাঙ্গালীদের ঘড় বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হাজার হাজার মানুষের উপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে শান্ত পাহাড়কে অশান্ত রক্তাক্ত করতে শুরু করে। ১৯৮৩ সালে মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা নিহত হলে তারই ভাই আজকের সন্তু লারমা( জ্যোতিরিন্দ বোধিপ্রিয় লারমা) শান্তিবাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। পাহাড় আরও বেশী অশান্ত রক্তাক্ত হতে থাকে।
১৯৯৬ সালের ১২ই জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ২৩শে জুন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং শেখ হাসিনা প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শফথ নেন। রাষ্ট্র ক্ষমতার বসতে না বসতে ১৯৯৭ সালে ২রা ডিসেম্বর সশস্ত্র উপজাতি শান্তি বাহিনীর সাথে হাসিনা সরকারের অসম ও অবাস্তবায়নযোগ্য পাব'ত্য শান্তি চুক্তি হয়। অনেকের মতে এই চুক্তি ছিল ভারত সরকার এবং বাংলাদেশের হাসিনা সরকারের যৌথ প্রযোজনায় মঞ্চায়িত নাটিকা। তা না হলে চুক্তির মাধ্যমে শান্তিবাহিনী বিলুপ্ত হলেও সশস্ত্র পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি থাকে কিভাবে ? চুক্তিতে উপজাতি-বাঙ্গালী সহাবস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় নাই।বরং বাংলাদেশের অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে, পুর্নবাসিত বাঙ্গালীদের অবহেলা করা হয়েছে। সেই চুক্তির সাথে তখনি বিরোধিতা করে শান্তি বাহিনী থেকে বেড়িয়ে সশস্র একদল ইউপিডিএফ নামে আরেকটি সংঘঠন আত্মপ্রকাশ ঘটায়। চুক্তির শর্তানুযায়ী কিছু সেনা ক্যাম্প গুটিয়ে ফেলায় আজ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অভয়ারন্যে পরিনত তিন পার্বত্যজেলা।
আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকলেও আধিপত্য বিস্তারে মুলত দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সন্তু লারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে গঠিত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) যারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত। মুল কারণ চাদাবাজীর একচ্ছত্র অধিকার পাওয়া । গত সাতদিনের সড়ক অবরোধ তেমনি একটা ঘটনা। পর্যটন মৌসুমে অবরোধ তুলে নেয়ার আলোচনা চলছে। এ লেখার সময় পর্যন্ত কোনো চুড়ান্ত সুরাহা হয় নাই। রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়া সাজেকের কারবারী এসোসিয়েশন ও গণঅধিকার কমিটির সাথে বৈঠকের পর জানান অবরোধকারীদের পাচটা দাবীর ৪টার সমঝোতা হয়েছে বাকী একটাও দু’একদিনের ভেতর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। আমরা আশা করি রাত না পোহাতেই অবরোধ তুলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করা হবে। প্রতিবারের মত শুরু হওয়া সামান্য ইস্যু নিয়ে বিবাদ থেকে আজ আবারও পাহাড়ে সেনা শাসনের অবসান , আদিবাসী স্বীকৃতির দাবী উঠছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে নদী ভাঙ্গনে ভুমিহীন পাহাড়ে পূর্নবাসিত বাংগালীদের নিয়ে। মনে প্রশ্ন দেশের সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাছে এতো খারাপ হলে প্রতিবারই তারা মারমুখী প্রতিরোধ করার এতো সাহস দেখায় কিভাবে ? কিন্ত স্বগোত্রীয় সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে কখনো এমন সাহস দেখি না কেন ?
সারা পাহাড় জুড়ে দেশি-বিদেশি পৃষ্ট-পোশকতায় বিভিন্ন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী-বিচ্ছিন্নবাদী গোষ্ঠী । তাদের দমনে সেনাবাহিনীর বিকল্প নাই । সেই সেনাবাহিনী পাহাড়ে থাকতে পারবে না কেন ? সবার সমান অধিকারের বাংলাদেশে সবাই বাংলাদেশী সবার অধিকার দেশের সব জায়গায় থাকবার। পাহাড়ী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা যদি বাংলাদেশব্যাপী সকল নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারে অন্য জেলার মানুষ পাহাড়ে কেন সেই সুবিধা ভোগ করতে পারবে না ? দেশের সেনাবাহিনী, বিজিবি বাহিনী মনের সুখে পাহাড়ে থাকে না। দেশের অখন্ডতা/সীমান্ত, পার্বত্যঞ্চলের মানুষের জান-মাল রক্ষায় মৃত্যুকে হাতে নিয়ে দুর্গম পাহাড়ে তদের দায়িত্ব পালন করেন। সশস্র সন্ত্রাসী নির্মুল হলে অথবা সশস্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলে, পুলিশ বাহিনী যদি শান্তিশৃংখলা রক্ষা করতে পারে সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর তদারকির কোনো প্রয়োজন নাই। তারা ব্যারাকেই ফিরে যাবে। স্মরণ করা প্রয়োজন সেনাবাহিনী, সেনাক্যাম্প, পুর্নবাসিত বাঙ্গালীদের কারণে পাহাড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে, দৃশ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে, পর্যটন শিল্পের বিকাশে হাজার হাজার মানুষের কম'সংস্থান হয়েছে, শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে ওঠায় শিক্ষিতের হার বেড়েছে, চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য হয়েছে, জীবন-মানের উন্নতি হয়েছে।যদিও পুর্নবাসিত বাঙ্গালীরা এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। তাই সোশাল মিডিয়াসহ সবখানে উপজাতিদের প্রচার প্রচারনা বেশী থাকলেও পুর্নবাসিত বাঙ্গালীদের কষ্টের কথা অবহেলার কথা দেখতে পাওয়া যায় না।
ইদানিং আদিবাসী স্বীকৃতি পেতে পুর্নবাসিত বাংলাদেশি বাঙ্গালীদের সেটেলার বলা হচ্ছে। দেশের অখন্ডতা রক্ষায় দেশ-প্রেমিক সেনাবাহিনীকে বির্তকিত করার অপচেষ্টা চলছে। আদিবাসী স্বীকৃতি পেলে উপজাতিদের বেশ কিছু দাবি তোলার সুযোগ আছে । জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকারের ঘোষণায় বিশ্বের ১৪৫টি দেশ পক্ষে থাকলেও অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং মাকি'ন যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের ঘোষণা পত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ভোট দানে বিরত থাকে। সেই ঘোষনাপত্রের শর্ত মানলে যে কোন দেশের অখন্ডতা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে । তিন পার্বত্যঞ্চলে বিভিন্ন দেশ থেকে এসে শত বছর ধরে উপজাতি হিসাবে পাহাড়ে বসবাসরতরা জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকারের ঘোষনাপত্র অনুযায়ী আদিবাসি হবার কোন সুযোগ নাই। তাই পাহাড়ী ভাইদের কাছে প্রশ্ন কার ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হয়ে তাদের কেন মরিচীকার পেছনে ছুটে চলা? কেন চাওয়া পাহাড়কে অশান্ত ও রক্তাক্ত করতে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত? যদি কখনো জুমল্যাণ্ড ,বঙ্গভুমি কুকিচিন হয় মনে রাখতে হবে যাদের হাতিয়ার হয়ে তা করা হবে স্বাধীনতা নয় তাদেরই অধীনে থাকতে হবে। তাই আসুন নিজের মাতৃভুমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি দেশের মানুষ একে অপরকে ভালোবাসি। ধর্ম-বর্ণ,পাহাড়ী-বাঙ্গালীতে বিভেদ না করি, মিলে-মিশে সুখে-দুঃখে পাশা-পাশি একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে চেষ্টা করি। নিজেদের অনৈক্যের সুযোগে দেশের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সবাই একতাবদ্ধ হয়ে দেশের সীমানা থেকে বিতারণ করি।