Friday, June 19, 2026

দাঙ্গা বাধাবার চেষ্টা চলছে

মুতি' কত বড় হবে তা দিয়ে ভক্তের ভক্তি পরিমাপ করা যায় না। বিশ্বের সব'বৃহত  হিন্দু রাস্ট্র ভারতেও এতো বড় মুতি' আছে কিনা জানা নাই।রাম ভারত বষে' কখনো পুজার দেবতা ছিলেন না। কট্টর  উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ধম'নিরপেক্ষ ভারতকে হিন্দুত্ববাদী রাস্ট্র বানাতে রামকে হাতিয়ার বানিয়েছেন। ভারতজুড়ে উগ্র সাম্প্রদায়িক দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর জয় শ্রীরামের নামে গো-মাংস রাখার অজুহাতে নিব্বি'চারে মুসলমানদের উপর নিম'ম নিপীড়ন নিযা'তনে আহত নিহত করা হয়েছে,বসতভিটা থেকে  উচ্ছেদ করা হয়েছে, ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ সহ অজস্র মসজিদ -মাদ্রাসা ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে ভারতকে মুসলমানদের রক্তে রক্তাক্ত করা হয়েছে, নিপীড়িত মুসলমানদের অশ্রুজল আর গংগা-যমুনা, নম'দা,সবরমতী, সরযু নদীর জলকে  একাকার করা হয়েছে।সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্য পশ্চিমবাংলায়  মমতা ব্যানাজি’র তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকায় এতদিন তেমন সাম্প্রদায়িক হানাহানি ছিল না।কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলে  শুভেন্দ্রর বিজপি সরকার জয়শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে একই কায়দায় মুসলমানদের মসজিদ-মাদ্রাসা ভাংচুর করছে,মুসলমান নিধন করছে, মুসলমান উচ্ছেদ করছে। মনে হয় পশ্চিমবাংলার মুসলমান বাসিন্দাদের বিতারণের পণ করে যেন সে ক্ষমতায় বসেছে।প্রতিদিন ভারতীয় বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশে পুশ ইন করতে চেষ্টা চালিয়ে সীমান্তকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।

ধম'-বণ' নিব্বি'শেষে শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য উদাহরন বাংলাদেশ।যার ধম' সে পালন করবে তাতে কারো বাধা দেয়ার অধিকার নাই।সমস্যা রংপুর বিভাগের অতি স্পর্শকাতর গাইবান্ধা জেলার কেশবপুরে সীমান্ত এলাকায়  বিত'কিত ব্যাক্তির কথিত নিজ উদ্দ্যগে দেব-দেবীর অতিকায় রাম মুত্তি' নিমা'ন ।শোনা যাচ্ছে সেখানে অন্যান্য দেব-দেবীর মুতি'র সাথে সু-উচ্চ শ্রীরামের মূত্তি' তৈরি প্রায় শেষ হওয়ার পথে।সেই খবরে পক্ষ-বিপক্ষ বাদ-প্রতিবাদ উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়ায় প্রশাসন কাজ বন্ধ রাখার আদেশ দিয়েছে।শান্তি ও সম্প্রীতির সবার সমান অধিকারের বাংলাদেশে বিভিন্ন ধমে’র বিভিন্ন ভাষা-ভাষীর বসবাস সবাই বাংলাদেশী।দেশে মন্দির হবে সেখানে মুতি’ হবে যার ধম' সে পালন করবে বাধা হবে কেন?

মন্দির, প্রতিমা বানানো নিয়ে কোনো কালে কোনো আপত্তি কি ছিলো বাংলাদেশে? গাইবান্ধার  মাত্র কয়েক হাজার হিন্দু অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকায় কেন এতো বিশাল আয়োজন?যেখানে প্রতিবেশী দেশের বড় বড় নেতারা হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন রংপুরের চিকেন নেক দখলে নেবার।আমাদের দেশের হিন্দু মহাজোটের বড় এক নেতা  যিনি বাংলাদেশকে দখল করতে ভারতকে আহবান করেছিলেন আজ  তিনি সারা বাংলাদেশে একইভাবে মন্দির মূতি' বানানোর হুমকি দিচ্ছে ? আরেক হিন্দু মহাজোটের নেতা যার সাথে পশ্চীমবাংলার বিজেপি নেতা দিলীপঘোষের হাস্যজ্জল ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাসছে তিনি শাহবাগে দাড়িয়ে রংপুর থেকে মুসলমানদের চলে যেতে বলছে। যে কোনো ভাবেই গাইবান্ধায় তারা রাম মন্দির করবে ? কোথায় পাচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলার এতো সাহস এতো শক্তি?

জুলাই বিপ্লবের পর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক শুন্যতায় বাংলাদেশে জয়শ্রীরাম আমদানি হয়েছে।সেদিন জয়শ্রীরাম শ্লোগানের সাথে "রক্তে আগুন লেগেছে, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায় স্লোগান ছিল। আজ আরও সংঘটিত হয়ে  গাইবান্ধা এবং   ঢাকায় তারই আবার শোডাউন হচ্ছে। সুতরাং গাইবান্ধার বিষয়  ধমী'য় নয় রাজনৈতিক, আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র।আমাদের দেশের কিছু মানুষ ভারতের প্রতি অতি বেশি  অনুরক্ত, হতেই পারে ভারতেই আছে  তাদের তীথ'স্থান, কিন্তু বড় সমস্যা, মনে তাদের বড় সাধ ভারতের সাথে একিভুত হবার।তারাই ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হয়ে দেশকে আজ অস্থিতিশীল করতে চাইছে।১৮ কোটী মানুষের বাংলাদেশ শান্তি-সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।পাশাপাশি খালি কলস থাকলেও ধাক্কাধাক্কি লাগে।ব্যাক্তিগত,আথি’ক দেনা-পাওনা,সহায়-সম্পত্তির লোভে রাজনৈতিক দন্দ সহ নানা কারণে মারামারি খুনা-খুনি হলেও কখনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নজির নাই । রামের মূতি'কে যারা অপমান করেছে তাদের অন্যায় আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।ইসলামে অন্য ধমে'র দেব-দেবীকে গালি দেয়া নিষিদ্ধ আমরা তাদের ঘৃণা করি এবং অপরাধীদের দৃস্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করি।

শান্তি-সম্প্রীতির সেই বাংলাদেশকে আজ একটা দাঙ্গা বাধিয়ে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে।এমন সুযোগে দেখলাম বরিশালে ১৪ বছর আগে ক্রয়কৃত জমিতে বিল্ডিং করে বসবাস এতোদিন  কোন দাবি নাই কোট' কাছারিতে মামলা নাই । মালিক দাড়ি টুপি পড়া এক ভদ্রলোক তাকে জংগী ট্যাগ লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন করছেন একদল সনাতনী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায়  আস্তে আস্তে সব পালাতে থাকে। আমাদের দু'ভাগ্য আমরা সুপ্রতিবেশী পাই নাই আর ইচ্ছা করলেও তা পরিবত'ন করা সম্ভব নয়। এদেশে তাদের অনেক দালাল আছে কিন্তু সেদেশে আমাদের কোন দালাল নাই। সে দেশে সংখ্যালঘুরা এতো অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করছে কিন্তু তাদের  মাতৃভুমি ছাড়তে চায় না কারণ তারা দেশ প্রেমিক,তাদের তাড়াতে পুশ ইন করতে হয় আর আমরা দালালরা এক পা অপারে রেখে সারাক্ষণ দাড়িয়ে থাকি অপেক্ষায়।প্রশ্ন  দেশের সাবো'ভৌমত্বের উপর  হুমকী গাইবান্ধার  এমন প্রকল্প এতো দ্রুত  কিভাবে বাস্তবায়ন হলো? সেখানকার  স্থানীয় প্রশাসন,দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা এতো দিন কোথায় ছিলেন? দেশের   বত'মান পরিস্থিতির দায় তারা কি এড়িয়ে যেতে পারবেন?

আবেগের এখন আর সময় নাইদেখি বেটা করে কি ভাবারও সময় নাই।প্রিয়া সাহার মাকি'ন প্রেসিডেন্টের কাছে নালিশের কথা আমরা ভুলে গেছি।তারা কিন্তু তাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে।সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে নতুবা পচতাতে হবে। সরকারের উচিৎ যারা দাঙ্গা বাধিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে তাদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা।আমাদের মনে রাখতে হবে যারা দাঙ্গা বাধিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, তারা সবাই অথ’বিত্তের মালিক সমস্যা দেখলে বাকি এক পা তুলে ওপারে আয়েশি জীবন-যাপন করবে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশের সাধারণ মানুষ। তাই দেশদ্রোহী বাটপার  প্রতারকদের হাত থেকে দেশকে বাচাতে দেশ প্রেমিক  দল-মত , ধম'-বণ' নিব্বি'শেষে সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে সরকারের পাশে দাড়াতে হবে।অন্যথায় আধিপত্যবাদী- সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে বিপন্ন হতে পারে অনেক অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমার দেশের স্বাধীনতা ।

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA 

No comments: