Saturday, September 19, 2026

আন্তরিক সদিচ্ছার বড় প্রয়োজন

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অসুস্থ্য মা কারাগারে থাকা তার ছেলেকে দেখতে চেয়েছিলেন। আইনী জটিলতায় দ্রুত কোন ব্যবস্থা করা হয় নাই। ইত্যবসরে তিনি মারা গেলে উনার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পাদনের জন্য সন্তান চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। এই বিষয়কে ইস্যু করে সোস্যাল মিডিয়ায় অমানবিক সংখ্যালঘু নিযা’তন বলে প্রচার-প্রপাগান্ডা এখন তুঙ্গে। শোনা যায় শুভেন্দু বাবুর নানা বাড়ি নাকি বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় সেই হিসাবে উনি বাংলাদেশের নাতি।তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপির হাইব্রিড নেতা এখন পশ্চীম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি চাইছেন। চিন্ময় দাসের কারাবাসে তিনি বাংলাদেশে তালেবান, আইএস ও মৌলবাদীদের পদধ্ধনী দেখতে পাচ্ছেন।উনি ভুলে যাচ্ছেন আফগান-পাকিস্তানের বিবাদের সু্যোগে এক সময়ের চক্ষুশূল চরম শত্রু আফগান তালেবান এখন ভারতের পরম বন্ধু। ধম’ পালন করার নাম যদি মৌলবাদী হয় তাহলে বাংলাদেশে সবাই মৌলবাদী। কারণ এখানে যার যার ধম’ সে নিবি'ঙ্ঘে পালন করে।শুধু শুভেন্দু বাবু নয় যারা আজ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস আর তার মায়ের একে অপরকে দেখতে না পারায় হাহুতাস কুম্ভাশ্রু বষ’ন করে সংখ্যালঘু নিযা'তনের প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন,তারা কি আলিফের রেখে যাওয়া তিন বছরের মেয়ের কথা ভেবেছেন, তারা কি এক সন্তানের মা আলীফের স্ত্রীর কস্টের  কথা ভেবেছেন, তারা কি ভেবেছেন আলিফের মা-বাবার জীবদ্বশায় তাদের ছেলেকে হারানো হাহাকারের কথা ? অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে নিতে না পারায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা একটু বেশী ছড়ানো হচ্ছে। 

জুলাই বিপ্লবে ধম'-বণ' নিব্বি'শেষে মানুষের জনরোষে সতের বছরের ফ্যাসিস্ট হাসিনাশাহীর পতনে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিলে থানা পুলিশ শুন্য হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের সিভিল প্রশাশন শুন্য  হয়ে যায়। চারিদিকে অরাজক অবস্থায় আমাদের গবি'ত সেনা-বাহিনী যখন জন-নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলস চেষ্টারত তখন রাস্তায় নেমে আসে নতুন নতুন দাবি নিয়ে একেক দল। রাস্ট্র সংস্কারে গঠিত ইনটেরিম সরকার যেন দাবি আদায়ের সরকারে পরিনত হয়ে পড়েছিল।এমনি সংকটাপন্ন অবস্থায় সংখ্যালঘু নিপীড়ন-নিযা'তনের মিথ্যার আশ্রয়ে বিভিন্ন দাবি নিয়ে জয় শ্রীরাম, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায় সহ বাহারী শ্লোগান তুলে দেশে দাঙ্গা বাধাবার পায়তারা করেছিল,আশ্রমে আশ্রিত শিশুদের সাথে অনৈতিক কম'কান্ডে অপরাধী ইসকন থেকে বহিস্কৃত আজকে জেলে আটক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।বাংলাদেশে জুলাই পরবতি'তে প্রশাসন শুন্য অবস্থায় দাংগা বাধিয়ে অস্থিতিশীল করতে গিয়ে একজন আইনজীবীকে হত্যার ব্যবস্থা করেছে। তার দায় অনেক। বাংলাদেশী পথভ্রষ্ট ভারতপ্রেমী ও শুভেন্দু বাবুদের জ্বলবে তাতে অবাক হবার কোনো কারণ নাই।এদেশের হাজার লক্ষ কারাবাসীর অসুস্থ পিতা-মাতা,স্ত্রী-কন্যার দেখার ইচ্ছা পুরন করা বোধ করি সম্ভব হয় না। সবার সমান অধিকারের বাংলাদেশে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে সেটাই স্বাভাবিক।

আমরা দেখছি বিশ্বের বৃহত্তর গনতন্ত্রিক দেশ  ভারত জুড়ে কট্ট্রর  হিন্দুত্ববাদী  বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নিযা'তন বেড়েছে।বিশেষ করে বুলডোজার নীতি অবলম্বন করে জয় শ্রীরামের নামে মুসলিমদের বসতভিটা থেকে  উচ্ছেদ করা হয়েছে, ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ সহ অসংখ্য মসজিদ মাদ্রাসা ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। গো-মাংস রাখার অজুহাতে মুসলমানদের নিম'ম নিপীড়ন নিযা'তনে আহত নিহত করা হচ্ছে, জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে ভারতকে মুসলিমদের রক্তে রক্তাক্ত করা হয়েছে, নিপীড়িত মুসলমানদের অশ্রুজল আর গংগা-যমুনা, নম'দা, সবরমতী, সরযু নদীর জলকে  একাকার করা হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে আজ  শুভেন্দু বাবুর পশ্চিমবাংলায় একই কায়দায় মুসলমানদের নিপীড়ন-নিযা'তন করছেন,নামাজ পড়তে বাধা দিচ্ছেন,মসজিদের মাইক খুলে নেয়া হয়েছে, মুসলমানদের উচ্ছেদ করছেন। নিম'ম নিযা'তনেও ভারত ছেড়ে কোথাও না যাওয়া দেশপ্রেমিক ভারতীয় বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশে পুশ ইন করতে চেষ্টা চালিয়ে সীমান্তকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।

ডঃ ইউনুসের ইনটেরিম সরকার এবং জুলাই বিপ্লবকে  ভারত মেনে নিতে পারে নাই। হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন বলেছিলেন আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত তা সারা জীবন মনে রাখবে, নরেন্দ্রমোদী মনে রেখেছেন। জুলাই আন্দোলন দমন করতে নিব্বি'চারে হাজার হাজার মানুষকে রক্তাক্ত আহত-নিহত করে প্রাণ বাচাতে হাসিনা ভারতে গেলে তিনি হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছেন। হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ রাখে নাই। বরং হাসিনাকে পুন'বাসনের জন্য ইনটেরিম সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিভিন্ন ব্যানারে বিভিন্ন দাবি আদায়ের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়েছে।মিডিয়ায় নিত্য নতুন প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে বিদেশে বিভিন্ন ফোরামে তা প্রচার করা হয়েছে।কিন্তু ধম’–বণ’ নিব্বি’শেষে জাতীয় ঐক্যের কারণে তা সফল হতে পারে নাই। মনে পড়ে ভারতের সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছিলেন,“দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারব  শুধুমাত্র  যখন  একটি  নির্বাচিত  সরকার  থাকবে।আজ বাংলাদেশে সতের বছর পর গনতান্ত্রিক ভাবে ভোটে নিবা'চীত সরকার ক্ষমতায় কিন্তু কোনো সম্পকে'র পরিবত'ন হয় নাই। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ সত্বেও ভারত সকল সুবিধা দিয়ে হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ব্যবস্থা করেছে।আন্ত'জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে (বাংলাদেশে) জুলাই মানবাধিকার বিরোধী হত্যাকান্ডে দন্ডপ্রাপ্ত হাসিনা ও তার দলের পালিয়ে যাওয়া নেতা-কমী' এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ভারত কেহই আজঅবধি হত্যাকান্ডে দুঃখ প্রকাশ করে নাই।    

ভারতীয় নেতা এবং এদেশে তাদের দালালরা প্রায় বলেন ভারত আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগীতা করেছে। কেহ তা অস্বিকার করে না । কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না পাকিস্তানকে বিভক্ত করে ভারত তার পুবা'ঞ্চল শ্ত্রুমুক্ত রাখতেই নিজের স্বা্থে' সহযোগীতা করেছে স্বাধীনতা সংগ্রামে। আমরা কেবল সেই সু্যোগটাই কাজে লাগিয়েছি।কিন্তু দু'ভাগ্য আমরা স্বাধীন দেশ পেলেও গরম তাওয়া থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়েছিলাম। দেশ-প্রেমিক মানুষ এবং সবল নেতৃত্বের অভাব  দেশের মানুষকে স্বাধীনতার পক্ষ–বিপক্ষ  বিভক্ত করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর বায়বীয় জুজুর ভয় দেখিয়ে ভারত তাদের দাসত্বে আটকে রেখেছে। ৭৫ পরবতি'তে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই দাসত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করতে গেলে তাকে হত্যার ব্যবস্থা করা হয়। আজ ভারতে বসে হাসিনার বাংলাদেশ বিরোধী কম'কান্ড বন্ধ এবং তাকে ফেরত পাঠানো সহ নানা বিষয়ে ভারতের নিষ্পৃহতায় তারই সন্তান তারেক জিয়া পরিবেশ পরস্থিতি অনুকূলে না থাকায় দিল্লীতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় ভারতীয় প্রাক্তন কুটনীতিক এবং সুশীল সমাজ শিষ্টাচারের প্রশ্ন তুলছেন ,সম্পক' উন্নয়নের প্রতিবন্ধক মনে করছেন। ভারত বাংলাদেশকে বন্ধু প্রতিম দেশ বলে কিন্ত বাস্তবে তার প্রতিফলন কখনো দেখা যায় নাই।

বাংলাদেশ এক অদ্ভুত এবড়ো-থেবড়ো আকাআকি করা সীমানার মানচিত্রে তিন দিকে বৃহতর প্রতিবেশী হিন্দু রাস্ট্র ভারত বেষ্টিত ভাটি অঞ্চল। দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত সকল নদীর উজানে ভারতীয় অংশে বাধ দিয়ে পানি অপসারন করে তাদের খরা অঞ্চলে সরবরাহ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মানুষকে খরায় শুকিয়ে আর ভরা বষা'য় ডুবিয়ে মারছে।আমাদের দু'ভাগ্য এদেশে অসংখ্য বাংলাদেশী ভারতপ্রেমী দালাল আছে কিন্ত ওপারে বাংলাদেশপ্রেমী কোন দালাল দুরের কথা সহানুভুতি জানাবার মানুষ নাই। বাংলাদেশী কিছু দিকভ্রান্ত ভারতপ্রেমীরা ব্যক্তিগত হানাহানি, সম্পদের লোভ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষমতার দ্বন্দ নিয়ে মারামারি খুনাখুনিকে সাম্প্রদায়ীকতা ও সংখ্যালঘু নিযা'তন বলে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।ক্ষমতাসীনদের ছায়াতলে পরাক্রমশালী বীর হয়ে নিপীড়ন নিযা'তন করে সুবিধা আদায় করে ক্ষমতার পালা-বদলে সংখ্যালঘু বলা যায় কি? রাম মন্দির ইস্যু আন্দোলনে হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ দাবী করছে।কেউ আবার অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখছে।ভারতীয় নেতারা চিকেন নেক দখল করতে চাইছে। বাংলাদেশের সীমান্ত জেলা গুলি দিয়ে বঙ্গভুমি নামে হিন্দু  রাষ্ট্র গঠন করার পুরাতন প্ল্যান বাস্তবায়নের হুংকার দিচ্ছে।সেই সুরে সুর মিলিয়ে সদ্য আগত ভারতীয় হাইকমিশনার ত্রিবেদী দেশের বিভিন্ন সেক্টরে অবাধ বিচরণ করছেন জনসংযোগে দুই দেশের ১৬০ কোটি মানুষের একক বিশাল শক্তির কথা বলছেন। 

বিজেপির নেতাদের হুংকারে মনে হয় মধ্যপ্রাচ্যের দানব ইজরাইলের আদলে দক্ষিণ পুব’ এশিয়ায় অবিভক্ত হিন্দু রাষ্ট্র  গঠন করতে ভারত এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃটিশ ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে ১৯৪৭ সালের অবিভক্ত ভারতকে হিন্দু মুসলিম দুই রাস্ট্রে ভাগ করে সীমানা মানচিত্র তৈরি করার জন্য স্যার সিরিল রেডক্লিফকে(Cyril Radcliffe) মাত্র পাচ সপ্তাহের সময় দেয়া হয়।সেই রেডক্লিফের খামখেয়ালী হওক অথবা তাদের ফেলে যাওয়া সাম্রাজ্যে কেউ যেন শান্তিতে থাকতে না পারে তার চিরস্থায়ী বন্দোবস্থ করতেই হওক যে সীমানা মানচিত্র তৈরি করে গেছে তাতে পশ্চীমে ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের মারমুখী উত্তেজনা কখনো শেষ হবে আসা নাই।বত'মান বিশ্বব্যাবস্থায় পূব'দিকে  বাংলদেশ এখন বৃহদ শক্তিধরদের শক্তিমত্তা প্রদশ'নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।চারিদিকে অশান্তির কালো মেঘ।দক্ষিন পুব' এশিয়ার শান্তির জন্য বৃহতর রাষ্ট্র হিসাবে এ মহুত্তে' ভারত সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছার বড় প্রয়োজন। ভারত কি পারবে আধিপত্যবাদী মনোভাব পরিহার করে বাংলাদেশ সহ তার প্রতিবেশী দেশ গুলির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বন্ধুত্ত ও সহযোগীতার হাত প্রসারিত করতে? 

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA

প্রকাশ ঃ দৈনিক গণ্মুক্তি     তারিখ :  ২০/০৯/২০২৬ ইং 

No comments: