Sunday, October 4, 2026

সবই কি পরিকল্পিত ?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষধের  ৮১তম অধিবেশনে যোগদান করতে সফরসঙ্গীর ছোট্ট একটা দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন । বাংলাদেশের পররাস্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্ত্বে ২৪ শে সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষধের অধিবেশনে তিনি ভাষণ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষধে ভাষণের মাধ্যমে একই পরিবারের তিনজনের ভাষণ দানের এক ইতিহাস সৃস্টি করেছেন । পূর্বে  বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাতা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষধে ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি সেখানে সাধারণ পরিষধের অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি দেশের স্বার্থে  জাতিসংঘের মহা-সচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, বিলগেটস ফাউন্ডেশনের  শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। ইরান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করেছেন, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট , ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের সাথে পৃথকভাবে  বৈঠক করেছেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর সকল  বৈঠকে সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশে বিনিয়োগ ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসার নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি সফর শেষে গত ২৭শে সেপ্টেম্বর  সকালে দেশে ফিরেছেন।   

দেশের রাস্ট্র প্রধান দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য সাধারণ পরিষধের অধিবেশনের পাশাপাশি সম্মেলনে আগত বিভিন্ন দেশের রাস্ট্রনায়ক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করেছেন । রাজনৈতিক উত্তারাধিকার সুত্রে পাওয়া  জ্বালানী তেল গ্যাস বিদ্যুৎ ঘাটতি , জুলাই বিপ্লবে ভেঙ্গে পড়া প্রশাসনে স্থবিরতা, পতিত ফ্যাসিস্টের ষড়যন্ত্র সহ বিরাজমান নানা সমস্যা নিয়ে সরকার এখন বড় বেশি বিব্রত।এমন অবস্থায় সংসদের বিরোধী দলের রাস্ট্র সংস্কারে অসহযোগীতা, আট-মাসের  সরকারকে বিব্রত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করে দেশের মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলতে প্রাণপণ চেস্টা চালিয়ে যাছে।জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামীলীগ ও জাতীয়পার্টি  শুন্য রাজনীতির ময়দান দখল করার মানষে বিএনপিকে চাদাবাজ ট্যাগ দিয়ে জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা ছিল । জাতীয় নির্বাচনে কাংক্ষিত সফলতা পায় নাই তাতে দমে যায় নাই। বর্তমানে প্রচার প্রপাগান্ডা দেখে সাধারণের অনুমান আগামী সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সেই পরিকল্পনাকে আরও বেশি বেগবান করা হচ্ছে।

গত ২৬শে সেপ্টেম্বর শুক্রুবার রাতে ঢাকার ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হামলা ভাংচুর লুটপাট করা হয়।তাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।সালমান মোক্তাদির তার প্রতিষ্ঠান ভাংচুর লুটপাটের জন্য লাইভে এসে বিএনপির চাদাবাজদের দায়ী করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক এমন ঘটনা স্বাভাবিক বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে। চালনি সুইকে বলে তোর পাছায় এতো ছিদা কেন গ্রাম দেশে প্রচলিত কথার মতো সংসদের বিরোধী জোট রাস্তায় নেমে মিছিল করে বিএনপি চাদাবাজ বলে শ্লোগান তোলে । পরে শোনা যায় নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া ও মাস্তুল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মাঝে জমি সংক্রান্ত  বিরোধে জমি দখলের উদ্দেশ্যে এই হামলা করা হয়।সালমান মোক্তাদির পরে তার বক্তব্য পরিবর্তন করেছে কিন্তু প্রশ্ন বিএনপির বিরুদ্ধে এই প্রপাগান্ডা কেন ? ঘটনার আগপিছ কোন প্রকার খোজ খবর না করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সংসদের বিরোধীদলীয় জোটের প্রপাগান্ডা কেন ? দেশের যে কোন নাগরিকের ব্যাংক হিসাবের তদন্ত সরকার করতে পারে সালমান মোক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব জব্দ করায় বিরোধী জোটের সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগারের শেষ নাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পারলে এখনি হেলিকপ্টারে বিদেশে পাঠিয়ে তারা ক্ষমতায় বসে যেতে চাইছে। তারা ভাবছে না সরকার পতনের আন্দোলন করতে তাদের ডাকে দলকানা কর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষ কি রাস্তায় নামবে ? লীগের মাঝে গুপ্ত থেকে লীগের যে ক্ষতি করেছে তার কাফফারা দেয়া ছাড়া ক্ষমতার চেয়ারে বসা খুব কি সহজ হবে ?

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের অব্যবস্থাপনা  চুরি অনিয়ম যাত্রীদের লাগেজ বিড়ম্বনা নতুন নয় । দেশের সকলস্তরে  বিরাজমান অব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাচারিতা  বিমান বন্দর তার থেকে আলাদা নয় । হটাৎ পরিবর্তন করে ফেলবে সে আলাউদ্দিনের চেরাগ কারো হাতে নাই। আট মাসের বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে ভালো করবার। বিভিন্ন সময়ে অব্যবস্থাপনা চুরি অনিয়মের কারণে বাদানুবাদ এবং সমাধান হতেও দেখেছি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো বিমানের লোকবল আমাদের এদেশেরই মানুষ আমাদেরও ভালো হতে হবে। এবার ওমরাহ পালন করে ফেরত আসা জামায়াতের সংসদ সদস্যদের জমজমের পানি ও লাগেজ আসার বিলম্বকে কেন্দ্র করে নব্য জামায়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের সুশৃংখল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আক্তারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের সাথে যে আচরণ করেছেন তা মেনে নেয়া যায় না। আরও শোনা যায় বিমান বন্দর থেকে লাইভে এসে যে মহিলা বিমান বন্দরের অনিয়মের কারণে বাংলাদেশকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তিনিও ওমরাহ্‌ করে ফেরত আসা জামায়াত পরিবারের কণ্যা। এখন রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সহানুভুতি পেতে প্রচারণা চলছে বিদেশ ফেরত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পক্ষে মেজর আক্তারুজ্জামানের এই প্রতিবাদ। প্রতিবাদের ভাষা কি গায়ে হাত তোলা গলা ধাক্কা দিয়ে সরকারী কর্মকর্তাদের বের করে দেয়ার হুমকি ? সরকারী কাজে বাধা মারধর করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করায় সংসদের বিরোধীজোট সরকারকে ফ্যাসিষ্ট বলছে । এখন প্রশ্ন  সবই কি পরিকল্পিত ? 

বিএনপির নেতা-কর্মীরা ধোয়া তুলসী পাতা না । সুদীর্ঘ সতের বছর ফ্যাসিষ্টের বিরুদ্ধে ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জেল-জুলুম, গুম-খুন, ঘড় ছাড়া- পরিবার-পরিজন ছাড়া, হামলায় দিশেহারা, ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ, মামলা চালাতে গিয়ে দেওলিয়া। মানবেতর জীবন কাটানো বিএনপির সেই সকল নেতা-কর্মীরা সতের বছরের অবস্থা দেখেছে আবার যখন দেখছে জুলাই বিপ্লবের পর ৭১ এর চেতনা বিক্রির মত  জুলাই চেতনা বিক্রি করে ইনটেরিম সরকারের ১৮ মাসেই কিছু মানুষ আংগুল ফুলে কলা গাছ না একেবারে বটগাছ হয়ে গেছে তখন  তাদের কেউ কেউ বিভ্রান্ত হয়ে দখলবাজী-চাদাবাজীতে লিপ্ত হয়েছে । কিন্তু বর্তমান নেতৃত্ব একটু ভিন্ন, দেশের অতিপ্রচলিত নিয়ম ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দখলবাজী-চাদাবাজী আর দলীয় পরিচয় অপরাধীর রক্ষাকবচ হওয়া আজ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তার প্রমাণ রাড্ডা মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভুমি দখলের ব্যর্থ চেষ্টা ।

ঘটনার পরপরই প্রশাসনের কর্মকর্তা ,স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সরকার দলীয় এমপি,সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, উপস্থিত থেকে ধ্বংসস্তুপ পরিস্কার সহ চিকিৎসা সেবা চলমান রাখার ব্যবস্থা করেছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ডঃ নাসরিণ আক্তার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভাংচুরে বাদী হয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাত পরিচয় ২৫০ জনের বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায়  মামলা দায়ের করেছেন। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য  ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদত্যাগের নির্দ্দেশ দেয়ায় ১লা অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ায় তার সদস্যপদ বাতিল করে সংসদীয় আসন শুন্য ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। শুধু তাই নয় এলাকার বিএনপির সকল অংগ সংগঠনের কমিটি বাতিল এবং বেশ কিছু নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যহার করা হয়েছে। যে কোন অপরাধে অপরাধী নিজ দলের নেতা-কর্মী হলেও যে ছাড় পাবে না সরকারের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে চেষ্টা দৃশ্যমান যা প্রশংসার দাবীদার। 

আজ যারা আট মাস ক্ষমতার চেয়ারে বসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফ্যাসিষ্ট বলছেন ,তাকে লন্ডনে ফেরত পাঠাতে চাচ্ছেন তারা কি শুনেছেন কুষ্টিয়ার একটা মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক ভরা ক্লাসে জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করায় প্রশাসন তাকে গ্রেফতার করলে সেই সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছালে কালবিলম্ব না করে শিক্ষককে  সসন্মানে বাসায় পৌছে দেবার নির্দ্দেশ দেন।রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের চেষ্টায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিজ দলের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিকে পদত্যাগে বাধ্য করা কি ফ্যাসিষ্ট আচরণ ? এখন মনে হচ্ছে গনতান্ত্রিকভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচীত সরকার স্বৈরাচার হয়ে ক্ষমতায় বসে না। ক্ষমতায় যেতে ব্যর্থতায় ব্যথিত হতাশ অধৈর্য্য রাজনৈতিক নেতারাই তাদের সরকার বিরোধী তথা জনরায় বিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার এবং তার প্রশাসনকে স্বৈরাচারী আচরণ করতে উদ্ভুদ্ধ করে। তা না হলে দীর্ঘ দেড় দশক পর নির্বাচীত সরকার ক্ষমতায় বসতে না বসতে ফেলে দেবার বাসনা কেন? তাই সংসদের বিরোধী দল সহ সকল রাজনৈতিক নেতাদের উচিৎ তাদের কর্মকাণ্ড আচার-আচরণে গনতান্ত্রিক জনবান্ধব সরকার এবং তার প্রশাসন কোনো ভাবেই স্বৈরাচারী আচরণ করতে উদ্ভুদ্ধ না হয় সেদিকে খেয়াল করা। শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতিতে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা হুমকীতে পড়বে বছর না ঘুরতেই সরকার পতনের ডাক আসবে। দেশের অগ্রগতি থমকে যাবে। রাজনৈতিক নেতাদের মনে রাখতে হবে বারবার প্রতারিত হওয়ায় দলকানা ছাড়া দেশের মানুষেরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। ক্ষমতার যাবার  জন্য বারবার হাক দিবেন আর সবাই রাস্তায় ঝাপিয়ে পড়বে এখন  সেই আশা আর নাই । https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA