Monday, October 12, 2026

ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে লাভবান হচ্ছে কে ?

আমেরিকা তার মিত্র ইসরাইলকে দিয়ে আগ্রাসন চালিয়ে আরব ভুমিতে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে রেখেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হলোকাষ্ট থেকে বেচে ইউরোপে আসা ইহুদীদের প্যালেষ্টাইনে আশ্রয় দেয়ার দিন থেকে । রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদল হলেও ইসরাইলের প্রতি আমেরিকার নীতির কোনো পরির্বতন কখনো হয় নাই। তাই ইসরাইলের আগ্রাসন বিরামহীন চলমান যুগ যুগ ধরে । তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেখানে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ব্যবসায়ী ট্রাম্পের কাছে গাজার সমুদ্রতীর বড় বেশী প্রয়োজন। তাই অক্টোবর, ২০২৩ সালে  সুদীর্ঘ ৭৫ বছরের অধিক রক্তপিপাসু দানব ইসরাইলীদের হত্যা-নির্যাতন, ভুমিদখল, আগ্রাসনের প্রতিশোধ নিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ইজরাইলের অভ্যন্তরে আক্রমণ করে। সেই হামলাকে ইস্যু বানিয়ে আমেরিকার পূর্ণ সহযোগীতায় ইজরাইল তার সর্ব্বশক্তি দিয়ে গাজায় গনহত্যা শুরু করে, যা আজও চলমান। এই যুদ্ধে আনুমানিক প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনী নিহত, প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার আহত, প্রায় ২০ লক্ষ ফিলিস্তিনী বাস্ত্যচুত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় , চিকিৎসাকেন্দ্র, পানি-শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র  সহ নাগরিকের নিত্য অতি আবশ্যক প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস প্রায়।

ফিলিস্তিনের হামাস, ইয়ামেনের হুতি ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে সহযোগীতা ও পরমানু গবেষনা চলমান রাখার অজুহাতে চলতি বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে " অপারেশন এপিক ফিঊরি " নামে ইরানে সরাসরি সামারিক আগ্রাসন শুরু করে। আক্রমণের প্রথম দিনেই ইরানের সর্ব্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমিনী সহ উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী এবং একই স্কুলের কয়েকশত শিশু সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ আহত নিহত হয়। পাল্টা আক্রমনে ইরান প্রতিবেশী আরব রাস্ট্রে অবস্থিত আমেরিকার বিভিন্ন সামারিক ঘাটি ও ইজরাইলে আক্রমণে করে ব্যপক ক্ষতি সাধন করে। এভাবে থেমে থেমে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে আমেরিকার গোলাবারুদের ঘাটতি পুরনের জন্য ক্ষণিক বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয় । এভাবে  ইরানের উপর চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ এখনো চলমান।  

"ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল" এর তথ্যমতে, আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটা যুদ্ধবিরতির আশায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া এবং পারমাণবিক বিষয়  আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে গত কিছুদিন আগে ইরান সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় । আশা ইরানের বন্দর গুলোর উপর যুক্তরাস্ট্রের আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে যা দেশটির অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতি করছে। ট্রাম্প সেই প্রস্তাব নাকচ করে আগামী নভেম্বরে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরে ও ইরানে বোমা হামলা করার আশা করছেন এবং ইরানের উপর চলমান সামুদ্রিক অবরোধ তোলার কোন প্রকার আশা করছেন না জানিয়েছেন। ইরানের সাথে চুক্তি নিয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করতে চান না কারণ পরিস্থিতি এখন সম্পুর্ন আমেরিকার অনুকূলে। অবশ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কোনো চুক্তি না হলে তিনি ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাকে একটি 'বড় সিদ্ধান্ত' নিতে হবে। শোনা যাচ্ছে ইরানে আক্রমণের জন্য ইতিমধ্যে ন্যাটোকে প্রস্তুতি নেবার নিদ্দে’শ দেয়া হয়েছে । এদিকে ইরানও তার সর্ব্বশক্তি  নিয়ে প্রস্তুত  বলে জানিয়েছে।

এই মুহুর্ত্তে প্রয়োজন ছিল আরব দেশগুলির ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইরানের উপর আমেরিকা-ইজরাইলের আগ্রাসন বন্ধ করে হরমুজ প্রনালী চালু করার ব্যবস্থা নেয়া। কারণ ইরান আমেরিকার পাল্টা-পাল্টি আক্রমণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ সকল পন্য পরিবহন বন্ধ । ফলে সারা বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া নিজেদের দেশের ভেতরে থাকা আমেরিকান ঘাটি ব্যাবহার করে ইরানে আক্রমণ করায় ইরানের পাল্টা আক্রমণে প্রতিবেশি নিজেদের দেশ গুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে জ্বালানি রফতানী বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে হচ্ছে । ইয়ামেনের বিদ্রোহী হুতিরা লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিলে ওই দিনই সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট পূর্ণমাত্রায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করায় ইয়ামেনের বিদ্রোহী হুতিরা সরাসরি সৌদি স্থাপনায় পাল্টা আক্রমণ জোরদার করার মাধ্যমে আরব দেশগুলি ঐক্যবদ্ধ হবার সম্ভাবনা নাই বলা যায়। আরব রাষ্ট্র গুলি যখন নিরপেক্ষ থেকে গাজায় গনহত্যায় ইজরাইলীদের ওয়াক ওভার পাওয়ার সু্যোগ দিয়েছে তখন হুতিরা গাযায় গনহত্যার প্রতিশোধে ইজরাইলে ক্ষেপণাস্র ছুড়েছে। লোহিত সাগরে ইজরাইলগামী জাহাজে আক্রমণ করেছে।ও আই সি আরবলীগ গাজা গনহত্যায় কিছু করতে পারে নাই, ইরানে আমেরিকার আগ্রাসনে করার কিছু নাই, সিরিয়ায় ও লেবাননে ইজরাইলের আক্রমণেও করার কিছুই নাই নিজেদের সংঘঠনের সদস্যদের ভেতর আত্মঘাতী-ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত নিরসনের ক্ষমতাহীন শুধু লিপ সার্ভিস দেয়া প্রতিষ্টানের প্রয়োজন কি ?

ইয়ামেনের বিদ্রোহী হুতিরা  ২০১৪ সালে ইয়ামেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয়। ফলে জাতিসংঘ  স্বীকৃত ইয়ামেন সরকার  এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মাঝে দীর্ঘস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। শিয়া মতাবলম্বী হুথি বিদ্রোহীরা শিয়া-প্রধান দেশ ইরানের কাছ থেকে অর্থ ও অস্ত্রের সহায়তা পেয়ে শক্তিশালী হয়ে দশক ধরে ইয়ামেনের সুন্নি গোষ্ঠীগুলোর সাথে তীব্র সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে।'দ্য গার্ডিয়ান' ও অন্যান্য সূত্রের তথ্যমতে, জোট বাহিনী লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর উত্তরাঞ্চলীয় কৌশলগত পয়েন্টগুলো—যেমন দুবা, বাব ও হোদাইদাহ—পুনরুদ্ধার করেছে। শোনা যায় শত শত সৌদি বিমান হামলায় হোদাইদাহতে হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান ও অস্ত্র গুদামগুলো ধ্বংস করেছে। হুথিদের তৃতীয় বারের পাল্টা হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছে । নিহত ১২ জনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক আছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ এ আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছে এবং মক্কা-মদিনায় মুসলিম উম্মাহর অত্যন্ত পবিত্র আবেগের স্থান এখানে কোন আক্রমণ মুসলিম উম্মাহ মেনে নেবে না জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সেখানে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতকে আরও তীব্রতার দিকে ঠেলে দেয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। শোনা যায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—তিনটি সুন্নি ইসলামি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি রাজধানী রিয়াদে মক্কা জোটের জরুরি ভাবে আক্রমণ প্রতিহত করার কৌশল, রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক আলোচনার জন্য  বৈঠক  করেন। বৈঠকের পর তাঁরা অতিদ্রুত যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, এবং দ্রুত সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার ঘোষণা দিয়েছেন। স্মরণ করা প্রয়োজন গত ৭ই আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় তিনটি দেশ ন্যাটোর আদলে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল  চুক্তিবদ্ধ  তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। তাঁরা সৌদি আরবের ওপর হামলা এবং ইসলামের পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।পর্যবেক্ষকদের মতে—" ন্যাটো (NATO)-র আদলে গঠিত ইসলামি জোট " এখন যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে এবং তাদের সক্ষমতা পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে।

আমরা দেখেছি ইজরাইলের গাজায় গনহত্যায় কোনো জোটের কোনো ভুমিকা নাই। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর ইজরাইল সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে সমস্ত সামরিক স্থাপনা,অস্ত্রাগার বিমান বন্দর ধবংস করে গোলানের বেশ কিছু জায়গা দখলে নিয়েছে সেখানে কারো কোনো ভুমিকা নাই। ইজরাইল লেবাননে নারকীয় ধবংসজজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তাকে রুখবার কেউ নাই। ইয়ামেনের বিদ্রোহী হুতি আর সরকারী বাহিনীর মাঝে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ করার চেষ্টা না করে যুদ্ধরত একটা পক্ষকে সহযোগীতা করে সংঘাতকে বেগবান করা কেন ? ইয়ামেনের হুতিরা পাকিস্তানকে তাদের উপর বিমান হামলার প্রশ্ন তুলেছে।যদি সত্যি হয় তাতে ইরান পাকিস্তানের সম্পর্কে টান পড়তে পারে। স্মরণ করা প্রয়োজন ইরান, ইরানের সমর্থণপুষ্ট ইয়ামেনের বিদ্রোহী হুতি, ফিলিস্তিনী হামাস ও হিজবুল্লাহ সবাই  ইউরোপ-আমেরিকান ও ইজরাইলের শত্রু। তাদের  স্বপ্ন আছে বৃহত্তর ইজরাইলী রাস্ট্র  গড়ার ।

শোনা যায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময়  প্রায় ৭৭টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধি দল প্রতিবাদ জানিয়ে  অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ  করলেও ৭টি মুসলিম প্রধান দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত , বাহরাইন, মরক্কো, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, আলবেনিয়া, সেনেগাল অধিবেশন ত্যাগ করে নাই।কিছুদিন আগে ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানাহু অতি গোপনে আরব-আমিরাত ঘুরে গেছে। ট্রাম্প চুক্তি না হলে ইরানকে ধবংস করার হুমকির মাঝে সময় এখন আল্লাহকে মানে, কুরআন মানে নবী রাসুল মানে কিন্তু ভিন্নমতের মজলুম ভাইয়ের পাশে দাড়াবার। প্রয়োজন নিরপেক্ষ ভাবে আলোচনার টেবিলে ইয়ামেনের ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ বন্ধের ব্যবস্থা করা। কারণ কে মুসলিম আর কে মুসলিম না আল্লাহ ছাড়া আজকের ভোগবাদী নামে দাড়ী-টুপি লেবাসে কোন মুসলমানের সিদ্ধান্ত নেবার যোগ্যতা আছে মনে হয় না। সবাইকে এখন ভাবতে হবে  মুসলিম রাষ্ট্র গুলি বিভক্ত হয়ে একে অপরের সাথে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে লাভবান হচ্ছে কে ? 

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA 

প্রকাশ :- দৈনিক গণমুক্তি   তা :- ১৫/১০/২০২৬


Sunday, October 4, 2026

সবই কি পরিকল্পিত ?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষধের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান করতে সফরসঙ্গীর ছোট্ট একটা দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন । বাংলাদেশের পররাস্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্ত্বে ২৪ শে সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষধের অধিবেশনে তিনি ভাষণ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষধে ভাষণের মাধ্যমে একই পরিবারের তিনজনের ভাষণ দানের এক ইতিহাস সৃস্টি করেছেন । পূর্বে  বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাতা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষধে ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি সেখানে সাধারণ পরিষধের অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি দেশের স্বার্থে  জাতিসংঘের মহা-সচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, বিলগেটস ফাউন্ডেশনের  শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। ইরান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করেছেন, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট , ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের সাথে পৃথকভাবে  বৈঠক করেছেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর সকল  বৈঠকে সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশে বিনিয়োগ ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসার নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি সফর শেষে গত ২৭শে সেপ্টেম্বর  সকালে দেশে ফিরেছেন।   

দেশের রাস্ট্র প্রধান দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য সাধারণ পরিষধের অধিবেশনে অংশগ্রহনের পাশাপাশি সম্মেলনে আগত বিভিন্ন দেশের রাস্ট্রনায়ক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করেছেন । রাজনৈতিক উত্তারাধিকার সুত্রে পাওয়া  জ্বালানী তেল গ্যাস বিদ্যুৎ ঘাটতি , জুলাই বিপ্লবে ভেঙ্গে পড়া প্রশাসনে স্থবিরতা, পতিত ফ্যাসিস্টের ষড়যন্ত্র সহ বিরাজমান নানা সমস্যা নিয়ে সরকার এখন বড় বেশি বিব্রত।এমন অবস্থায় সংসদের বিরোধী দলের রাস্ট্র সংস্কারে অসহযোগীতা, আট-মাসের  সরকারকে বিব্রত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করে দেশের মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলতে প্রাণপণ চেস্টা চালিয়ে যাছে। সাধারণের অনুমান আগামী সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাস্ট্র মন্ত্রী এবং বিএনপিকে মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য করার প্রচার প্রপাগান্ডার পরিকল্পনা অতি চতুরতার সাথে নিজের দলীয় নেতা-কর্মী নয় দলে যোগ দেয়া হাইব্রিড নেতা-কর্মী ফুটপাতের অবৈধ হকার অবৈধ ব্যাটারী চালকদের দিয়ে  আরও বেশি বেগবান করার চেষ্টা চলছে ।

গত ২৬শে সেপ্টেম্বর শুক্রুবার রাতে ঢাকার ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হামলা ভাংচুর লুটপাট করা হয়।তাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।সালমান মোক্তাদির তার প্রতিষ্ঠান ভাংচুর লুটপাটের জন্য লাইভে এসে বিএনপির চাদাবাজদের দায়ী করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক এমন ঘটনা স্বাভাবিক বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে। চালনি সুইকে বলে তোর পাছায় এতো ছিদা কেন গ্রাম দেশে প্রচলিত কথার মতো সংসদের বিরোধী জোট রাস্তায় নেমে মিছিল করে বিএনপি চাদাবাজ বলে শ্লোগান তোলে । পরে শোনা যায় নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া ও মাস্তুল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মাঝে জমি সংক্রান্ত  বিরোধে জমি দখলের উদ্দেশ্যে এই হামলা করা হয়।সালমান মোক্তাদির পরে তার বক্তব্য পরিবর্তন করেছে কিন্তু প্রশ্ন বিএনপির বিরুদ্ধে এই প্রপাগান্ডা কেন ? ঘটনার আগপিছ কোন প্রকার খোজ খবর না করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সংসদের বিরোধীদলীয় জোটের প্রপাগান্ডা কেন ? দেশের যে কোন নাগরিকের ব্যাংক হিসাবের তদন্ত সরকার করতে পারে সালমান মোক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব জব্দ করায় বিরোধী জোটের সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগারের শেষ নাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পারলে এখনি হেলিকপ্টারে বিদেশে পাঠিয়ে তারা ক্ষমতায় বসতে চায় । তারা ভাবছে না সরকার পতনের আন্দোলন করতে তাদের ডাকে দলকানা কর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষ কি রাস্তায় নামবে ? লীগের মাঝে গুপ্ত থেকে লীগের যে ক্ষতি করেছে তার কাফফারা দেয়ার কথা মনে রাখতে হবে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের অব্যবস্থাপনা  চুরি অনিয়ম যাত্রীদের লাগেজ বিড়ম্বনা নতুন নয় । দেশের সকলস্তরে বিরাজমান অব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাচারিতা  বিমান বন্দর তার থেকে আলাদা নয় । হটাৎ পরিবর্তন করে ফেলবে সেই আলাউদ্দিনের চেরাগ কারো হাতে নাই। আট মাসের বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে ভালো করবার। বিভিন্ন সময়ে অব্যবস্থাপনা চুরি অনিয়মের কারণে বাদানুবাদ এবং সমাধান হতেও দেখেছি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো বিমানের লোকবল আমাদের এদেশেরই মানুষ আমাদেরও ভালো হতে হবে। এবার ওমরাহ পালন করে ফেরত আসা জামায়াতের সংসদ সদস্যদের জমজমের পানি ও লাগেজ আসার বিলম্বকে কেন্দ্র করে নব্য জামায়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের সুশৃংখল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আক্তারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের সাথে যে আচরণ করেছেন তা মেনে নেয়া যায় না। প্রতিবাদের ভাষা কি গায়ে হাত তোলা গলা ধাক্কা দিয়ে সরকারী কর্মকর্তাদের বের করে দেয়ার হুমকি ? সরকারী কাজে বাধা মারধর করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করায় সংসদের বিরোধীজোট সরকারকে ফ্যাসিষ্ট বলছে । শোনা যায় বিমান বন্দর থেকে লাইভে এসে যে মহিলা বিমান বন্দরের লাগেজ বিলম্বের কারণে বাংলাদেশকে নিয়ে কটাক্ষ করে  বাংলাদেশে জন্ম নেয়াকে পাপ বলেছেন  তিনিও ওমরাহ্‌ করে ফেরত আসা জামায়াত পরিবারের সদস্যা । এখন রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সহানুভুতি পেতে প্রচারণা চলছে মেজর আক্তারুজ্জামানের মুক্তির জন্য রেমিট্যান্স শাটডাউনের ডাক দেয়ার কথা ভাবছে। এখন প্রশ্ন  সবই কি পরিকল্পিত ? 

বিএনপির নেতা-কর্মীরা ধোয়া তুলসী পাতা না । সুদীর্ঘ সতের বছর ফ্যাসিষ্টের বিরুদ্ধে ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জেল-জুলুম, গুম-খুন, ঘড় ছাড়া- পরিবার-পরিজন ছাড়া, হামলায় দিশেহারা, ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ, মামলা চালাতে গিয়ে দেওলিয়া। মানবেতর জীবন কাটানো বিএনপির সেই সকল নেতা-কর্মীরা সতের বছরের অবস্থা দেখেছে। দেখছে জুলাই বিপ্লবের পর ৭১ এর চেতনা বিক্রির মত  জুলাই চেতনা বিক্রি করে ইনটেরিম সরকারের ১৮ মাসেই কিছু মানুষ আংগুল ফুলে কলা গাছ না একেবারে বটগাছ হয়ে গেছে তখন  তাদের কেউ কেউ বিভ্রান্ত হয়ে দখলবাজী-চাদাবাজীতে লিপ্ত হয়েছে । কিন্তু বর্তমান নেতৃত্ব একটু ভিন্ন, দেশের অতিপ্রচলিত নিয়ম ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দখলবাজী-চাদাবাজী আর দলীয় পরিচয় অপরাধীর রক্ষাকবচ হওয়ার নিয়ম আজ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তার প্রমাণ রাড্ডা মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভুমি দখলের ব্যর্থ চেষ্টা ।

ঘটনার পরপরই প্রশাসনের কর্মকর্তা ,স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সরকার দলীয় এমপি,সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, উপস্থিত থেকে ধ্বংসস্তুপ পরিস্কার সহ চিকিৎসা সেবা চলমান রাখার ব্যবস্থা করেছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ডঃ নাসরিণ আক্তার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভাংচুরে বাদী হয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাত পরিচয় ২৫০ জনের বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায়  মামলা দায়ের করেছেন। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য  ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদত্যাগের নির্দ্দেশ দেয়ায় ১লা অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ায় তার সদস্যপদ বাতিল করে সংসদীয় আসন শুন্য ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। শুধু তাই নয় এলাকার বিএনপির সকল অংগ সংগঠনের কমিটি বাতিল এবং বেশ কিছু নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যহার করা হয়েছে। যে কোন অপরাধে অপরাধী নিজ দলের নেতা-কর্মী হলেও যে ছাড় পাবে না সরকারের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে চেষ্টা দৃশ্যমান যা প্রশংসার দাবীদার। 

আজ যারা আট মাস ক্ষমতার চেয়ারে বসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফ্যাসিষ্ট বলছেন ,তাকে লন্ডনে ফেরত পাঠাতে চাচ্ছেন তারা কি শুনেছেন কুষ্টিয়ার একটা মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক, ভরা ক্লাসে জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করায় প্রশাসন তাকে গ্রেফতার করলে সেই সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছালে কালবিলম্ব না করে তিনি শিক্ষককে সসন্মানে বাসায় পৌছে দেবার নির্দ্দেশ দেন। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের চেষ্টায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিজ দলের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিকে পদত্যাগে বাধ্য করা কি ফ্যাসিষ্ট আচরণ ? গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের ভোটে নির্বাচীত সরকার স্বৈরাচার হয়ে ক্ষমতায় বসে না। ক্ষমতায় যেতে ব্যর্থতায় ব্যথিত হতাশ অধৈর্য্য রাজনৈতিক নেতারাই তাদের সরকার বিরোধী তথা জনরায় বিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার এবং তার প্রশাসনকে স্বৈরাচারী আচরণ করতে উদ্ভুদ্ধ করে। তা না হলে দীর্ঘ দেড় দশক পর নির্বাচীত সরকার ক্ষমতায় বসতে না বসতে ফেলে দেবার উদগ্র বাসনা কেন? সংসদের বিরোধী দল সহ সকল রাজনৈতিক নেতাদের উচিৎ চলমান গনতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যহত এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিজেদের সংশোধন করা। মনে রাখতে হবে বারবার প্রতারিত হওয়ায় দলকানা ছাড়া দেশের মানুষেরা রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। ক্ষমতার যাবার  জন্য হাক দিবেন আর সবাই রাস্তায় ঝাপিয়ে পড়বে এখন  সেই আশা আর নাই । শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতিতে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা হুমকীতে পড়বে , দেশের অগ্রগতি থমকে যাবে এমনকি সামান্য ভুলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বোভৌম বিপন্নের আশংকা আছে ।

 https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA 

প্রকাশ : দৈনিক গণমুক্তি    তারিখ : ০৭/১০/২০২৬ ইং


Monday, September 21, 2026

অপেক্ষা সেই সুদিন দেখবার

জনস্বার্থে সরকারের বিধিবিধান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে, সরকারি সম্পত্তির হেফাজত, বে-আইনী কর্মকাণ্ড থেকে জনসাধারণকে বিরত রাখতে, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সেবাদানের জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিয়ে সরকারি  কর্মকর্তা কর্ম'চারীদের প্রতিপালন করা হয়ে থাকে। এক সময় সরকারি  কর্মকর্তা কর্ম'চারীদের বেতন ভাতা সু্যোগ সুবিধা কম ছিলো। বউ বাচ্চা কাচ্চার ভরণপোষণ- শিক্ষা খরচ সামাল দেয়া নাকি সম্ভব ছিলো না। তাই অনেকেই ঘুষ দুর্নীতিতে জড়াতে বাধ্য হতেন। বিগত আওয়ামী সরকার সেই দিক আমলে রেখে ঘুষ দুর্নীতি রোধ করার লক্ষে বেতন ভাতা সু্যোগ সুবিধা অনেক বেশি বাড়িয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের অভিমত ছিল সরকার ক্ষমতায় থাকার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিতে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে। সেই সুবাদে সরকারি কর্মচারী-কর্ম'কর্তাগণ দেশের সবচাইতে বেশি সুযোগ সুবিধাভোগী হয়েছিলেন। কিন্তু ঘুষ দুর্নীতি  কমে নাই বরং তা বেড়েছিল বহুগুন। বত'মান সরকারও ক্ষমতার ছয় মাস পার না হতেই সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তদের বেতন তিন কিস্তিতে নিম্ন গ্রেডের জন্য মূল বেতনের ১৪২ শতাংশ এবং সবো'চ্চ গ্রেডের জন্য মূল বেতনের ১০০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছেন। ক্ষমতার ছায়াতলে থাকা  মানুষদের সুযোগ সুবিধা পাওয়া নতুন নয়। সেই রাজা বাদশা জমিদারদের আমল থেকে  পাইক-পেয়াদা-বরকন্দাজরা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে আজও তার ব্যতিক্রম নাই কেবল পদ পদবীর নামের পরিবর্তন হয়েছে। 

আঠার কোটি মানুষের দেশে আনুমানিক পনের লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা'-কর্মচারী, এম পি মন্ত্রীর সুখ শান্তি এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তার ব্যয় ভার জোগানোর জন্য সরকারি সকল সেবার মূল্য বিভিন্ন অজুহাতে বাড়ানো হবে বিদেশী ঋনের উপর নিভ'র করতে হতে পারে৷ জনগণের যা হয় হউক সরকারের আয় ঠিক থাকলেই হবে। একেক জন নির্বাহীর জন্য প্রায় কোটি টাকার গাড়ি, রক্ষণাবেক্ষনে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা। সুযোগ সুবিধামতো সদলবলে বিদেশ ভ্রমন, সবইতো জনগণেরই টাকা। সরকারের কর বলি আর সেবার মূল্য বলি, তা বাড়ানোর খবর বাজারে আসতে না আসতে ঘড় ভাড়া,গাড়ি ভাড়া দ্রব্য মূল্য সবই বাড়তে থাকবে। কিন্তু আনুমানিক সতের কোটি পচাশি লক্ষ মানুষের ভেতর রিক্সা চালক তার ভাড়া বাড়াবে, ট্যাক্সী চালক ভাড়া বাড়াবে, দিন মজুর তার রোজ বাড়াবে কিন্ত সংবাদ পত্রের কমী' সহ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী কর্মকর্তাদের কি হবে ?

বাড়তি কর ট্যাক্স দিয়েও মানুষ যে তার কাংখিত সেবা পায় তা কিন্তু নয়। কারণ যেখানেই যত বেশি জন-গণ স্বার্থ সেখানেই ততো বেশী ভেজাল ততো বেশী দুর্নীতি। অতিত থেকে জানা যায়  বেতন ভাতা বাড়ানোর পরও জনগণের সেবকগণের  দুর্নীতি অপরাধ কমে নাই বরং বেড়েছে অনেক বেশী। সাধারণ মানুষ তাদের কাছ থেকে একটু সুন্দর ব্যবহার পাবে সেই আশাও কম। সবাই অপরাধী বলা যাবে না। তবে যারা অপরাধ করতে অভ্যস্ত তারা দেখে অপরাধ করে পার পাবার অপার সুযোগ। তা না হ’লে সাত খুনের আসামীদের বিচারের রায় একযুগেও কেন কার্যকর হয় না ? অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা হত্যাকান্ডের সাজা প্রাপ্ত আসামী এখনও কেন জনগনের ট্যাক্সের টাকার সরকারী খাবার খেয়ে বেচে থাকে? ১৪ বছরেও সাংবাদিক সাগর-রূনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন দাখিল হয় না। মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ নিয়ে ছোট সাহেব থেকে বড় সাহেব হয়ে অবসরে গেছেন। তার জেল জরিমানা সহ পরিবার পথে বসার কথা কিন্তু শোনা যায় পেনশন সরকারী সুবিধা নিয়ে সুখেই আছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া এবং বিচার কার্যে দীর্ঘ সুত্রিতার সুযোগ থাকায় দিনকে দিন মানুষের ভেতর লোভ সাহস দুটাই বাড়ছে।

একবার কথা প্রসঙ্গে এক দীর্ঘ যাত্রার সহযাত্রী আক্ষেপ করে বলেছিলেন এদেশে দুর্নীতি প্রচলিত ব্যবস্থায় রোধ করা কখনো সম্ভব নয়। তিনি বলেন কেউ দোষী সহজে হয় না কারণ ভুত তাড়াবার সরিষায়ও ভুত থাকে। মনে করেন কপালের ফেড়ে পড়ে ধরা খেয়ে চাকুরি হারালাম । ২০ কোটী টাকা আত্মসাতের মামলা হলো । চাকুরীর মেয়াদ খুব বেশি নাই। অবসরে গেলে দেড় কোটী টাকা পেতাম। নিজের চাকুরী জীবনে ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা শেষ করে দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। জমি-জমা সহায়-সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে ছেলে-মেয়েদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। শহরে-গ্রামে মাথার উপর ছাদ আছে নগদ টাকা আছে বাকি জীবন এমনি চলে যাবে। মামলা চুলুক তার গতিতে একসময় প্রকৃতির ডাকে সবার মত পৃথিবীর মায়া ছাড়তে হবে। ছেলে-মেয়েদের ভবিষৎ চিন্তা নিয়ে এতো কম’যজ্ঞ তারা এখন প্রতিষ্ঠিত তাই আর আফসোস নাই ?   

আমরা দেখছি ক্ষমতার হাত বদল হয় নেতা-মন্ত্রী বদলায় আইনের অপরাধে কাঠগড়ায় দাঁড়ায় সাজা হয় কিন্ত মন্ত্রীদের সহযোগী রাজকর্ম'কর্তা'-রথী-মহারথীরা বহাল তবিয়তে থাকে। সময়ের সাথে সাথে গিরগিটির মত রঙ বদলায়। সংখ্যায় অতি অল্প অপরাধী ধরা পড়লেও অপরাধ ভেদে শাস্তি বড় জোড় বদলী অথবা ওএসডি করে রাখা। এখন সময় এসেছে জনগণের সেবক দেশের সবচাইতে বেশি সুবিধাভোগী অপরাধী সরকারি কর্মকর্তা- কম'চারী, রথী-মহারথীদের বিচারের ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা। তাদের শাস্তির ব্যবস্থা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা। প্রয়োজন দ্রুত বিচার সম্পন্নের জন্য বিশেষ আদালত। তদন্ত হবে আন্তমন্ত্রনালয় কমিটি দিয়ে । প্রয়োজন অপরাধ ভেদে অপরাধীর চাকুরীচ্যুতি। চাকুরীকালিন নিজ নামে অথবা পরিবারের কারো নামে ক্রয় করা সকল সহায় সম্পত্তি,ব্যংক আমানত সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা রাখার ব্যবস্থা ।

জনগণের সেবকদের  পদস্খলন সাধারণ ভাবে গ্রহণ করা কাম্য নয়। ক্ষেতের ফসল বেড়ায় খেলে সেই ফসল রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই ফসল রক্ষা করতে বেড়া আগে ঠিক করতেই হবে। শুধুমাত্র ক্লোজ,সাময়িক বরখাস্ত কিংবা বদলি, একই বিভাগের লোকজন দিয়ে তদন্তে সীমাবদ্ধ রাখলে যে কোনো ব্যক্তির অপরাধ করার উৎসাহ ও উৎসাহিত হবার কমতি হবে না কখনো। সরকারের উন্নয়ন কাজে জনগণের সেবকদের নিয়ে বর্তমানে প্রচলিত “ কিছু কাজ কিছু চুরি “ প্রকল্প কখনো বন্ধ হবার নয়। যতই শক্ত কঠীন আইন হোক না কেন অপরাধ কমার আশা করা হবে স্বপ্নবিলাস মাত্র। অপরাধীরা আথি'ক অপরাধ, হত্যা ধর্ষন মাদক ব্যবসা নানা রকম অপরাধ করতে গিয়ে নতুন নতুন কলা-কৌশল ব্যবহার করছে, সেই সাথে আছে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়। শোনা যায় প্রতিবেশি দেশে প্রধান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) আছে। যারা দুর্নীতি প্রতিরোধ করা, দেশের প্রশাসনিক সততা বজায় রাখা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের গুরুতর অপরাধ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে।তারা এব্যাপারে সাফল্য দেখিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অপরাধ দমনে আমাদের দেশেও দুদক এর পাশাপাশি সিবিআই এর মত একটা সংস্থা গড়া যায় কিনা ভাবা দরকার।

শোনা যাচ্ছে সরকার তার সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। গুগল থেকে “ইপন”এর অনেক আগের গবেষণার তথ্য থেকে জানা যায় শহরে প্রতি দশ হাজারে সতের শিশু অটিজমে আক্রান্ত। গ্রামে এর সংখ্যা প্রতি দশ হাজারে চৌদ্দ জন। এদের কারো দরকার বিহেবিয়ার থেরাপি, কারো প্রয়োজন স্পিচ থেরাপি কারো অকুপেশনাল থেরাপি কারো দরকার ফিজিও থেরাপি সাথে শিক্ষাদান। তাদের শিক্ষাদান ও চিকিৎসার পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাই ।  যা আছে তার ব্যয়ভার বহন করার সামর্থ্য' সাধারণ মানুষের নাগালেও নাই। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কি অমানুষিক কস্ট করতে হয় তা একমাত্র তাদের বাবা-মা জানেন। সেই কস্ট সেই বেদনা সরকারী কর্মকর্তা' কম'চারী আর সাধারণ মানুষের আলাদা নয়। প্রতিটি  বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু এ দেশের নাগরিক তাদের সবার সমান অধিকার। সেখানে শুধুমাত্র সরকারী কর্মকর্তা কর্ম'চারীদের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা কেন ? এমন ব্যবস্থা কেবল বৈষম্যমূলক নয় অসচ্ছল অসহায় মা-বাবার প্রতি চরমতম অবিচার যা অতিদ্রুত সাম্যতার ভিত্তিতে পুন'বিবেচনার দাবী রাখে। 

সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের  সুযোগ সুবিধা নিয়ে সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আছে । তবে দেশ ও জনগণের সেবক এই আনুমানিক পনের লক্ষ মানুষের সুবিধা বৃদ্ধিতে আপত্তি নাই। ইনটেরিম সরকারের সময়ে শোনা গিয়েছিল গরিব দেশে মন্ত্রী পাড়ায় মহারথীদের জন্য দুইটি সুইমিং পুল সহ সুবিশাল আবাসন ব্যবস্থা করার তাতেও মানুষের করার কিছুই নাই। মানুষ দেখছে নিবা'চনে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার রাস্ট্র পরিচালনায় থাকলেও আমলারাই প্রকৃত দেশ পরিচালনা করছে। যাকে গনতান্ত্রিক সরকার না বলে আমলা নির্ভর সরকার বললে বোধকরি  ভাল শোনা যায়। সুতরাং তাদের সুযোগ-সুবিধা তারাই নিধা'রন করছে। সাধারণ মানুষের দাবি নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হওক। কেবল আশা সরকারী কর্ম'কর্তা কর্মচারীরা সৎ-নিষ্ঠাবান এবং জনবান্ধব হবেন, সাম্য ও ন্যায়-বিচারের লক্ষে আইন সঠিকভাবে প্রয়োগের ব্যবস্থা হবে । শুধু ক্ষমতাসীন নয় সকল রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী সৎ-নিষ্ঠাবান এবং দেশ-প্রেমিক হবেন।বাস্তবায়ন জানি কঠিন কর্ম তবে বিশ্বাস  পরিবর্তন আসবেই,তাই অপেক্ষা সেই সুদিন দেখবার ।

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA

প্রকাশ ঃ দৈনিক গণমুক্তি   তারিখ   : ২২/০৯/২০২৬ ইং

Saturday, September 19, 2026

আন্তরিক সদিচ্ছার বড় প্রয়োজন

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অসুস্থ্য মা কারাগারে থাকা তার ছেলেকে দেখতে চেয়েছিলেন। আইনী জটিলতায় দ্রুত কোন ব্যবস্থা করা হয় নাই। ইত্যবসরে তিনি মারা গেলে উনার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পাদনের জন্য সন্তান চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। এই বিষয়কে ইস্যু করে সোস্যাল মিডিয়ায় অমানবিক সংখ্যালঘু নিযা’তন বলে প্রচার-প্রপাগান্ডা এখন তুঙ্গে। শোনা যায় শুভেন্দু বাবুর নানা বাড়ি নাকি বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় সেই হিসাবে উনি বাংলাদেশের নাতি।তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপির হাইব্রিড নেতা এখন পশ্চীম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি চাইছেন। চিন্ময় দাসের কারাবাসে তিনি বাংলাদেশে তালেবান, আইএস ও মৌলবাদীদের পদধ্ধনী দেখতে পাচ্ছেন।উনি ভুলে যাচ্ছেন আফগান-পাকিস্তানের বিবাদের সু্যোগে এক সময়ের চক্ষুশূল চরম শত্রু আফগান তালেবান এখন ভারতের পরম বন্ধু। ধম’ পালন করার নাম যদি মৌলবাদী হয় তাহলে বাংলাদেশে সবাই মৌলবাদী। কারণ এখানে যার যার ধম’ সে নিবি'ঙ্ঘে পালন করে।শুধু শুভেন্দু বাবু নয় যারা আজ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস আর তার মায়ের একে অপরকে দেখতে না পারায় হাহুতাস কুম্ভাশ্রু বষ’ন করে সংখ্যালঘু নিযা'তনের প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন,তারা কি আলিফের রেখে যাওয়া তিন বছরের মেয়ের কথা ভেবেছেন, তারা কি এক সন্তানের মা আলীফের স্ত্রীর কস্টের  কথা ভেবেছেন, তারা কি ভেবেছেন আলিফের মা-বাবার জীবদ্বশায় তাদের ছেলেকে হারানো হাহাকারের কথা ? অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে নিতে না পারায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা একটু বেশী ছড়ানো হচ্ছে। 

জুলাই বিপ্লবে ধম'-বণ' নিব্বি'শেষে মানুষের জনরোষে সতের বছরের ফ্যাসিস্ট হাসিনাশাহীর পতনে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিলে থানা পুলিশ শুন্য হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের সিভিল প্রশাশন শুন্য  হয়ে যায়। চারিদিকে অরাজক অবস্থায় আমাদের গবি'ত সেনা-বাহিনী যখন জন-নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলস চেষ্টারত তখন রাস্তায় নেমে আসে নতুন নতুন দাবি নিয়ে একেক দল। রাস্ট্র সংস্কারে গঠিত ইনটেরিম সরকার যেন দাবি আদায়ের সরকারে পরিনত হয়ে পড়েছিল।এমনি সংকটাপন্ন অবস্থায় সংখ্যালঘু নিপীড়ন-নিযা'তনের মিথ্যার আশ্রয়ে বিভিন্ন দাবি নিয়ে জয় শ্রীরাম, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায় সহ বাহারী শ্লোগান তুলে দেশে দাঙ্গা বাধাবার পায়তারা করেছিল,আশ্রমে আশ্রিত শিশুদের সাথে অনৈতিক কম'কান্ডে অপরাধী ইসকন থেকে বহিস্কৃত আজকে জেলে আটক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।বাংলাদেশে জুলাই পরবতি'তে প্রশাসন শুন্য অবস্থায় দাংগা বাধিয়ে অস্থিতিশীল করতে গিয়ে একজন আইনজীবীকে হত্যার ব্যবস্থা করেছে। তার দায় অনেক। বাংলাদেশী পথভ্রষ্ট ভারতপ্রেমী ও শুভেন্দু বাবুদের জ্বলবে তাতে অবাক হবার কোনো কারণ নাই।এদেশের হাজার লক্ষ কারাবাসীর অসুস্থ পিতা-মাতা,স্ত্রী-কন্যার দেখার ইচ্ছা পুরন করা বোধ করি সম্ভব হয় না। সবার সমান অধিকারের বাংলাদেশে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে সেটাই স্বাভাবিক।

আমরা দেখছি বিশ্বের বৃহত্তর গনতন্ত্রিক দেশ  ভারত জুড়ে কট্ট্রর  হিন্দুত্ববাদী  বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নিযা'তন বেড়েছে।বিশেষ করে বুলডোজার নীতি অবলম্বন করে জয় শ্রীরামের নামে মুসলিমদের বসতভিটা থেকে  উচ্ছেদ করা হয়েছে, ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ সহ অসংখ্য মসজিদ মাদ্রাসা ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। গো-মাংস রাখার অজুহাতে মুসলমানদের নিম'ম নিপীড়ন নিযা'তনে আহত নিহত করা হচ্ছে, জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে ভারতকে মুসলিমদের রক্তে রক্তাক্ত করা হয়েছে, নিপীড়িত মুসলমানদের অশ্রুজল আর গংগা-যমুনা, নম'দা, সবরমতী, সরযু নদীর জলকে  একাকার করা হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে আজ  শুভেন্দু বাবুর পশ্চিমবাংলায় একই কায়দায় মুসলমানদের নিপীড়ন-নিযা'তন করছেন,নামাজ পড়তে বাধা দিচ্ছেন,মসজিদের মাইক খুলে নেয়া হয়েছে, মুসলমানদের উচ্ছেদ করছেন। নিম'ম নিযা'তনেও ভারত ছেড়ে কোথাও না যাওয়া দেশপ্রেমিক ভারতীয় বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশে পুশ ইন করতে চেষ্টা চালিয়ে সীমান্তকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।

ডঃ ইউনুসের ইনটেরিম সরকার এবং জুলাই বিপ্লবকে  ভারত মেনে নিতে পারে নাই। হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন বলেছিলেন আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত তা সারা জীবন মনে রাখবে, নরেন্দ্রমোদী মনে রেখেছেন। জুলাই আন্দোলন দমন করতে নিব্বি'চারে হাজার হাজার মানুষকে রক্তাক্ত আহত-নিহত করে প্রাণ বাচাতে হাসিনা ভারতে গেলে তিনি হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছেন। হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ রাখে নাই। বরং হাসিনাকে পুন'বাসনের জন্য ইনটেরিম সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিভিন্ন ব্যানারে বিভিন্ন দাবি আদায়ের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়েছে।মিডিয়ায় নিত্য নতুন প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে বিদেশে বিভিন্ন ফোরামে তা প্রচার করা হয়েছে।কিন্তু ধম’–বণ’ নিব্বি’শেষে জাতীয় ঐক্যের কারণে তা সফল হতে পারে নাই। মনে পড়ে ভারতের সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছিলেন,“দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারব  শুধুমাত্র  যখন  একটি  নির্বাচিত  সরকার  থাকবে।আজ বাংলাদেশে সতের বছর পর গনতান্ত্রিক ভাবে ভোটে নিবা'চীত সরকার ক্ষমতায় কিন্তু কোনো সম্পকে'র পরিবত'ন হয় নাই। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ সত্বেও ভারত সকল সুবিধা দিয়ে হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ব্যবস্থা করেছে।আন্ত'জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে (বাংলাদেশে) জুলাই মানবাধিকার বিরোধী হত্যাকান্ডে দন্ডপ্রাপ্ত হাসিনা ও তার দলের পালিয়ে যাওয়া নেতা-কমী' এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ভারত কেহই আজঅবধি হত্যাকান্ডে দুঃখ প্রকাশ করে নাই।    

ভারতীয় নেতা এবং এদেশে তাদের দালালরা প্রায় বলেন ভারত আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগীতা করেছে। কেহ তা অস্বিকার করে না । কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না পাকিস্তানকে বিভক্ত করে ভারত তার পুবা'ঞ্চল শ্ত্রুমুক্ত রাখতেই নিজের স্বা্থে' সহযোগীতা করেছে স্বাধীনতা সংগ্রামে। আমরা কেবল সেই সু্যোগটাই কাজে লাগিয়েছি।কিন্তু দু'ভাগ্য আমরা স্বাধীন দেশ পেলেও গরম তাওয়া থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়েছিলাম। দেশ-প্রেমিক মানুষ এবং সবল নেতৃত্বের অভাব  দেশের মানুষকে স্বাধীনতার পক্ষ–বিপক্ষ  বিভক্ত করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর বায়বীয় জুজুর ভয় দেখিয়ে ভারত তাদের দাসত্বে আটকে রেখেছে। ৭৫ পরবতি'তে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই দাসত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করতে গেলে তাকে হত্যার ব্যবস্থা করা হয়। আজ ভারতে বসে হাসিনার বাংলাদেশ বিরোধী কম'কান্ড বন্ধ এবং তাকে ফেরত পাঠানো সহ নানা বিষয়ে ভারতের নিষ্পৃহতায় তারই সন্তান তারেক জিয়া পরিবেশ পরস্থিতি অনুকূলে না থাকায় দিল্লীতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় ভারতীয় প্রাক্তন কুটনীতিক এবং সুশীল সমাজ শিষ্টাচারের প্রশ্ন তুলছেন ,সম্পক' উন্নয়নের প্রতিবন্ধক মনে করছেন। ভারত বাংলাদেশকে বন্ধু প্রতিম দেশ বলে কিন্ত বাস্তবে তার প্রতিফলন কখনো দেখা যায় নাই।

বাংলাদেশ এক অদ্ভুত এবড়ো-থেবড়ো আকাআকি করা সীমানার মানচিত্রে তিন দিকে বৃহতর প্রতিবেশী হিন্দু রাস্ট্র ভারত বেষ্টিত ভাটি অঞ্চল। দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত সকল নদীর উজানে ভারতীয় অংশে বাধ দিয়ে পানি অপসারন করে তাদের খরা অঞ্চলে সরবরাহ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মানুষকে খরায় শুকিয়ে আর ভরা বষা'য় ডুবিয়ে মারছে।আমাদের দু'ভাগ্য এদেশে অসংখ্য বাংলাদেশী ভারতপ্রেমী দালাল আছে কিন্ত ওপারে বাংলাদেশপ্রেমী কোন দালাল দুরের কথা সহানুভুতি জানাবার মানুষ নাই। বাংলাদেশী কিছু দিকভ্রান্ত ভারতপ্রেমীরা ব্যক্তিগত হানাহানি, সম্পদের লোভ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষমতার দ্বন্দ নিয়ে মারামারি খুনাখুনিকে সাম্প্রদায়ীকতা ও সংখ্যালঘু নিযা'তন বলে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।ক্ষমতাসীনদের ছায়াতলে পরাক্রমশালী বীর হয়ে নিপীড়ন নিযা'তন করে সুবিধা আদায় করে ক্ষমতার পালা-বদলে সংখ্যালঘু বলা যায় কি? রাম মন্দির ইস্যু আন্দোলনে হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ দাবী করছে।কেউ আবার অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখছে।ভারতীয় নেতারা চিকেন নেক দখল করতে চাইছে। বাংলাদেশের সীমান্ত জেলা গুলি দিয়ে বঙ্গভুমি নামে হিন্দু  রাষ্ট্র গঠন করার পুরাতন প্ল্যান বাস্তবায়নের হুংকার দিচ্ছে।সেই সুরে সুর মিলিয়ে সদ্য আগত ভারতীয় হাইকমিশনার ত্রিবেদী দেশের বিভিন্ন সেক্টরে অবাধ বিচরণ করছেন জনসংযোগে দুই দেশের ১৬০ কোটি মানুষের একক বিশাল শক্তির কথা বলছেন। 

বিজেপির নেতাদের হুংকারে মনে হয় মধ্যপ্রাচ্যের দানব ইজরাইলের আদলে দক্ষিণ পুব’ এশিয়ায় অবিভক্ত হিন্দু রাষ্ট্র  গঠন করতে ভারত এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃটিশ ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে ১৯৪৭ সালের অবিভক্ত ভারতকে হিন্দু মুসলিম দুই রাস্ট্রে ভাগ করে সীমানা মানচিত্র তৈরি করার জন্য স্যার সিরিল রেডক্লিফকে(Cyril Radcliffe) মাত্র পাচ সপ্তাহের সময় দেয়া হয়।সেই রেডক্লিফের খামখেয়ালী হওক অথবা তাদের ফেলে যাওয়া সাম্রাজ্যে কেউ যেন শান্তিতে থাকতে না পারে তার চিরস্থায়ী বন্দোবস্থ করতেই হওক যে সীমানা মানচিত্র তৈরি করে গেছে তাতে পশ্চীমে ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের মারমুখী উত্তেজনা কখনো শেষ হবে আসা নাই।বত'মান বিশ্বব্যাবস্থায় পূব'দিকে  বাংলদেশ এখন বৃহদ শক্তিধরদের শক্তিমত্তা প্রদশ'নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।চারিদিকে অশান্তির কালো মেঘ।দক্ষিন পুব' এশিয়ার শান্তির জন্য বৃহতর রাষ্ট্র হিসাবে এ মহুত্তে' ভারত সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছার বড় প্রয়োজন। ভারত কি পারবে আধিপত্যবাদী মনোভাব পরিহার করে বাংলাদেশ সহ তার প্রতিবেশী দেশ গুলির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বন্ধুত্ত ও সহযোগীতার হাত প্রসারিত করতে? 

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA

প্রকাশ ঃ দৈনিক গণ্মুক্তি     তারিখ :  ২০/০৯/২০২৬ ইং 

Friday, August 28, 2026

গাজায় গনহত্যার দায় মুসলিম রাষ্ট্র নায়কদের

২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে আনুমানিক ৮১২ কোটি মানুষের ভেতর ওআইসি সদস্যদেশ হিসাবে পৃথিবীতে ৫৭টি মুসলিম দেশে প্রায় ২০০ কোটি মুসলমানের বসবাস ।অতি দুঃখের বিষয় প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে ভাতৃঘাতী হানাহানিতে লিপ্ত আজ।আরাফাত ময়দানের হযরত মুহাম্মদ (সা:) কর্তৃক প্রদত্ত বিদায়ী হজ্বের বাণী আমরা ভুলে গেছি। তিনি বলেছিলেন প্রত্যেক মুসলমান একে অপরের ভাই। তোমাদের প্রত্যেকের উপর প্রত্যেকের হক আছে।আজ আমরা সেই বানী ভুলে ইহুদী সাম্রাজ্যবাদীদের আপন করে নিয়েছি।আয়েসী জীবন-যাপনের ক্ষমতার মসনদ রক্ষাকারী বানিয়ে তাদের মন্ত্রনায় ভায়ে ভায়ে রক্তাত্ব হচ্ছি। কিন্তু ইতিহাস মনে করা আমাদের বড় বেশি প্রয়োজন ছিল করি না তারা যে কখনো বন্ধু হতে পারেনা এখনো ভাবি না।

সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং স্নায়ু-যুদ্ধের অবসানের পর আমেরিকা গোটা বিশ্বের পরাক্রমশালী রাষ্ট হিসাবে আবি’ভুত হয়। তখন থেকে ইসলাম এবং মুসলিমরা ইহুদী সাম্রাজ্যবাদীদের প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়।স্নায়ু-যুদ্ধের সময় আমেরিকা আর ইউরোপের দেশ গুলি শয়নে-স্বপনে লাল পতাকা দেখতো তাদের সামনে এখন চাঁদ তারা পতাকা । ইতিহাস বলে যখনই কোনো মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা তার জাতীকে মাথা উচু করে দাড়াবার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে তখনি তাকে ধংস করা হয়েছে।পশ্চীমা গনমাধ্যমও ইসলাম এবং তার অনুসারী মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসাবে প্রচার প্রচারণা করছে।বিশেষ করে ইজরাইলের জন্য হুমকী হলেই সেই দেশ এবং সেই জাতির নেতার যেন আর কোনো রক্ষা নাই।এভাবেই ধংস করা হয়েছে লিবিয়াকে,হত্যা করা হয়েছে জাতীয়তাবাদী নেতা মোয়াম্মার গাদ্দাফীকে।কট্ট্রর ইজরাইল বিরোধী ইরাকের জাতীয়তাবাদী নেতা সাদ্দাম হোসেনকে তার দেশের মানুষদের দিয়েই মুসলমানদের ঈদের দিনে ফাসী দেয়া হয়েছে, একসময়ের সম্পদশালী ইরাককে ধংস করা হয়েছে।আজ ইরানকে ধংস করার প্রচেষ্টা চলমান থাকা অবস্থায় হুমকী দেয়া হয়েছে পরবতি’ নিশানা পাকিস্তান ।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর হলোকাষ্ট থেকে বেচে আসা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে  আশ্রিত ইহুদীদের বৃটেনের অনুরোধে প্যালেস্টাইনে আশ্রয় দেয়া হয়। দিনে দিনে সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে ফিলিস্তিনী ভুখন্ড দখল হতে থাকে।একসময় ইউরোপ আমেরিকার যোগসাজশে জাতিসংঘে ইজরাইল রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি পায় কিন্তু ফিলিস্তিনীরা রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি পায় নাই। শুরু হল ইউরোপ আমেরিকার সক্রিয় সহযোগীতায় ফিলিস্তিনীদের উপর ইহুদীদের অত্যাচার নিপীড়ন-নিযা’তন-হত্যা জবর দখল।ফিলিস্তিনীরা তাদের ভিটেমাটি থেকে বিতারিত হয়ে উদ্বাস্থ হতে থাকলো তাদের আবাস সংকুচীত হতে থাকলো, আর আশ্রিত ইহুদীরা সেই ভুমির মালিক হতে হতে  ইজরাইল রাষ্ট্রের সীমানা সম্প্রসারিত করতে থাকলো।আরব রাষ্ট্রগুলির নিস্ক্রিয়তা কখনো আবার বিশ্বাসঘাতকতায় আজকে বিশ্বের রক্তপিপাসু এক দানব রাষ্ট্র ইজরাইলের আত্মপ্রকাশ। ইচ্ছা এখন তাদের বৃহত্তর ইজরাইল রাষ্ট্র গড়ার।   

২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর প্রত্যুষে হামাস ইজরাইলের অভ্যন্তরে আক্রমণ করে প্রায় চৌদ্দশত ইজরাইলীকে হতাহত করে এবং ২০০ এর অধিক সাধারণ এবং সামরিক সদস্যকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়।তথাকথিত সভ্য জগতের মানুষ, গণতন্ত্রের রক্ষাকারী, বাক-স্বাধীনতা রক্ষাকারী, মানবাধিকার রক্ষাকারীরা কেবল ফিলিস্তিনীদের  আক্রমণকে সন্ত্রাসী আক্রমণ করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে কিন্ত তারা হামাসের এই আক্রমণের মূল কারণ যুগের পর যুগ ধরে অত্যাচারিত নিপীড়িত নিযা’তিত ফিলিস্তীনিদের ক্ষোভের কথা প্রচার করে নাই।দীঘ’ ৭৫ বছরের অধিক সময় নিপীড়িত নিযা’তিত ফিলিস্তীনিরা তাদের রক্তের বিনিময়, তাদের ভুমির বিনিময়,আপনজন হারানোর শোক আর অমানবিক নিযা’তনের চোখের পানির বিনিময় আগ্রাসী বব’র ইজরাইলীদের কাছ থেকে অজি’ত শিক্ষার একই পদ্ধতিতে প্রতিশোধের এই আক্রমণে  ইজরাইলী সেনাবাহিনীর শ্রেষ্টত্ব ধুলায় মিশিয়ে দেয়। প্রতিশোধ নিতে আমেরিকা ও ইউরোপিয়ানদের সহযোগীতায় ইজরাইলীরা তাদের সব’শক্তি নিয়ে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে অভিযানে নামে।

প্রতিবেশি আরব দেশ সহ  দূরে কাছে ৫৭টি রাষ্ট্রের প্রায় ২০০ কোটি নামে-দাড়ী-টুপি-লেবাসে মুসলমানদের অনৈক্য আর নিস্ক্রীয়তায় বাধাহীন গাজায় নিব্বি’চারে গনহত্যা চালাতে তার অসুবিধা হয় নাই। যা এখনও  চলমান।আবাসিক এলাকা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালসহ সকল চিকিৎসা কেন্দ্র,উপশানালয়,খাবার পানির ব্যবস্থা,বিদ্যুৎ ব্যবস্থা,পয়োনিস্কাশন ব্যবস্থা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।মানুষের মাথা গোজার ঠাই নাই,চিকিৎসার ব্যবস্থা নাই।,খাদ্যকে অস্ত্র বানিয়ে ক্ষুদাথ’ মানুষের খাদ্য-পানিয় ঔষধ সরবরাহ বন্ধ করে মানব ইতিহাসের নৃশংস পৈশাচিক গনহত্যা বন্ধে দানব রাষ্ট্র ইজরাইলকে নিবৃত করতে  সভ্য দুনিয়ার কারো কোনো ভুমিকা নাই। জাতিসংঘের কোনো ভুমিকা নাই, মেরুদন্ডহীন আরব লিগ, ওআইসির কোনো ক্ষমতা নাই।তারা কেবলই দাফতরিক বিবৃতি দেয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করেছে।জাতিসংঘে ইজরাইলের বিরুদ্ধে আনিত প্রস্তাব আমেরিকার ভেটোতে স্থগিত হয়,আন্তজা’তিক আদালতের রায় কায’কর হতে পারে না।ইতিমধ্যে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার আর আহতদের সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ ৮০ হাজার ছুয়েছে।শান্তি আলোচনার মাঝেও এখনো চলছে গনহত্যা।শোনা যাচ্ছে বত'মান সিরিয়া সরকারের সহযোগী তুরস্কের একটি প্রতিনিধি দল সিরিয়ার বিমান ঘাটি পরিদশ'নকালে ইজরাইল বিমান হামলা চালিয়ে বিমান ঘাটির ক্ষতি সাধন করেছে এবং বিবৃতি দিয়েছে ইজরাইল তার সীমান্তের কাছাকাছি ভীনদেশি কাউকে মেনে নেবে না।খুবই স্বাভাবিক।আমেরিকার ছত্রছায়ায় অপ্রতিরোধ্য রক্তপীপাসু দানব ইজরাইল যখন যাকে খুশী আক্রমণ করছে  মানবতা ধবংস করছে।সিরিয়া,লেবানন,ইরানকে আক্রমণ করে আমেরিকার সহযোগীতায় ট্রাম্পের হামাসকে দেয়া হুমকীর সেই দোজখের আগুন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নামিয়ে আনছে।

বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানই পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে রিয়াদে সৌদিআরব ও পাকিস্তানের ভেতর একটা কৌশলগত পারস্পারিক সহযোগীতা চুক্তি সম্পাদিত হয়।এবার ২০২৬ সালের আগষ্টে যৌথভাবে আমেরিকা-ইজরাইলের ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের পাচ মাস পর মক্কায়  সৌদিআরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ভেতর আরও একটি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটা চুক্তি সম্পাদন হয়েছে।উদ্দেশ্য এই চুক্তিভুক্ত কোনো সদস্য দেশের উপর আক্রমণ হলে তা তিন দেশের উপর আক্রমণ হিসাবে বিবেচীত হবে।বত’মান অবস্থায় এই চুক্তি মুসলিম উম্মাহর উপকার হবার কোনো আলামত নাই বরং ভাতৃঘাতী হানাহানিতে অধিক রাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ার আশংকা আছে। কারন প্রতিবেশি মুসলিম রাষ্ট্রে অবস্থিত বিদেশি ঘাটি থেকে ইরানে আক্রমণ করায় ইরান এবং ইয়ামেনের হুতিরা সে সমস্ত ঘাটিতে আক্রমণ করছে।তারমধ্যে সৌদি আরব আছে।তাহলে সৌদি আরবে বিদেশি ঘাটি থেকে আক্রান্ত ইরান পাল্টা আক্রমণ করলে কি পাকিস্তান ও তুরস্ক ইরানকে আক্রমণ করবে ? ইজরাইল যদি পাকিস্তান অথবা তুরস্ককে আক্রমণ করে সৌদি আরবে  মাকি'ন ঘাটি রেখে সৌদি আরব কি পারবে চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান অথবা তুরস্কের পাশে দাড়িয়ে ইজরাইলকে আক্রমণ করতে? 

তাই গোত্রে গোত্রে জোট নয় এই মুহুত্তে’ প্রয়োজন ওআইসি সদস্যদেশ মিলে জোট গঠন এবং ন্যাটোর মতো একটা যৌথ মুসলিম বাহিনী গঠন করা।নিজেদের মাঝে সমস্যা থাকবে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। এখনই ভুলে যেতে হবে কে শিয়া, কে সুন্নী , কে সালাফী, কে হানাফী, কে মাঝহাবী কে ওহাবি সকল বিভেদ।কারন যারা আল্লাহ মানেন, কুরআন মানেন রাসুল মানেন উদ্দেশ্য যখন সবার আল-আকসা উদ্ধার করা সেখানে কি আছে আমাদের যোগ্যতা বিভেদ করার ?  ইসলামের আদেশ মজলুমের পাশে দাড়াবার।পছন্দের নয় কিন্তু মজলুম এক ভাইকে রক্ত-পিপাসু দানবের হাতে নিপীড়িত দেখে কেন নিস্ক্রিয় কিংবা উল্লসিত হতে হবে ? সাম্রাজ্যবাদীদের উদ্দেশ্য মুসলিম দেশ গুলির একের সাথে অন্যের বিভেদ হানাহানী বাধিয়ে একে একে সবাইকে দুব’ল করে জ্বালানী সম্পদ দখল করা। ইজরাইলের প্রতিপক্ষ হামাস হিজবুল্লাহকে দুব’লকরা হয়েছে, ইরানের দোসর সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতন হয়েছে।বত’মানে দৃশ্যমান শক্তিশালী ইরানকে ছলে-বলে কৌশলে শেষ করতে পারলে আরব-পারস্য সাম্রাজ্য করায়ত্ব করে বৃহত্তর ইজরাইল রাষ্ট্র গড়া তাদের কেবল সময়ের ব্যপার।

এখনই সময় সব বিভেদ ভুলে আগ্রাসী ইহুদী সাম্রাজ্যবাদীদের রুখতে আজকের মজলুম ইরানের পাশে দাড়াতে হবে।আরবের মাটি থেকে সকল বিদেশি ঘাটি উচ্ছেদ করতে হবে কারণ তারা আরবদের রক্ষায় নয় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানীর অধিকার নিতে আর ইজরাইলকে নিরাপত্তা দিতে আরব দেশে ঘাটি গেড়েছে ।বড় কথা ইরানের আক্রমণ থেকে যারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে নাই তারা আরবদের রক্ষা করবে কিভাবে? ফিলিস্তিনী  হামাস যুদ্ধ শুধু ইজরাইলের সাথে করে নাই তারাযুদ্ধ করেছে পরাক্রমশালী আমেরিকা ও ইউরোপিয়ানদের সাথে। আরব দেশ গুলি এক হয়ে যদি ফিলিস্তিনীদের পাশে দাঁড়িয়ে রক্তপিপাসু দানব ইজরাইলকে প্রতিহত করতো, কোনো ভাবেই গাজায় গণহত্যা হতো না।তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়  আরবদের  অনৈক্যের সুযোগে ফাকা মাঠে প্রশ্রয় পাওয়া ছোট্ট একটা দেশ ইজরাইল রক্ত-পিপাসু দানব  হয়ে  গাজায় গনহত্যার দায় মুসলিম রাষ্ট্র নায়কদের।    

প্রকাশ : দৈনিক গণমুক্তি    তারিখ : ০৩/০৯/২০২৬ ইং

Tuesday, August 11, 2026

কারা সে বংশীবাদক

ছোট বেলায় আমাদের অনেক কিছু শেখানোর সাথে ছোট ছোট কিছু ছড়ার মাধ্যমে আদব-কায়দা শেখানোর চেষ্টা হতো। তেমনি একটা ছড়া ছিল “শিশুর পণ” সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি। আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে। ক্লাসে পড়া না পারলে অথবা নিয়ম-কানুনের ব্যত্যয় ঘটলেই স্যারের বেতের বাড়ি, হাতের তালুতে ডাষ্টারের বাড়ি,টেবিলের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তি কিংবা টেবিলের উপর কান ধরে দাঁড়িয়ে শাস্তি দেয়া আবার সেই স্যারের পরম আদর স্নেহ ভালোবাসা জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।আজকের দিনে কোনো টিচার, কোনো  ছাত্র, কোনো অভিভাবক তা কল্পনা করতে পারবেন তা মনে হয় না। জুলাই বিপ্লবের পর দেখেছি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কিংবা কলেজ অধ্যক্ষকে ছাত্ররা তিরস্কার-কুটুক্তি করে শারীরিক হেনস্থা করে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করতে।বিশ্ববিদ্যালয় তা থেকে বাদ যায় নাই।শোনা যায় একটা বিশেষ দল ইনটেরিম সরকারের উপদেষ্টাগনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্ট্ররে তাদের পছন্দের লোক বসানো সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের ভিসি নিয়োগ দিয়েছিলেন। জুলাই বিপ্লবের পর দুবছর অতিক্রান্ত হ’তে চলেছে।সতের মাসের ইনটেরিম সরকারের তত্বাবধানে নিবা’চনে সুদীঘ’১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গনতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের সরাসরি ভোটে নিবাচীত সরকার ক্ষমতায় বসেছে যার বয়স ছয় মাসও অতিক্রান্ত হয় নাই।

দেখেছি ঢাকার গাজিপুরের ডুয়েট এ ছাত্রদের কম্পিলিট ব্লকেড।কারণ সরকার সেখানে সিলেটের শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন অধ্যাপক সাহেবকে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে রাষ্টপতির অনুমোদনে নতুন ভিসি হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন কিন্তু তাকে কম’ক্ষেত্রে যোগদান করতে দেবে না কারণ তথাকথিত সাধারণ ছাত্রদের পছন্দ নয় । কে ভিসি হবে তা নিদ্ধা’রন করার যোগ্যতা ক্ষমতা দেখানোর ধৃষ্টতা দেখানোর সু্যোগ ছাত্ররা পেল কিভাবে? দেখেছি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারে তিতুমীর কলেজ, ইডেন কলেজে হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলন।দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট মিটিং চলাকালীন ডাকসু নেতারা অশালীনভাবে  ঢুকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে এবং ভিসির সাথে বাদানুবাদ জড়াতে।যেখানে সিন্ডিকেট মিটিং চলমান  সেখানে সিদ্ধান্ত কি হয় সেটার অপেক্ষা করা  প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজনে ডাকসু ভিপি অন্য কাউকে সাথে নিয়ে ভিসির সাথে আলাপ আলোচনা করতে পারতেন কিন্তু করেন নাই। সোস্যাল মিডিয়া প্রচার প্রচারনা থেকে জানা যায়  ভিসি সাহেব ডাকসু নেতাদের পছন্দের নয়।তাই   আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে  একটা ইস্যুকে সামনে এনে পরিকল্পিতভাবে  মব তৈরি করে ভিসি সাহেবকে  বিতর্কিত' করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাক-স্বাধীনতার নামে দেশে লাগামহীন অশালীন–অশ্রাব্য গালিগালাজ,কুরুচিপূন’ অংগভংগী সহ শিক্ষক-অবিভাবক সিনিয়রদের অপমান অপদস্থ করার এক নতুন সংস্কৃতি চালু হয়েছে।পথে-ঘাটেতো বটে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এমনকি স্কুলের আঙ্গিনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। সময় এসেছে অভিভাবকদের  তাদের সন্তানকে শুধু পড়াশুনার জন্য স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালে হবে না ।মাসে মাসে তার খরছের জন্য রক্ত-ঘাম পানি করা টাকা পাঠালেই হবে না।তারা সাবালক হয়েছে তারা ভালোমন্দ বোঝে ভাবলেও হবে না।তাদের এখন খোজ-খবর রাখা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে।তারা কাদের সঙ্গ দেয় , ক্লাসে উপস্থিত থাকছে কিনা জানতে হবে।তাদের রাস্তায় নয়, রাতে কোনো অপরাধপ্রবন এলাকায় নয়,তাদের পড়ার টেবিলে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন মিডিয়ায় আমাদের অনেক সন্তানদের নিয়ে কথা উঠছে তাদের অনেকের  অশ্লিল বক্তব্যের ভিডিও, অশ্রাব্য শ্লোগানের প্ল্যাকাড’ হাতে ছবি পত্র-পত্রিকা-সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে আছে। আমরা অবিভাবক হিসাবে দেশের ভবিষৎ প্রজন্মকে ধংসের হাত থেকে বাচানোর জন্য সেই সন্তানদের দিয়ে সংশোধনের সুচনা করতে পারি।যদি আমরা পারবারিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে না পারি শুধু প্রশাসন দিয়ে সব জঞ্জাল সরানো যাবে না , সব সমস্যার সমাধান আশা করাও যাবে না।

অতি বৃষ্টির ভেতর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেয়াকে কেন্দ্র করে কিছু পরীক্ষাথী’দের অশোভন আচার-আচরণ দেখছি তাতে মনে হচ্ছে জাতী হিসাবে আর পরিচয় দেবার কিছুই আর অবশিষ্ট নাই।পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন কেন? হলে গাড' কড়া কেন? আন্দোলনে কেউ  বোনের আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়েছে আবার  দশম শ্রেণির ছাত্র বলছে বড় ভাইদের সহানুভূতি জানাতে পাশে দাড়িয়েছে।সময় এসেছে সন্তানের দিকে অতি বেশি নজর দেবার। মানুষ বানাতে হবে কাগজের সাটিফিকেট দিয়ে সভ্য বানানো যাবে না।আফসোস হয় রাজনৈতিক  দলীয় নেতাদের কম'কান্ডে যারা ৫ মাস বয়সী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরীক্ষাথী’দের ঘুটি হিসাবে ব্যবহার করেছেন।যা প্রকারান্তরে দেশকে অস্থিতিশীল করতে গিয়ে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন। প্রথমে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আসলো ৮দফা দাবি পরে সরকার পতনের ডাক।সমালোচনা থাকবে এবং  করতে হবে  তবে  তা হতে গঠনমূলক,সমাধান করতে হবে আলোচনার মাধ্যমে।গনতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সামনে এগিয়ে নিতে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সরকারকে এক সেকেন্ড ক্ষমতায় শান্তিতে থাকতে দেব না পণ পরিহার করুণ।মনে রাখতে হবে এটা জুলাই,২৪ না জুলাই ২৬। এখন ক্ষমতায় ফ্যাসিস্ট সরকার নয় গনতান্ত্রিকভাবে নিবা'চনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নিবা'চীত সরকার। মানুষ অনেক ঠকেছে বন্দুকের সামনে বুক পেতে বারবার প্রতারিত হয়েছে।২৪শে আশা ছিল হয় নাই। সুতরাং সরকারের সমালোচনা করুন জনভোগান্তি পরিহার করে প্রতিবাদ করুন। সরকারকে তার নিধারিত' সময় পার করার সুযোগ দিন। তারা যদি জনগণের প্রত্যাশা পুরনে ব্যথ্য' হয় জনগণই নিবা'চনে ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখান করবে।আশায় থাকুন ধৈয্য' ধরুন।

দেশের  অগ্রগতি  ও দেশের শান্তির জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষিত সুনাগরিক। দেশের রাজনৈতিক দলের নেতাদের উচিৎ ছিলো বিপ্লবের পর ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফেরানো এবং  পড়াশোনায় মনোযোগী করা।কিন্তু  করা হয় নাই।বরং চর দখল করার মতো একদল গেছে আর একদল শিক্ষাংগনের দখল নিয়েছে আবার হয়তো অন্য কারো দখল  নেবার চেষ্টা হবে।কথায় কথায় মব হচ্ছে পড়াশোনা চাইতে অশোভন অশ্রাব্য গালিগালাজ উন্নয়নের  গবেষণা চলছে।কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের তাদের অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কমী’দের রাস টানবার চেষ্টা দেখা যায় নাই। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় এসবই বুমেরাং হয়ে নেতাদের গলা টিপে ধরে বলতে পারে  জুলাই বিপ্লবের পর জুলাই যোদ্ধারা যেভাবে  ইনটেরিম সরকারের উপদেষ্টাদের বলেছিল আমরাই আপনাদের  উপদেষ্টা বানিয়েছি। সুতরাং দল-মতের হাজারো পাথ’ক্য থাকতে পারে তাকে  দূরে রেখে সকল শিক্ষাংগন থেকে সকল মব এর  বৃষ বৃক্ষ কত দ্রুত কিভাবে  অপসারণ করা যায়, শিক্ষাংগনকে মানুষ গড়ার আংগিনায় রুপান্তর করা যায়  তার সিদ্ধান্ত  নিতে হবে।এসব করতে একাডেমিক কায'ক্রম ছাড়া  রাজনৈতিক কম'কান্ড সহ  নামে বেনামে সকল সাংগঠনিক কম’কান্ড নিষিদ্ধ করার কথা প্রয়োজনে ভাবতে হবে।

গুনীজনদের অভিমত একটা জাতিকে ধংস করতে এখন আর যুদ্ধের প্রয়োজন নাই, প্রয়োজন নাই দেশ দখলের।  তার শিক্ষা-সংস্কৃতি ধংস করতে হবে, সমাজকে মাদক ব্যাভিচারে ডুবিয়ে দিতে হবে।চারিদিকে তাকালে তার ছড়াছড়ি কল্পনার চাইতেও অনেক বেশি।গত দেড় দশকে শিক্ষাকে নিয়ে বারবার কাটা-ছেড়া পোষ্টমটে’ম করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে ছাত্র-শিক্ষকদের হাতিয়ার বানিয়ে শিক্ষাকে ধংস করা হয়েছে।ছাত্ররা আজ অটোপাশের জন্য আন্দোলন করে, শিক্ষককে বহিস্কারের জন্য আন্দোলন করে । ছাত্ররা এখন পড়ার টেবিলে নাই, লাইব্রেরিতে নাই। ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের পর কিছু অনৈতিক সুবিধা দিয়ে কিছু ছাত্রনেতাদের বিপথগামী করে ধন- সম্পদের মালিক বানানো হয়েছে ।তাদের দেখিয়ে অন্যদের মাঝেও নেতা হবার উদগ্র বাসনা জাগিয়ে দেয়া হয়েছে। চারিদিকে তাকিয়ে আজ কেন জানি আশংকা জাগে কাদের ষড়যন্ত্রে আমাদের এই সোনার ছেলেরা পড়াশুনার টেবিলে না বসে, ক্লাসে না গিয়ে রাস্তায় নামছে, কথায় কথায় মব তৈরি করছে।শিক্ষককে অপমান করছে, সিনিয়রদের যাকে তাকে ট্যাগ দিয়ে অপদস্ত করছে, আইন হাতে নিয়ে অরাজক অবস্থা তৈরি করছে।তারা কোথায় থাকে কোথায় খায়?মিছিল মাইকিং করার কারা দেয় অথে’র যোগান ? আমাদের সোনার ছেলে-মেয়েদের ভবিষৎ,তাদের স্বপ্নকে ধংস করছে দেশের ভবিষৎ কান্ডারীদের ধংস করছে। জানতে চাই কারা  সে  বংশীবাদক কে পারবে ওদের অগ্রযাত্রা করতে পথরোধ ?

প্রকাশ : দৈনিক গণমুক্তি   ১২/০৮/২০২৬ ইং

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA 

Thursday, July 30, 2026

উচ্চস্বরে ভয় তাড়ানোর গান

আন্ত’জাতিক আইন-কানুনের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে সব’শক্তিতে আমেরিকা-ইজরাইল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করা এবং ইরান তার প্রতিঘাত দিতে শুরু করায় আরব-পারস্য এলাকা আজ রণক্ষেত্র।আলোচনা হয়, যুদ্ধ বিরতির হয়,বিরতির সুযোগে অস্ত্রভান্ডার বাড়িয়ে আবার আক্রমণ।সেই রণ-দামামায় পুড়ছে তেল-গ্যস , ধংস হচ্ছে অজস্র অবকাঠামো ,আবাস, শিক্ষায়তন, চিকিৎসা-সেবা কেন্দ্র হাসপাতাল উপাসনালয়, বাড়ছে লাশের সারি প্রতিদিন।গৃহহীন লাখ লাখ মানুষ বিপন্ন মানবতা চারিদিক। জ্বালানি তেলের বাজার উদ্ধ’মূখীতে গোটা বিশ্ব অথ’নীতি আজ টালমাটাল।বৃহদ শক্তিশালী দেশের কাছে ছোট ছোট দূব’ল দেশ গুলির সাবো’ভৌমত্ব এবং মানুষের নিরাপত্বা হুমকীর সম্মুখীন।বৈদেশিক মুদ্রার যোগানদাতা আমাদের লক্ষ লক্ষ ভায়েরা মা-বাবা,স্ত্রী-সন্তান আপনজনবিহীন চরম বিপদের মাঝে আটকে পড়েছে।দেড় দশক পর গনতান্ত্রিকভাবে নিবা’চীত সরকার এমনি শংকটময় মুহুত্তে’ আজ ক্ষমতায়।

নিবা’চনের বাজারে কিছু এমপি হতে চাওয়া নেতা এবং তাদের অনুসারী কমী’দের অতি উচ্চ স্বরে অতিবিচ্ছিরি অতি কদয’ অতি শ্রুতিকটু অনাকংখিত বচন শুনেছি এবং অতি-দৃষ্টিকটু অঙ্গ-ভঙ্গী দেখেছি । তাদের অনেকেই জনরায় না পেয়ে  নিবা’চনে হেরেছেন। দেশে এখন নিবা'চীত নতুন সরকার। নতুন সরকারের শপথের আগেই শুনেছিলাম বিএনপিকে ক্ষমতায় এক সেকেন্ড ও শান্তিতে থাকতে না দেবার ডাক। তাই দেখছি ক্ষমতায় বসতে না বসতে কেউ আর একটা জুলাই বিপ্লবের ডাক দিচ্ছে, কেউ আবার ক্ষমতাসীন বিএনপিকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিচ্ছে।শিক্ষাঙ্গন দখলে নিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারে ছাত্র রাজনীতির বন্ধের আন্দোলনের নামে বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ ও শান্তি-শৃংখলা নষ্ট করার চেষ্টা দেখেছি।দেখেছি জ্বালানি তেলের ডিপোতে তেলের জন্য সুদীঘ’ লাইন,সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে ঘরে-বাহিরে বিষোধগার। কিন্তু সরকার-বিরোধীদলের কমিটির নাম না নিতেই সব লাইন দেখেছি হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো মিলিয়ে যেতে । আরও আছে  রসুনের কোষের মতো আকিকা ছাড়া  মুখোশের আড়ালে বাহারী নামের দলের দৃষ্টিকটু শ্রুতিকটু  হাক-ডাক ।এখন কথায় কথায় নতুন নতুন ইস্যু তৈরী করে রাস্তায় নেমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।

মাঝে মাঝে বড় বেশি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি।সত্তুরের আগের কথা। খুলনার বানিয়াখামারে বাড়ির সামনের রাস্তা  কাচামাটির  এবং এলাকাটিতে  তখন তেমন  জনবসতি ছিল না। রাস্তার দু’পাশে ঘন কাটাবনের  জঙ্গল। তার পাশে একটা  বিশাল বড় শীল কড়ই গাছ ।পাশে খালি ছোট এক টুকরা মাঠ পাশ দিয়ে বয়ে চলা খাল, জোয়ার-ভাটায় পানি ওঠা-নামা করে। সেই শীল কড়ই  গাছের গভীর ছায়ায় ভড় দুপুরেও তার নীচে রাতের মতো অনুভূত হত, ভয় লাগতো।বিদ্যুৎ ছিল না।রাতে পরিবার গুলি কেরোসিনের কুপি বাতি বা হারিকেন বাতির  উপর নির্ভর ছিল।অন্ধকার রাতে ভয়ংকর মনে হওয়ায় রাস্তায় চলাচল করতে বড় বেশি সাহসের প্রয়োজন ছিল। ঘড়ের পশ্চীমের জানালা খুললে দেখা যেত শীল কড়ই গাছ।ভাই-বোন সবাই ভয় পেতাম । তাই সন্ধ্যা না হতে জানালা বন্ধ রাখা হতো। সন্ধ্যার পর রাস্তা  দিয়ে ঘরে ফেরা দ্রুত ধাবমান কারো না কারো যাওয়ার সময় প্রতিদিনই ঘরে বসেই অতি উচ্চস্বরে  অসংলগ্ন বেসুরো গলার গান শুনতে পেতাম। কৌতূহলী হয়ে কেন তারা এমন ভাবে গান গায় একবার মা এর কাছে জানতে চেয়েছিলাম । তিনি বলেছিলেন যে তারা  অন্ধকারের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ভীষণ ভয়ে থাকে  আর সেই ভয় মন থেকে তাড়াতেই উচ্চ স্বরে তাদের ভয় তাড়ানোর গান গাওয়া। তিনি অনেক আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তার সে কথা এত বছর পরও আমার মনে রয়ে গেছে।

আজ বিভিন্ন নেতা-কমী’ তাদের অনুসারীদের বচন-বাচন হাক-ডাক শুনে  অনেক আগের সেই বিশাল বড় শীল কড়ই  গাছ পার  হতে থাকা ভীত ধাবমান পথচারীদের ভয় তাড়ানো গানের কথা মনে পড়ছে। কারণ হাদীর খুনী ধরা পড়ছে না কেন তার বিচার নিশ্চিত করছে না কেন , বিএনপির একজন প্রবীন নেতাকে সেই খুনের আসামী করে তাকে চাদাবাজ বলে তিরস্কার করতে করতে তাকে মৃত্যুর মুখে দাড় করিয়ে ক্ষান্ত দেয় নাই।তার মৃত্যুও কামনা করেছে।নেতার নাম ধরে চিৎকার করে বক্সিং মেশিনে সজোরে ঘুষি মারতে দেখেছি।কমী’দের দিয়ে নেতা-নেত্রী,তাদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য ফটোকাড’ সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে প্রপাগান্ডা করেছে।আইনী ব্যবস্থা নিলে দলের বড় নেতারা বাকস্বাধীনতার প্রশ্ন তুলেছেন।হাদীর খুনের আসামী যখন ভারতে ধরা পড়েছে এবং সরকার যখন তাকে আনার  চেষ্টা করেছে তখন দেখেছি আবার আওয়াজ তুলছে জজমিয়া নাটক নতুন করে সাজিয়ে সরকার তাদের অনেক নেতাকে আটকাতে পারে। প্রশ্ন জাগতেই পারে এরা কি নিজেদের কোন অনৈতিক কম’কান্ডের কারণে মনে মনে ভয় পাচ্ছে, তারা কি কোনো না কোনো ভাবে কোনো অপরাধে জড়িত থাকায় নিজেদের অপরাধী ভাবছে? ভয় তাড়ানোর জন্য তারা কি উচ্চস্বরে, অস্বাভাবিক অশালীন শব্দ চয়ন করে  তাদের ভেতরের সেই উদ্বেগ সেই ভয় ভুলে থাকবার  চেষ্টা করেছে?

আমরা এখন আর  কেউ কমী' অনুসারী কিংবা দশ'ক নই, চাই সবাই এখন নেতা হ'তে। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিষ্ট সরকারের নেতা কমী’ এবং জুলাই বিপ্লবের কিছু নেতা কমী’দের অবস্থা দেখে সবাই এখন ধরেই নিয়েছে নেতা  হওয়া মানেই অতিদ্রুত  গাড়ি -বাড়ির মালিক, নিশ্চিত কোটিপতি। জন-মানুষের প্রকৃত নেতা হতে হলে নিজেকে আগে পরিশুদ্ধ করতে হবে ভাবছি না। নিজেকে অন্যদের থেকে যোগ্য হতে  হবে ভাবছি না।নেতা হতে হলে নম্র-ভদ্র বিনয়ের সাথে  সম্মান দিতে এবং সম্মান নিতে শিখতে হয়, মাটি ও মানুষের ভালোবাসা পাইতে হয় ভাবতে চাই না।অশ্লীল অশালীন আচার-আচরণ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত ভদ্রতা -নম্রতা, শালীনতার আবহ নষ্ট করে নেতা হবার নয়,নেতা হতে হলে ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রয়োজন।মব তৈরি করে, উচ্চস্বরে চার হাত পা ছুড়ে আস্ফালন  করে হাস্যরসের যোগান দিয়ে কিছু মানুষের উচ্ছ্বাস, শীৎকার আর  হাত তালিতে নেতা হওয়া সম্ভব হলে, রাস্তার  ফুটপাতে দাঁড়িয়ে যারা চুলকানির মলম বিক্রি করে তারাও কি হতে পারতো না যোগ্য নেতা?

আসুন শালীন অশালীন বোঝার চেষ্টা করে আমরা ভদ্র হবার চেষ্টা করি।শান্তি –সম্প্রীতির পরিবেশ মজবুত করি। শংকরের কোনো এক লেখায় পড়েছিলাম মন যা চায় তা করতে পশুও চায় পাথ’ক্য মানুষের আছে সংযম পশুদের তা নাই।তাই মনকে বোঝাতে হবে অকস্মাৎ  রাত না পোহাতে শ্রদ্ধাহীন ভালোবাসাহীন ঘৃণা আর আতংকের দানব হওয়া যায়, জোকার, ভিলেন হওয়া যায় কিন্তু জন-মানুষের  শ্রদ্ধার পাত্র, প্রাণের নেতা  হওয়া যায় নারে পাগলা। তবুও কেন জানি  চারিদিকে দেখি  বসেছে পাগলের মেলা।এমন লক্ষণে বারবার প্রতারিত হয়ে দেশের  ভবিষ্যত ভাল হবে  আশা করতে পারি কিভাবে ?

নতুন সরকার দেশের বেহাল অবস্থায় হাল ধরতে চাইছেন।সরকারের ভুলত্রুটির গঠনমূলক সমালোচনা হবে সংশোধনের সময় দিতে হবে।দেশের ভেতরে জঙ্গী তৎপরতার হুমকীর কথা উঠছে,প্রতিবেশী দেশের পশ্চীম বাংলায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার, দেশের ভেতর ভারতপ্রেমীদের আস্ফালন,ডিসেম্বরে আসতে চাইছে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার, জাতিসঙ্ঘে অগাষ্টিনা চাকমাদের দেশ বিরোধী মিথ্যাচার, পাহাড়েও অশান্ত ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ষড়যন্ত্রের আলামত।ভাবতে হবে ইরানের মতো সরকারকে বিব্রত করতে কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নের আমাদের কেউ কোনো ভুমিকা রাখছি কিনা। ক্ষত-বিক্ষত ইরানকে সামনে রেখে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কারো মাসে'নারি হয়ে কাজ করবো নাকি দেশ প্রেমিক হয়ে দেশের সাবো’ভৌম রক্ষা করা ও দেশের মানুষের শান্তির জন্য কাজ করবো ? সময় এখনই দেশ-প্রেমিক হতেই হবে, আর কোন বিকল্প নাই।

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA

প্রকাশ : দৈনিক গণ্মুক্তি  ৩০/০৭/২০২৬ ইং

Tuesday, July 28, 2026

সবার আগে বাংলদেশ

আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জুলাই বিপ্লবের পর থেকে শুরু হয়েছিল বিশেষ একটা দলের নানা রকমের ফাদ পাতা।দীর্ঘ দেড় দশক আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে লাখ লাখ বিএনপির নেতা-কর্মী গনতন্ত্রের দাবীতে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে জেল-জুলুম ,গুম-খুন, হামলা-মামলা,ঘড় ছাড়া-বাড়ি ছাড়া, স্ত্রী -সন্তান পরিবার-পরিজন ছাড়া, নিপীড়ন -নিযা'তনে পযু'দস্ত, কিন্তু  নিজেদের পরিচয় লুকায় নাই, নাম পাল্টায় নাই দল পাল্টায় নাই, মোনাফেকি করে নিজেদের আদশ' দলের প্রতি আনুগত্য অন্য দলের কাছে বিকায় নাই। পালিয়ে বেড়িয়েছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে।কোথাও দিন মুজুর কোথাও রিক্সা চালিয়ে খেয়ে না খেয়ে নি’ঘুম রাত কাটিয়েছে, সপ্তাহ-মাস বছর হিসাব নাই।বিপ্লবের পর সেই  নিবা'চনের কথা বলতেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের চাদাবাজ, সেই দলকে নব্য ফ্যাসিবাদ বলে দেশের মানুষের কাছে চিহ্নিত করতে এহেন কোনো প্রপাগাণ্ডা নাই যা তারা করে নাই।অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল লীগ নাই জাপা নাই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারলেই মঈন-ফখরুদ্দিনের মাইনাস টু ফরমুলা বাস্তবায়ন হবে, নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যাবে।পরিকল্পনা অনুসারে নিজেদের মত বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে ফেলা যাবে।মুছে ফেলা যাবে ৭১ এর নিজেদের বিত'কিত পুতি-গন্ধময় কম'কান্ড।সেই  পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বারবার ব্যথ' হয়েছে।

রাজনীতি আগের সেই সম্মানের জায়গায় নাই। রাজনীতি এখন গরীব ধনী হয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবার পুজিবিহীন ব্যবসা। রাজনীতিতে এখন ভালো মানুষ ঢুকলে ভালো থাকতে পারে না।সব রাজনৈতিক দলের মতই বিএনপিতেও খারাপ মানুষ আছে,অস্বীকার করা যাবে না।কমী' এবং অনুসারীর সংখ্যা অনুপাতে অপরাধের সংখ্যা ও ভালো কাজের সংখ্যা  অন্য দলের তুলনায়  বেশি হবারই কথা । কথায় আছে হাতী যেমন তার লাদাও তেমনই তো হবে। দল অপরাধের প্রমাণ পেলে কেন্দ্র থেকে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করছে কিন্তু তার প্রচার নাই। নিবা'চনের আগে এবং পরে  বিএনপির বিরুদ্ধে  এনসিপির নেতারাও মাঠে নেমে  যে নোংরা বিদ্রুপ এবং শ্লেষাত্মক আক্রমণ মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালিয়েছে তা জাতি আশা করে নাই। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংঘাত এড়াতে  প্রশংসাতিত ধৈয্য’ এবং সংযম দেখিয়েছে।তারা বুঝতে পারে নাই বিএনপি কমী’ নিভ’র  দল নয় তার সাথে সম্পক’ মাটি ও মানুষের, তারাই দলের প্রান শক্তি।

অবশেষে  সকল ছলা-কলা ব্যথ' করে সাধারন মাটি ও মানুষের ৫১% ভোটে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বিএনপি জয় লাভ করেছে।বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার কমিটির সদস্য  হিসাবে শপথ না নেয়ায় তাদের গাদ্দার বলা হয়েছে।কেউ আবার  নতুন বিপ্লবের ডাক দিচ্ছেন।স্মরণ করা প্রয়োজন ইনটেরিম সরকারের ঘটা  করে উদযাপিত জুলাই সনদ সই করার নিধা'রিত দিন বিএনপি উপস্থিত থেকে সনদে সই করেছে।এনসিপি  কি সই করেছিল, করে নাই।শোনা যায় সই করেছে উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের শেষ কম'দিবসে।জুলাই বিপ্লব পরবর্তীতে সমন্বয়কদের ইনটেরিম সরকারের সহযোগী হবার কথা নয় তারা হয়েছে।অনৈতিক কম'কান্ডে জড়িয়ে জাতির  প্রত্যাশার নতুন সুয্য' না উঠতেই  সমন্বয়করা কোটি টাকার গাড়ি, কোটি  টাকার মালিক হয়ে  জাতির সাথে প্রথম গাদ্দারী করেছে। জুলাই সনদে সই না করে  তারা সেদিন কক্সবাজারে সমুদ্রবিলাসে গিয়ে  জাতির সাথে দ্বিতীয়বার বেঈমানী করেছে।শোনা যায় নিবা’চনে বিএনপির সাথে আসন ভাগাভাগিতে ব্যথ'-ব্যাথিত হয়ে  জুলাই বিপ্লবের পর জামায়াতকে গালাগাল করা একেবারেই বিলীনপ্রায়  দলের কয়েক নেতা এমপি পদের জন্য সেই জামায়াতের সাথে জোট করে নিবা'চন করে আবারও জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। ফলে যারা দেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী হীরো হবার কথা তারা জামায়াতের ছায়াতলে থেকে মাত্র ৩% ভোট পেয়ে  কোনোভাবে টিকে আজ ভিলেনে পরিনত হতে যাচ্ছে। তারা বুঝতে পারে নাই অতিদ্রুত দল করে রাজনৈতিক নেতা হয়ে ,ক্ষমতার মজা নিয়ে, নানা রকম অনৈতিক কম’কান্ডে জড়িয়ে, সেনাবাহিনীকে বিত’কিত করতে গিয়ে,সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা,সরকারী কম’কতা’ শিক্ষকদের সাথে শিষ্টাচার বহি’ভুত আচার-আচরণ করে সারাক্ষন জামাতকে গালি দিয়ে,একটা এমপি হতে তাদের সাথে জোট করে মানুষের মাঝে তাদের আকাশ্চুম্বী গ্রহন যোগ্যতা কতখানি নিচে নামিয়েছে।

মনে রাখতে হবে  বিএনপি জুলাই সনদ দিয়ে জনগণের রায় পায় নাই তারা তাদের ৩১ দফার দলীয় ম্যানুফেষ্ট দিয়ে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতা এসেছে।তারা জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার কমিটি সদস্য হিসাবে নয় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে নিবা’চীত হয়েছেন। জুলাই সনদ মানবে না তারা কখনো বলেও নাই।বরং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুন'বাসনের অংগীকার করেছে বহুবার।তারা বলছে সনদ অনুযায়ী অক্ষরে অক্ষরে  সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। তাই নিজেদের ব্যথ'তা এবং অপরাধ থেকে বাচতে ক্ষমতার চেয়ারে বসতে না বসতে পাচ মাস বয়সী সরকারকে  ফেলে দেবার শ্লোগান তোলা কারো ঠিক হয় নাই। দীঘ' দেড় দশক পর গনতান্ত্রিক পন্থায় নিবা'চনের মাধ্যমে নিবা'চীত সরকারকে সহায়তা করা সবারই দায়িত্ব।মতবিরোধ থাকবে কিন্তু গনতন্ত্রের সৌন্দয্য' আলাপ আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।মেনে নিলাম আজকের বিরোধীদল খুব বেশি আশাবাদী ছিল ক্ষমতায় যাবার কিন্তু  হয় নাই। তাতে ক্ষোভ থাকতেই পারে কিন্তু দেশ ও দেশের মানুষের শান্তির জন্য বিজয়ী দলকে সময় দিতে অসুবিধা কোথায়? এখন উদ্দেশ্যই যদি হয় দেশ ও দেশের মানুষ গোল্লায় যাক আমরা যেহেতু ক্ষমতায় যাইতে পারি নাই সুতরাং এক মুহুত্ত’ কাউকে ক্ষমতায় শান্তিতে থাকতে দেব না তাতে আশংকা জাগে।তখন জামাত-এনসিপি জোট কারো ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হয়ে কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে জন রায়ের বিরুদ্ধে দেশের ভেতর অরাজকতায় নামার আগে খুব বেশি  ভাবতে হবে।

ভুলে গেলে চলবে না জুলাই বিপ্লবে নাহিদ-হাসনাত-সারজিসরা  গ্রেফতার হয়ে বহুল আলোচীত ডিবি হারুনের খাবার হোটেলের টেবিলে থাকতেই আন্দোলন  শেষ হয়ে যেত যদি না সেদিন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ছেলেরা, সকল পেশার সব’স্তরের সাধারন মানুষ নতুনভাবে জেগে উঠে রাস্তায় না নামতো।আজকে সব ভুলে জামাত-এনসিপি জোট একমাত্র নিজেদেরই একক কৃতিত্ব দাবী করে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মত ২৪ এর চেতনা বেচতে শুরু করে যখন তখন যাকে যেভাবে হুমকি দিয়ে ভুল করছে।এক সময় তারা যে সেনাপ্রধান এবং তার বাহিনীর নিরপেক্ষতায় বিপ্লব সফল হয়েছিল  তাকেও কম বিব্রত করতে, কটাক্ষ করতে ভাবে  নাই।সেই সেনা প্রধান এবং তার বাহিনীর নিরলস চেষ্টা, নিরপেক্ষতায় আবারও একটা রক্তপাতহীন নিবাচ’ন জাতিকে উপহার দিয়ে প্রমান করলেন রাজনৈতিক নেতারা দেশে সমস্যা তৈরী  করে আর শেষে জাতির গব’ সেনাবাহিনীকে সমাধানে রাস্তায় নামতে হয়।স্মরণে রাখতে হবে জুলাই বিপ্লবের জুলাই যোদ্ধাদের দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে কিন্তু বিপ্লবের পর অনৈতিক কর্মকান্ডের দায়মুক্তি জাতি কোনো নেতাকে  দেয় নাই।

বত'মান অবস্থায় দেশ আর কোনো অরাজকতার চাপ নিতে পারবে, মনে হয় না।সরকার দলীয় মন্ত্রী–এমপি, নেতা-কমী’দের সচেতন হতে হবে,মিডিয়ায় কাভারেজ পেতে অতিআবেগ অতিবাচলতা ত্যাগ করতে হবে,দেশের কোন নাগরিক কোনভাবে কোনো নেতা-কমী’দের দ্বারা যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়  সতক’ থাকতে হবে। চারিদিকে হাজার লক্ষ চোখ ত্রুটি ধরতে অপেক্ষায় আছে।আছে তিলকে তাল করে উদর পিন্ডি বুদর ঘাড়ে চাপিয়ে প্রপাগান্ডা ছড়াতে।একটু ভুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের  সকল অজ’ন ম্লান হতে পারে,তার জনকল্যানের সকল প্লান ভেস্তে যেতে পারে।গত রোজায় জামায়াতের ইফতার পাটি’তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের বক্তব্য শুনে আশাবাদী হয়েছিলাম একে অপরের প্রতি হুমকী ধামকি কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হবে কিন্তু হয় নাই।আমরা দেখেছি রাজপথে আমেরিকার ইরান আক্রমণের প্রতিবাদ মিছিলে “ ইরানে হামলা কেন বিএনপি জবাব চাই” “ইরানে হামলা কেন তারেক জিয়া জবাব চাই” শ্লোগান, প্রতিপক্ষ নেতাদের নিয়ে কুরুচীপুণ’ পোষ্ট ,ডাকসু , রাকসুর নেতাদের ন্যাক্কারজনক অশালীন বক্তব্য শুনেছি। এখন তাদেরই কেউ কেউ প্রশ্নপত্র কঠিন কেন, হলে গাড’ কঠিন কেন এমন বাহানায় শিক্ষা-মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবীতে অভব্য--অসভ্য আচরণ করা পরীক্ষাথী’দের উৎসাহ দিচ্ছেন।আফসোস হয় কি শিক্ষা অতীত থেকে আমরা পেলাম ? রাষ্ট্রের সংস্কার চাইছি অথচ নিজেদের সংস্কার করতে পারি নাই।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চীম বাংলার নিবা’চনে উগ্র কট্ট’র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ক্ষমতায়ন।সীমান্তে পুশ-ইন  এর চেষ্টা, বিভিন্নভাবে দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে দিয়ে শান্তি-সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেশের গাইবান্ধায় বিশাল রামমুতি’ নিমা’নের নামে একটা ফাদ পাতা হয়েছে, সারাবিশ্ব জুড়ে  যুদ্ধাবস্থায় দেশকে অস্থিতিশীল করে  দেশের স্বাধীনতা- সাবো'ভৌমকে বিপন্ন করার চেষ্টা চলছে।এমন অবস্থায় দেশ ও দেশের মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য  অতি প্রয়োজন এখন  জাতীয় ঐক্য এবং সকলের দেশ-প্রেমিক হবার।সবাই মিলেমিশে কাধে কাধ রেখে আসুন দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করে আত্ননির্ভরশীল একটা সুন্দর নিরাপদ বাংলাদেশের গবী'ত নাগরিক হবার চেষ্টা করি।মনে-প্রানে ধারন করে নিজেদের জীবনে তা লালন-পালন করতে আওয়াজ  তুলি  “ আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা , সবার আগে বাংলদেশ” ।

প্রকাশ ঃ দৈনিক গণমুক্তি   ঃ ২৮/০৭/২০২৬ ইং

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA


Sunday, July 5, 2026

দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে

মুতি' কত বড় হবে তা দিয়ে ভক্তের ভক্তি পরিমাপ করা যায় না। বিশ্বের সব'বৃহত  হিন্দু রাস্ট্র ভারতেও এতো বড় মুতি' আছে কিনা জানা নাই।রাম ভারত বষে' কখনো পুজার দেবতা ছিলেন না। কট্টর  উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ধম'নিরপেক্ষ ভারতকে হিন্দুত্ববাদী রাস্ট্র বানাতে রামকে হাতিয়ার বানিয়েছেন। ভারতজুড়ে উগ্র সাম্প্রদায়িক দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর জয় শ্রীরামের নামে গো-মাংস রাখার অজুহাতে নিব্বি'চারে মুসলমানদের উপর নিম'ম নিপীড়ন নিযা'তনে আহত নিহত করা হয়েছে, বুলডোজার নীতি অবলম্বন করে বসতভিটা থেকে  উচ্ছেদ করা হয়েছে, ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ সহ অসংখ্য মসজিদ -মাদ্রাসা ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে ভারতকে মুসলমানদের রক্তে রক্তাক্ত করা হয়েছে, নিপীড়িত মুসলমানদের অশ্রুজল আর গংগা-যমুনা, নম'দা, সবরমতী, সরযু নদীর জলকে  একাকার করা হয়েছে।সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্য পশ্চিমবাংলায়  মমতা ব্যানাজি’র তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকায় এতদিন তেমন সাম্প্রদায়িক হানাহানি ছিল না।কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলে  শুভেন্দ্রুর বিজেপি সরকার জয়শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে একই কায়দায় মুসলমানদের মসজিদ-মাদ্রাসা ভাংচুর করছে,মুসলমান নিধন করছে ,মুসলমান উচ্ছেদ করছে। মনে হয় পশ্চিমবাংলার মুসলমান বাসিন্দাদের বিতারণের পণ করে যেন সে ক্ষমতায় বসেছে।প্রতিদিন ভারতীয় বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশে পুশ ইন করতে চেষ্টা চালিয়ে সীমান্তকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
ধম'-বণ' নিব্বি'শেষে শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য উদাহরন বাংলাদেশ।যার ধম' সে পালন করবে তাতে কারো বাধা দেয়ার অধিকার নাই।সমস্যা রংপুর বিভাগের অতি স্পর্শকাতর গাইবান্ধা জেলার কেশবপুরে বিভিন্ন মতবাদের মাত্র ১৫/১৬ হাজার সনাতনী অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকায়  বিত'কিত ব্যাক্তির কথিত নিজ উদ্দ্যগে বিভিন্ন দেব-দেবীর মুতি’ সহ অতিকায় রাম মুতি’ নিমা'ন ।শোনা যাচ্ছে সেখানে অন্যান্য দেব-দেবীর মুতি'র সাথে সু-উচ্চ শ্রীরামের মুতি’ তৈরি প্রায় শেষ হওয়ার পথে।সেই খবরে পক্ষ-বিপক্ষ বাদ-প্রতিবাদ উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়ায় প্রশাসন কাজ বন্ধ রাখার আদেশ দিয়েছে।শান্তি ও সম্প্রীতির সবার সমান অধিকারের বাংলাদেশে বিভিন্ন ধমে’র বিভিন্ন ভাষা-ভাষীর বসবাস সবাই বাংলাদেশী।দেশে মন্দির হবে সেখানে মুতি’ হবে যার ধম' সে পালন করবে বাধা হবে কেন?
মন্দির, প্রতিমা বানানো নিয়ে কোনো কালে কোনো আপত্তি কি ছিলো বাংলাদেশে? গাইবান্ধার  মাত্র কয়েক হাজার হিন্দু অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকায় কেন এতো বিশাল আয়োজন?যেখানে প্রতিবেশী দেশের বড় বড় নেতারা হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন রংপুরের চিকেন নেক দখলে নেবার।কেউ কেউ প্রকাশ্যে জানান দিচ্ছে বাংলাদেশকে গাজা বানাবার খায়েশের কথা। বাংলাদেশে সদ্যনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী হেটে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন দুই দেশে একই আকাশ একই বাতাস। তিনি উভয় দেশের ১৬০ কোটি মানুষের শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, অভিন্ন স্বপ্নও আছে বলেছেন।তিনি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে। অখন্ড ভারত সাম্রাজ্যের স্বপ্নের  দিনেশ ত্রিবেদীর কি অসাধারণ কূটনৈতিক প্রকাশ। আমাদের দেশের জন্য আশংকা জাগে কিন্তু সাংবাদিকদের কেউ প্রশ্ন করতে পারেন নাই যে এতো বড়  স্বপ্নের মাঝে কেন ভারতে মুসলমানদের উপর এতো বেশি পৈশাচিক নিপীড়ন-নিযা’তন চলছে? কেন পুশ ইন করে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ানো হচ্ছে ?কেন জুলাই বিপ্লবকে মেনে নেয়া হয় নাই বরং জুলাই বিপ্লবে নিব্বি’চারে মানুষ হত্যা দীঘ’ সতের বছর গুম-খুনের দায়ে দণ্ডিত অপরাধী এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের প্রশ্রয় দিয়ে সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কম’কান্ড চালাবার সুযোগ দেয়া হচ্ছে? অভিন্ন নদীর উজানে বাধ দিয়ে কেন শুকনো মরশুমে বাংলাদেশের মানুষদের খরায় শুকিয়ে আর ভরা বষা’য় ডুবিয়ে মারছে ? কেনই বা বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশি মানুষ মেরে গরু চোরাকারবারী বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে ? চির বৈরি পাক-ভারত সীমান্তে এমন ঘটনা কখনো কি  ঘটে ? কিন্ত পোষ্য দালাল “ আমরা ছোট্ট দেশ, আপনারা আমাদের পাশে বৃহৎ শক্তি, আপনারা আমাদের লালন-পালন করবেন  ” বলতে ভুল করি নাই। 
আমাদের দেশের হিন্দু মহাজোটের বড় এক নেতা  যিনি বাংলাদেশকে দখল করতে ভারতকে আহবান করেছিলেন আজ  তিনি গাইবান্ধার মত সারা বাংলাদেশে একইভাবে মন্দির মূতি' বানানোর হুমকি দিচ্ছে? অন্য এক হিন্দু মহাজোটের নেতা যার সাথে পশ্চীমবাংলার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের হাস্যজ্জল ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাসছে তিনি শাহবাগে দাড়িয়ে রংপুর থেকে মুসলমানদের চলে যেতে বলছেন।যে কোনো ভাবেই গাইবান্ধায় তারা রাম মন্দির করবে?  আরেক জন হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ দাবি করছেন। আমার সোনারবাংলার চারিদিকে তাই আজ দেখি কেবল শুকুন আর হায়েনার দল যারা খুবলে খেতে  চায় আমার মাতৃভুমি বাংলাদেশকে। প্রশ্ন,কোথায় পাচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলার এতো সাহস এতো শক্তি?
জুলাই বিপ্লবের পর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক শুন্যতায় বাংলাদেশে জয়শ্রী রাম আমদানি হয়েছে।সেদিন জয়শ্রী রাম শ্লোগানের সাথে "রক্তে আগুন লেগেছে, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায় স্লোগান ছিল।এমন আন্দোলনের মাঝে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে আলীফ নামের এক আইনজীবিকে হত্যা করা হয়। আজ আরও সংঘটিত হয়ে  গাইবান্ধা এবং   ঢাকায় তারই আবার শোডাউন হচ্ছে। সুতরাং গাইবান্ধার বিষয়  ধমী'য় নয় রাজনৈতিক, আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র।গাইবান্ধার কেশবপুরের মন্দির বাংলাদেশীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটা ফাদ।আমাদের দেশের কিছু মানুষ ভারতের প্রতি অতি বেশি  অনুরক্ত, হতেই পারে ভারত তাদের তীথ'স্থান। কিন্তু বড় সমস্যা, মনে তাদের বড় সাধ ভারতের সাথে একিভুত হবার।তারাই ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হয়ে দেশকে আজ অস্থিতিশীল করতে চাইছে।১৮ কোটী মানুষের বাংলাদেশ শান্তি-সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।পাশাপাশি খালি কলস থাকলেও ধাক্কাধাক্কি লাগে।ব্যাক্তিগত,আথি’ক দেনা-পাওনা,সহায়-সম্পত্তির লোভে রাজনৈতিক দন্দ সহ নানা কারণে মারামারি খুনা-খুনি হলেও কখনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নজির নাই। রামের মূতি'কে যারা অপমান করেছে তাদের অন্যায় আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।ইসলামে অন্য ধমে'র দেব-দেবীকে গালি দেয়া নিষিদ্ধ আমরা তাদের ঘৃণা করি এবং অপরাধীদের দৃস্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করি।
শান্তি-সম্প্রীতির সেই বাংলাদেশকে আজ একটা দাঙ্গা বাধিয়ে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে।এমন সুযোগে দেখলাম বরিশালে ১৪ বছর আগে ক্রয়কৃত জমিতে বিল্ডিং করে বসবাস,এতোদিন  কোন দাবি নাই কোট' কাছারিতে মামলা নাই । মালিক দাড়ি টুপি পড়া এক ভদ্রলোক তাকে জংগী ট্যাগ লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে প্ল্যাকাড’ নিয়ে মানব বন্ধন করছেন একদল সনাতনী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায়  আস্তে আস্তে সব পালাতে থাকে। আমাদের দু'ভাগ্য আমরা সুপ্রতিবেশী পাই নাই আর ইচ্ছা করলেও তা পরিবত'ন করা সম্ভব নয়। এদেশে তাদের অনেক দালাল আছে কিন্তু সেদেশে আমাদের কোন দালাল নাই। সে দেশে সংখ্যালঘুরা এতো অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করছে কিন্তু তাদের  মাতৃভুমি ছাড়তে চায় না কারণ তারা দেশ প্রেমিক,তাদের তাড়াতে পুশ ইন করতে হয় আর আমরা দালালরা এক পা ওপারে রেখে সারাক্ষণ দাড়িয়ে থাকি অপেক্ষায়।প্রশ্ন দেশের সাবো'ভৌমত্বের উপর  হুমকী গাইবান্ধার  এমন প্রকল্প এতো দ্রুত  কিভাবে বাস্তবায়ন হলো? সেখানকার  স্থানীয় প্রশাসন,দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা, ধমী’য় নেতারা এতো দিন কোথায় ছিলেন? দেশের   বত'মান পরিস্থিতির দায় তারা কি এড়িয়ে যেতে পারবেন?
আবেগের এখন আর সময় নাই ।দেখি বেটা করে কি ভাবারও সময় নাই।প্রিয়া সাহার মাকি'ন প্রেসিডেন্টের কাছে নালিশের কথা আমরা ভুলে গেছি।তারা কিন্তু তাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে।সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে নতুবা পচতাতে হবে।স্মরণে রাখা প্রয়োজন ইরানে আমেরিকা-ইজরাইলের যৌথ আক্রমণের আগে সরকার পতনের লক্ষে ইরানের অভ্যন্তরে মোসাদের এজেন্ট দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভ তৈরি করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে আমাদের দেশের সীমান্তের ওপারে ইজরাইলের এক বিত’কিত ব্যাক্তিকে দেখা গেছে। শুধু তাই নয় ভারতে নিযুক্ত ইজরাইলী দুতের বাংলাদেশে হামাসের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছে।সরকারের উচিৎ যারা দাঙ্গা বাধিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে তাদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা ।শুধু সরকার নয়, আমাদের মনে রাখতে হবে যারা দাঙ্গা বাধিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, তারা সবাই অথ’বিত্তের মালিক সমস্যা দেখলে বাকি এক পা তুলে ওপারে আয়েশি জীবন-যাপন করবে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশের সাধারণ মানুষ। তাই দেশদ্রোহী, বাটপার  প্রতারকদের হাত থেকে দেশকে বাচাতে দেশ প্রেমিক দল-মত , ধম'-বণ' নিব্বি'শেষে সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে সরকারের পাশে দাড়াতে হবে।অন্যথায় আধিপত্যবাদী- সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে বিপন্ন হতে পারে অনেক অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমার দেশের স্বাধীনতা ।

Sunday, May 31, 2026

সেই পণ পরিত্যাগ করে নাই

দেশে একটা কথা আছে কারো ঘর পোড়ে আর কেউ তাতে আলু পুড়িয়ে খায়। নৃশংসভাবে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে নিহতের মা-বাবার সাথে দেশবাসী ব্যাথিত-মমা'হত শোকাহত। হত্যাকারীর দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তিতে সবাই দাঁড়িয়েছে এক কাতারে। সরকারও নিশ্চিত করছে শাস্তি হবে সর্বোচ্চ এবং অতিদ্রুত। আফসোস সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলের নেতারা সেই শোকাবহ বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে শোকাহত মানুষের আবেগকে সদ্য প্রসুত গনতান্ত্রিকভাবে ভোটে নিবা'চীত সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতে চেষ্টা করছেন।নিবা'চনে পরাজিত হয়ে সরকার গঠনের আগেই তারা বলেছিল এই সরকারকে ক্ষমতায় একদিনও শান্তিতে থাকতে দেব না। দেখা যাচ্ছে তারা আজও সেই পণ পরিত্যাগ করে নাই।
মানুষের শোকাবহ আবেগকে কাজে লাগিয়ে চারিদিকে মব দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। সরকার প্রধান তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীকে নিয়ে শোকাহত পরিবারের বাসায় তাদের সান্ত্বনা দিতে গেলে সেখানে মব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভুয়া ভুয়া শোর তোলা হয়েছে তা ঠিক হয় নাই । তিন মাস বয়সী সরকারকে আমরা ব্যথ' বলার বোধকরি সময় আসে নাই।ঘটনার কয়েক ঘন্টার ভেতর আসামি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যথ'তা কোথায় তার পদত্যাগের দাবি কেন? সংসদে তার বক্তব্যের সামনে বিরোধী নেতারা ধরাশায়ী কারণ কি তাই ? ভাবতে হবে সীমান্তে অস্থিরতা দেখা যাছে জাতীয় ঐক্যের এখন খুব বেশি প্রয়োজন। এমন সময় তিন মাস বয়সী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ছলা-কলা কুটচালের আশ্রয় নিলে গনতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বাধা গ্রস্ত করা হবে তাতে দেশের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে ।
নেতারা যদি না বুঝেন, প্রত্যক দলে অনেক বড় বড় উকিল ব্যারিস্টার আছেন তাদের নিয়ে বসুন জানতে চান দেশের অপরাধীর বিচারের দীর্ঘ সুত্রিতার দায় কার? গলদ কোথায়? সবাইকে নিয়ে বসুন আলাপ আলোচনা করুন কিভাবে হত্যা ধষ'ণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা যায় অপরাধীকে অতিদ্রুত শাস্তির আওতায় আনা যায়।একেবারে ধংসপ্রায় শিক্ষাংগনে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে ছাত্রদের কিভাবে পড়ার টেবিলে ফেরানো যায় তার ব্যবস্থা করুন। জনগণ ভোট দিয়ে রাস্তায় নয় আপনাদের সংসদে পাঠিয়েছে সরকারের দোষ -ত্রুটির সমালোচনা করতে, অপরাধ একেবারে নিমু'ল করা যাবে না তবে নিয়ন্ত্রণ করার আইন করতে এবং তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
সময় এখন রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সতের বছরের গনতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে গনতান্ত্রিক পন্থায় জনগণের ভোটে নিবা'চীত সরকারকে সময় দিয়ে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা, যে কোনো গণবিরোধী, রাষ্ট্র বিরোধী কম'কান্ডে গনতান্ত্রিক পন্থায় প্রতিবাদ করা, গনতন্ত্রকে সুসংহত করতে নিবা'চনী রায় মেনে নিয়ে সরকারের সময়কাল শেষে জন রায়ের অপেক্ষায় থেকে গনতন্ত্রের সোন্দয্য' বজায় রাখা ।সরকার এবং তার দলের নেতা-কর্মীদেরও বিরোধীদলের মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।কারণ তিন ছয় মাস এক বছর পরপর দেশ অস্থিতিশীল করে সরকার পরিবর্তনের নিবা'চন দিয়ে নেতাদের ক্ষমতায় বসার খায়েশ মেটানোর এতো বড় ব্যয়ভার বহনের সক্ষমতা ঋণের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া রাষ্ট্রের এখন আর নাই।  

Tuesday, March 24, 2026

অভিবাদন

সারারাত তার চোখে ঘুম আসেনি।সকালে উঠবো উঠবো করে ওঠা হয় নাই।লাবনী তাকে কয়েকবার ডেকেছে সে ওঠে নাই।বার বার ডেকেও ওঠাতে ব্যথ’ হয়ে ঝাড়ি দিয়ে চুপ হয়ে অপেক্ষা করেছে তাতেও কাজ হয় নাই।আজ  রায়হানের রাতের বাসে গ্রামের বাড়ী যাবার কথা। কয়েকদিন থাকতে হবে।ঘড়ে বাজার সদাই লাগবে তাই রাতেই সব লিষ্ট করে রেখেছে। লাবনী হাতে পানির গ্লাস নিয়ে নাখে মুখে ছিটাতে সে উঠে বসে । চোখ মেলে দেখে আধো ঘুম আধো জাগায় না খেয়ে ঘড়ির কাটা ১১টার ঘর ছুই ছুই করছে।বাজারে যেতে হবে।ভাবছে বাজারে এখন নাকি বিকালে। সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিল এক মিনিট। ছেলে মেয়েরা স্কুলে।লাবনীর মুখ থমথমে দেখে পাশে গিয়ে বসে।সাড়া না পেয়ে জড়িয়ে ধরে কাছে টানে।লাবনী ঢং না করে নাস্তা খেতে তাগাদা দেয়।পেটে ইদুর বিড়াল ছোটাছুটি করছে।রায়হান বাধ্য শান্ত ছেলের মতো আদেশ পালন করতে দ্রুত হাত মুখ ধুয়ে টেবিলে নাস্তা খেতে বসে।রাতে তৈরী করা বাজারের ফদ’ লাবনী হাতে ধরিয়ে দিলে তা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।বাজারের জিনিসপত্রের দামে মাথায় ঝিম ধরে।কিন্তু উপায় নাই বউ-ছেলেমেয়েদের খাওয়াতে হবে বাচার জন্য চলার জন্য নিজেকেও খেতে হবে।কেনাকাটা করে ফিরতে ছেলে-মেয়ে স্কুল থেকে ফিরেছে। বাসার কাছে স্কুল, বাচ্চারা একাই যাওয়া আসা করে অসুবিধা হয় না।

দুপুরে খাওয়া সেরে একটু ঘুমিয়ে নিলে ভালো হতো।ছেলে-মেয়ে এই প্রথম তাদের বাবা ছাড়া থাকবে তাই কাছ থেকে নড়ছে না।চলছে নানা কথা সাথে নানা রকম বায়না।লাবনী টেবিল পরিস্কার করতে করতে তাদের বায়নায় সায় দেয়।কিছু সময় পর  লাবনীও এসে বসে। কথায় কথায় সন্ধ্যা হয়। লাবনী উঠে হালকা নাস্তার ব্যবস্থা করে। সময় গড়িয়ে চলে তার আপন গতিতে।বাসের সময় রাত ১২.০০টা। দশটা বাজতে আজ সবাই একসাথে রাতের খাবার খেতে বসেছে । বউ ছেলে মেয়ে কারো যেন কথা ফুরায় না। খাওয়া সেরে আর অপেক্ষা করে না। দ্রুত নিজে তৈরী হয়, ছেলে মেয়ের মুখটা মলিন , দুজনকে  বুকের দুপাশে জড়িয়ে আদর করে বেড়িয়ে পড়ে। একটু হাটতে হবে বড় রাস্তায় উঠতে। গলি রাস্তার দুপাশের পরিবেশ ভালো না জেনেও কম ভাড়া দেখে উঠে পড়েছে। বড় সুবিধা ছেলে-মেয়ের স্কুলটা কাছে লাবনীরও সময় বাচে সাথে কিছু টাকাও। তার অফিসও বেশি দূরে নয়।পায়ে হেটে আসা যাওয়া করে।মাস শেষে রিকশা ভাড়ার কিছু টাকা তার বেচে যায়,সাথে শারীরিক একটু ব্যায়াম হয়।

এখন গলি রাস্তায় মানুষজনের চলাফেরা খুব একটা নাই।হাঁটার সময়  সে তার চোখ কান খুব সতর্ক রাখার চেষ্টা করছে।আগে এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে শুনেছে। সে কখনো তার মুখোমুখি হয়নি।জীবনে একবারই  কয়েক বছর আগে ছিনতায়ের কবলে পড়েছিল। মৃত্যুর আগ পয্য'ন্ত সেই ঘটনা ভুলতে পারবে না।তারপর থেকে রাস্তায় সবসময় অন্ধকার জায়গা এড়িয়ে চলে। কিছুটা সামনে অন্ধকারে মেয়েলি কান্না জড়িত "মাগো" শব্দে সতর্ক হয়।হাঁটতে হাঁটতে ঘটনাস্থলের কাছে এসে দেখতে পায় ১৪/১৫ বছরের বয়সের একটি ছেলে একটা মেয়েটি মারছে। মেয়েটি কাঁদছে আর বলছে, "তুমি আমার সাথে প্রতারণা করেছো আমি মায়ের কাছে ফিরে যাব। সামনের বাড়িতে সে লক্ষ্য করল, একজন মহিলা অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি এড়াতে তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে বাচতে চাইছে। সামান্য লাইটের আলোতে মেয়েটিকে সুন্দরী কিশোরী মনে হল। এমন বয়সে বাবা-মায়ের স্নেহ ভালোবাসায় মেয়েটির থাকার কথা। অথচ অন্ধ প্রেমে ছেলেটির উপর বিশ্বাস করে বাবা-মা ছেড়েছে। পরিণতি রাতে রাস্তায় মার খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার মূল্য দিতে হচ্ছে। ভাবছে এই বয়সে তারা ছেলে-মেয়ে একসাথে  দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট খেলেছে। এখন ডিজিটাল যুগে খুব দ্রুত ছেলে-মেয়েরা প্রেম-ভালবাসা বিয়ে সংসার করা বুঝে গেছে। সেও না দাঁড়িয়ে দ্রুত পার হয়ে এসেছে । বড় রাস্তায় এসে পড়লে সিএনজি ঠিক করে তাতে উঠে দ্রুতই বাস কাউণ্টারে চলে আসে। মোবাইল আসায় ঘড়ি পড়া হয় না।মোবাইলে সময় দেখে এখনো অনেক সময় আছে।পকেটে হাত ঢুকিয়ে সিগার বের করে ঠোটে চেপে আগুন জ্বালায়। উন্মুক্ত রাস্তায় ধূমপান করা নিষিদ্ধ কিন্তু কাউকে মানতে দেখে নাই, সেও আজ আইন মানতে চাইছে না ।

মায়ের শরীর খারপ তাই না জানিয়ে দেখতে যাচ্ছে। মাকে কাছে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু বউ শাশুড়িকে মেলাতে পারে নাই। কেউ যেন কাউকে সহ্য করতে পারে না। সে নিজেই এখন শাখের করাত যে দিকে যায় সেদিকেই কাটে। ভীষণ কষ্ট হয় ,বড় বেশি একাকি মনে হয়। নিজেকে অপরাধী ব্যথ’ মনে হয়। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে যতটুকু শান্তি। মাঝে মাঝে শংকা জাগে বৃদ্ধ বয়সে তাকেও কি তার মা-বাবার মতো এভাবেই থাকতে হবে। রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম। চলমান গাড়ীর চেয়ে পিঁপড়ার গতি এখন অনেক বেশি মনে হয় তার।সামনে সারিবদ্ধ যান্ত্রিক পিঁপড়ার আলো ঝিলিমিলি সারি দেখতে ভালোই লাগছে। মোবাইলে তাকিয়ে দেখে সময় হয়ে গেছে তাই বাসে নিজ আসনে গিয়ে বসে।রাস্তায় এখনও মানুষের ভীড়। ভাবছে সীমিত আয়ের মানুষের এই শহরে জীবন কাটানো দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তার ধারণা আগামীতে এই মেগা সিটি কেবল ধনী এবং ভিক্ষুকদের জন্যই থাকবে। ঢাকায় থাকার যোগ্যতা দিন যেন সে হারিয়ে ফেলছে। 

সাধারণতঃ ট্রেনে বাসে যাতেই যাত্রা করে না কেন  অপেক্ষা ছাড়ার দেরি আর সাথে সাথেই চোখ বন্ধ করা বাকি।রায়হান আজ কেন জানি চোখ বন্ধ করতে পারছে না। মাথাটা ঝিম ধরে আছে। আসার পথে ক্রন্দণরত মেয়েটার মুখ ভেসে উঠছে। ক’বছর পর তার নিজের মেয়েটারই বয়স এমনি হবে হয়তো।নিজেকেই অপরাধী মনে করে প্রশ্ন করছে কেন সে এই পরিস্থিতি এড়িয়ে আসলো । কেন আমরা আমাদের নৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছি ? কেন আজ আমরা খোলা মনে হাসছি না ? কেন দুঃখ ভুলে যাওয়ার জন্য নিজেরা জোরে কাদতে পারি না?কেন আমরা বাচ্চাদের সমস্যা সমাধান দূরে থাক সমস্যা জানতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না? তারা যদি ভুল করে থাকে তাদের কেন পরামর্শ দিতে পারি না তাদের শাসন করার সাহস পাই না? আজ আমাদের কোনও আত্মীয়ের এই পরিস্থিতিতে আমরা কী চুপ থাকতাম?নিশ্চয়ই না।

সমাজে আগে মুরুব্বীদের সম্মান করা হত গুরুত্ব দেওয়া হতো। মুরুব্বীদের প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল ছিল।কেউ তাদের সামনে অন্যায় করতে সাহস করতো না।এলাকার মাতব্বর থাকতো সরদার থাকতো তারাই বিচার কায’ করতেন। ডিজিটাল যুগে সব আজ এলোমেলো। এখন এলাকার মাস্তান-সন্ত্রাসী-চাদাবাজদের আমরা বিচারক মানি একটু কিছুতেই থানা পুলিশ করি। ব্যক্তিগত সমস্যাকে রাজনৈতিক রং মাখাই ধমে’র রং মাখাই। সে আর ভাবতে পারে না।বাস তার তার দীঘ’ যাত্রায় ক্ষনিক বিরতিতে হোটেলে থেমেছে।রায়হান নামবে কি নামবে না ভাবতে  শুরু করেছে। আজকাল সে কেন জানি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। নামতে গিয়ে হোচট লাগে।  ওয়াসরুম সেরে আবার বাইরে এসে দাঁড়ায়।  

এতো রাতে এক বৃদ্ধ লোককে লম্বা বাঁশের লাঠিতে জাতীয় পতাকা ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে  দেখে,মনে পড়ে সামনে ২৬শে মাচ’ দেশের স্বাধীনতা দিবস। ঢাকায় মুজিব ইয়াহিয়ার আলোচনার মাঝেই মুক্তিকামী বাংগালী নিধনের পরিকল্পনা করেছিল। সেভাবেই প্ল্যান করে ” অপারেশন সাচ’ লাইট” নাম দিয়ে  তা বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীন পশ্চীম পাকিস্তান থেকে চট্টগামে জাহাজযোগে এবং করাচী থেকে বিমানে সেনা-সরঞ্জাম আনা শুরু করেছিল। সব ব্যবস্থা চুড়ান্ত হলে ইয়াহিয়া গোপনে ঢাকা ছেড়ে করাচী চলে যান।২৫শে মাচ রাতে পাক হানাদার বাহিনী ”অপারেশন সাচ’লাইট”চুড়ান্ত বাস্তবায়ন করতে প্রথমেই  শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে তৎকালীন পশ্চীম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বাংগালী জাতির কন্ঠ স্তব্ধ করতে রাতের আধারে ট্যাংক-সাজোয়া যান অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গণহত্যায় ঝাপিয়ে পড়ে ইপিআর পিলখানা ব্যারাক, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, নিলক্ষেত বিশ্ববিদ্যালয় সহ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর। ট্যাংক- মটারের গোলায় চারিদিকে আগুনের লেলিহান শিখায় বিভিষিকাময় হয়ে যায় ঢাকা নগরী । রাস্তায় রাস্তায় লাশের সারি। ঘটনার আকস্মিকতায় রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ দিকভ্রান্ত সব আত্মগোপনে।

জিয়াউর রহমান তখন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ৮ম ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর সহকারী কমান্ডিং অফিসার।কমান্ডিং অফিসার লেঃকণেল জানজুয়া তাকে ২৫শে মাচ’ রাতে বন্দরের সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসে পাঠিয়ে পথে জিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।পথিমধ্যে জিয়া রাতে ঢাকার নৃশংশতার খবর, সেনানিবাসে গোলাগুলির খবর জানতে পেরে অস্ত্র খালাসে না গিয়ে সঙ্গী পাকিস্তানী হানাদারদের গ্রেফতার করে ফিরে এসে সেনানিবাসের বাসা থেকে কমান্ডিং অফিসার জানজুয়াকে গ্রেফতার করে ষোলশহর ব্যারাকে এনে হত্যা করেন। চট্টগ্রাম ষোলশহর ব্যারাকে মীর মেজর শওকত,ক্যাপ্টেন অলি আহম্মেদ, ক্যাপ্টেন শমশের মবিন চোধুরী, লেফটেন্যান্ট খালেকুজ্জামান সহ অনান্য অফিসার ও সিপাহীদের নিয়ে “উই রিভোল্ট” বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ২৬শে মাচ’সকালে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে সশস্ত্র স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। সেই ঘোষণায় সারাদেশব্যপী জাতি আবার জেগে উঠে। শুরু হয় পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সশস্র মুক্তিযুদ্ধ। দীঘ নয় মাসের যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ তাজা প্রাণের রক্তে, হাজার হাজার মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর হানাদার পাকিস্তানীদের হাত থেকে মুক্ত হয় আমাদের মাতৃভু্মি বাংলাদেশ।আজ সেই  স্বাধীনতার ঘোষক  এবং পরবতী’তে বাংলাদেশের ইতিহাসের সফ্ল রাষ্ট্র নায়ক জিয়াউর রহমানের সন্তান তারেক রহমান জনগণের ভোটে নিবা’চিত দেশের প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতায় বসতে না বসতেই চারিদিকে কেবলই ষড়যন্ত্র। ভাবে জাতি হিসাবে আমাদের দূ’ভাগ্য আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি নাই।ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় বিশেষ কোন দিনই দল-মত, জাতি-ধম’-বণ’নিব্বি’শেষে পালন করতে পারি নাই। আমরা এখন জনে জনে, ঘরে ঘরে, দলেদলে বিভক্ত। একদলের আনন্দ উৎসব হলে আরেক দলের শোক দিবস। একদল হ্যাঁ বলতে না বলতে আরেক দলের না হয়ে যায়। একটু এগিয়ে হাতে ধরা একটা ছোট জাতীয় পতাকা কিনে বাসে গিয়ে বসে।

বাস ছাড়তেই পাশের জানালার পদা’ সরিয়ে অন্ধকারে বাহিরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল জানে না। সুপারভাইজারের ডাকে  জেগে চোখ খুলে দেখে বাস ফাকা সবাই নেমে পড়েছে। নিচে নেমে সিএন জি ডাকে, গন্তব্য এখন মায়ের ঠিকানা। বাড়ির গেটের সামনে আসে। আজ ব্যতিক্রমী একটি দিন। কখনই না জানিয়ে এভাবে মায়ের কাছে আসে নাই।কলিং বেল টেপার আগে জাতীয় পতাকা গেটে লাগিয়ে দেয়। গেট থেকে এক ধাপ পিছিয়ে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় দেশের স্বাধীনতার জন্য, দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করে যাওয়া বীর সেনানীদের প্রতি ।মনে মনে আল্লাহর কাছে প্রাথ’না করে হে আল্লাহ তুমি বহুধাবিভক্ত জাতীকে গবী’ত দেশ-প্রেমিক একতাবদ্ধ জাতিতে পরিণত করে দাও।

 https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA

Wednesday, November 19, 2025

ছলা-কলা নয়, বাহুবল নয়

ঐতিহাসিক দিবস ৭ই নভেম্বর বিএনপি এবং অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দল “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস” হিসাবে পালন করেছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও তাদের নিজেদের মতো করে দিনটি উদযাপন করেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি জননেতা থেকে একনায়ক হয়ে যাওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কিছু সামরিক অফিসার স্বপরিবারে হত্যা করে।শেখ মুজিবর রহমানের মন্ত্রী সভার সদস্যদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানেরই অতি আস্থাভাজন খন্দকার মোশতাক আহম্মেদ নতুন সরকার গঠন করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষনা করেন।মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অস্থায়ী মুজিব নগর সরকারের চার নেতা সহ অনেক নেতাকে জেলে ঢুকালেন। জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান এবং জেনারেল ওসমানীকে রাষ্ট্রপতির সামরিক উপদেষ্টা করা হলেও ক্ষমতার মুল নায়ক ছিলেন সেই হত্যা কান্ডের নায়ক মধ্যম সারির অফিসারেরা। তারা সেনা পরিষদ গঠন করে মূলত বংগভবন থেকে সব নিদ্দে’শনা দিতেন। 
     ১৫ আগষ্ট,৭৫ থেকে ৭ই নভেম্বর পয্য’ন্ত ছিল দেশের ঘটনা বহুল দিন।স্বল্প পরিসরে তা বণ’না করা যাবে না । জেনারেল খালেদ মোশারফ নিম্নস্থ অফিসারদের ক্যু মেনে নিতে না পেরে ৩রা নভেম্বর পাল্টা ক্যু করে নিজেকে সেনা প্রাধান ঘোষনা করেন।জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন। ৪ তারিখ রাতেই কারাগারে সেনা পরিষদের সদস্য মেজররা মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অস্থায়ী মুজিব নগর সরকারের চার নেতাকে হত্যা করে। শোনা যায় আপোষরফায় হত্যাকান্ডে জড়িত সেনা অফিসারদের দেশ ত্যাগের ব্যবস্থা হয়। ৩রা নভেম্বর থেকে ৭ই নভেম্বর পয্য’ন্ত দেশে কোন সরকার ছিল না। সরকারবিহীন দেশে কনে’ল তাহেরের নেতৃত্ব গণবাহিনী “সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই হাবিলদারের উপর অফিসার নাই” এমন শ্লোগান দিয়ে সেনাবাহিনীর ভেতর বিভেদ তৈরী করে ক্ষমতায় যাওয়ার আয়োজনে চেষ্টা করেছিলেন।
      সেনাবাহিনীর মাঝে জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রশ্নাতিত গ্রহণযোগ্যতা ছিল তাই তাকে সামনে রেখে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টায় পাল্টা ক্যু এ খালেদ মোশারফ নিহত হন।পাল্টা ক্যু এর পর দেশের স্বাধীনতা ও সাবো’ভৌম যখন হুমকীতে তখন সিপাহী-জনতা সংহতির মাধ্যমে ৭ই নভেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তার বাস ভবন থেকে মুক্ত করে।কিন্তু জেনারেল জিয়া তার বুদ্ধিমত্তায় কণে’ল তাহেরের ফাদে পা দেন নাই।তার জনপ্রিয়তা ও ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিলে কনে’ল তাহের সেনাবাহিনীর সিপাহী অফিসারদের লাশের উপর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে ব্যথ’ হয়। পরবতি’তে জেনারেল জিয়াউর রহমান কণে’ল তাহেরকে গ্রেফতার করে বিচারে আওতায় এনে দেশি বিদেশি চক্রান্ত থেকে দেশকে নিরাপদ করেন।
     ইতিহাস বিবেচনায় স্মরণ করা প্রয়োজন ১৯৭১ এর মাচে’ শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে তৎকালীন পশ্চীম পাকিস্তানে স্থানান্তরিত করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ঢাকাকে বদ্ধভূমি বানিয়ে ফেললে আওয়ামীলীগের নেতারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।জিয়াউর রহমান তখন ছিলেন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইষ্ট-বেঙল রেজিমেন্টের মেজর। ২৬ মাচ’ সোয়াত থেকে নিভি’গ্নে অস্ত্র খালাসের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনি ফিরে আসেন এবং তার কমান্ডিং অফিসার জানজুয়াকে হত্যা করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সাথে আলাপ আলোচনায় চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথমে নিজের নামে পরে বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নামে ঘোষণা দিয়ে নেতৃত্বহীন জাতীকে সশস্র মুক্তি যুদ্ধে সামিল করেছিলেন।এভাবে দেখলাম দেশ ও জাতীর ক্রান্তিলগ্নে দুই দুইবার সিপাহ-সালারের দায়ীত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান দেশ ও জাতিকে রক্ষা করেছিলেন। দেখলাম ৭৫ পরবতি’তে সামরিক ফরমান জারি করে ৭১ এর পাকিস্তানীদের দোসর হয়ে বিত’কিত কম’কান্ডে নিষিদ্ধ জামায়াতকে রাজনৈতিক পূন’বাসন এবং ৭৫ এর হত্যাকান্ড থেকে বেচে যাওয়া শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যাদ্বয়কে দেশে ফিরিয়ে এনে আওয়ামীলীগকে পূন’বাসন করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। আমরা সেই বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা প্রেসিডেন্ট  জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছি। দীঘ’ ৪০ বছর বসবাস করা রাষ্ট্র প্রদত্ত বাড়ী থেকে তার পরিবার দুইবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শুন্য হাতে বের করে দিয়েছি।
     সংসদ কর্তৃক শহীদ প্রেসিডেন্ট  জিয়াউর রহমানকে সম্মান জানাতে দেশের বৃহত্তম জানাজার পর লক্ষ লক্ষ মানুষ তাকে সংসদ এলাকায় দাফন করেছিল আমরা প্রথমে তার কবরস্থানে যাওয়ার ক্রিসেণ্ট লেকের উপর ভাসমান পল্টুন তুলে ফেলেছি পরে তার কবরস্থানটি সরিয়ে ফেলার কথাও ভেবেছি। পিলখানায় মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের একত্র করে হত্যার ব্যবস্থা করেছি। দীঘ’ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে দেশ এতো বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয় নাই। দেখেছি বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানেরই কন্যা হাসিনার ফ্যাসিষ্ট হয়ে ওঠা।জাতি দেখেছে ক্ষমতায় থাকতে গত দেড় দশকে গুম-খুন পুড়িয়ে নিজ দেশের মানুষকে হত্যা করে ২৪ এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে দেশ ছাড়া হতে।অবশেষে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্ত’জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল হাসিনার মৃত্যুদন্ড রায় দিয়েছেন। এখন বলতেই হবে তার পরিবারের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই দেশকে দেউলিয়া করে নিজ আত্মীয়-স্বজন দলীয় নেতা-কমী’দের দিয়ে অথ’ পাচার, গুম খুনের মাধ্যমে,দেশ ও জাতীর উপর চরম আক্রোশে অমানবিক কম’কান্ড এবং দেশ বিরোধী জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে চুক্তির বেড়াজালে জড়িয়ে সে ভীন দেশীদের তাবেদার রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল বাংলাদেশকে । দেশবাসীর আশা আন্ত’জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের এই রায়ের মাধ্যমে শুধু হাসিনার অপরাধের রায় নয় যেন এই রায়ের মাধ্যমে এদেশে স্বৈরশাসন স্বৈরাচারের চির-কবর রচিত হয়।
     স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হতে চলেছে । আমরা এখনও বাংগালী-না বাংলাদেশী, স্বাধীনতার পক্ষ না বিপক্ষ নিয়ে বিভক্ত। আমরা সকলে জাতীয় দিবসগুলো একসাথে উপভোগ করতে পারি না, জাতীয় ইস্যুতে একই মঞ্চে দাঁড়াতে পারি না। ক্ষমতাসীনদের নামাতে পাচ বছর পর পর  কখনো দাড়ালেও নেতাদের ইগো আর ক্ষমতার মোহে ঐক্য ভেঙ্গে যায়। আগামি ফেব্রুয়ারী, ২৬ এ জাতীয় নিবা’চন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা এখন একে অপরে কাদা ছোড়াছুড়িতে সবাই ব্যস্ত। আমরা বক্তৃতা দিতে দাঁড়িয়ে অন্যকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বলি কিন্তু নিজেরা কেউ শিক্ষা নেই না। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ অনেক পট পরিবত’ন দেখলাম কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবত’ন দেখতে পাই না। জুলাই যোদ্ধাদের লাশ আর রক্তের উপর দাড়িয়ে আবারও একই ভাবে জিঘাংসায় মেতে ওঠেছি।সাম্যের ভিত্তিতে ধম' বণ' নিব্বি'শেষে প্রত্যেকটি নাগরিকের জন্য খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা শিক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান করাই রাস্ট্রের দায়িত্ব ও কত'ব্য। ধম’ যার যার উৎসব তার। ধম’ পালনে থাকতে হবে স্বাধীনতা রাস্ট্রকেই দিতে হবে নিরাপত্তা। ক্ষমতায় বসতে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা পুজা মন্ডপে গিয়ে রোজা আর পূজাকে একাকার করে বক্তব্য দিচ্ছেন।মন্ডপে উপস্থিত হতে পেরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছেন, গীতা পাঠ করছেন।কেউ কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে শুনেছি ভোটের আশায় নিজের ঈমান আকিদা ঠিক রাখতে পারছেন কিনা,আল্লাহর সাথে শিরক করছেন কিনা ভাবছেন না।সবই এক ধরণের প্রতারণা। জাতি এমন কিছুই আর দেখতে চায় না। দেখতে চায় এখন পরিশুদ্ধ হওয়া নেতা ও তার পরিশুদ্ধ হওয়া দল ।
     দিনে দিনে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ও বুড়িগঙ্গায় অনেক পানি গড়িয়েছে সময় নষ্ট করার এখন আর অবকাশ নাই। সময় এখন সব ভেদাভেদ ভুলে যাবার। আসুন ব্যক্তি নয় দল নয় দেশকে ভালোবাসি। ক্ষমতায় লোভে জনে জনে ঘড়ে ঘড়ে বিবাদ না করি। দেশের সকল ক্ষেত্র বেহাল অবস্থা। সবার আগে ধংসস্তুপ থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা সোজা করে দাড় করানো বড় বেশি প্রয়োজন। শিক্ষিত জনশক্তি ছাড়া দেশ গড়া সম্ভব নয়। আগামী প্রজন্মকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সুশিক্ষিত করতে হবে। পরনিভ’রশীল থেকে দেশকে স্বনি’ভর করতে হবে। বাস্তব,রাজনৈতিক নেতারাই দেশ পরিচালনা করবেন। তাই রাজনৈতিক নেতাদের দেশ-প্রেমিক সু-নাগরিক হতে হবে। নিজেদের নেতা কমী’ সমথ’কদের প্রতিবেশির উপর জুলুম না করার এবং সবার সাথে সু-সম্প’ক গড়ার শিক্ষায় শিক্ষিত করুন, দেখবেন জনে জনে সম্প্রীতি বাড়বে। কোনো আশ্বাস দিতে কোথাও আপনাকে দৌড়াতে হবে না। ছলা-কলা নয় বাহুবল নয় জনগণের উপর আস্থা রাখতে হবে। শাসক নয় সেবক হতে হবে। আর কখনো যেন এদেশে কোনো ফ্যাসিষ্টের জন্ম  না হয়  আর কোনো  সিপাহী-ছাত্র-জনতার রক্তে লাল না হয় এদেশের সবুজের মাঠ রাজপথ। নতুন আর কোনো দিবস নয় ,দেখতে চাই স্বনি’ভর সুন্দর সবার সমান অধিকারের আমার সোনার বাংলাদেশ ।

" আমার কথা " ডিসেম্বর-২০২৬ ইং