Friday, August 28, 2026

গাজায় গনহত্যার দায় মুসলিম রাষ্ট্র নায়কদের

২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে আনুমানিক ৮১২ কোটি মানুষের ভেতর ওআইসি সদস্যদেশ হিসাবে পৃথিবীতে ৫৭টি মুসলিম দেশে প্রায় ২০০ কোটি মুসলমানের বসবাস ।অতি দুঃখের বিষয় প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে ভাতৃঘাতী হানাহানিতে লিপ্ত আজ।আরাফাত ময়দানের হযরত মুহাম্মদ (সা:) কর্তৃক প্রদত্ত বিদায়ী হজ্বের বাণী আমরা ভুলে গেছি। তিনি বলেছিলেন প্রত্যেক মুসলমান একে অপরের ভাই। তোমাদের প্রত্যেকের উপর প্রত্যেকের হক আছে।আজ আমরা সেই বানী ভুলে ইহুদী সাম্রাজ্যবাদীদের আপন করে নিয়েছি।আয়েসী জীবন-যাপনের ক্ষমতার মসনদ রক্ষাকারী বানিয়ে তাদের মন্ত্রনায় ভায়ে ভায়ে রক্তাত্ব হচ্ছি। কিন্তু ইতিহাস মনে করা আমাদের বড় বেশি প্রয়োজন ছিল করি না তারা যে কখনো বন্ধু হতে পারেনা এখনো ভাবি না।

সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং স্নায়ু-যুদ্ধের অবসানের পর আমেরিকা গোটা বিশ্বের পরাক্রমশালী রাষ্ট হিসাবে আবি’ভুত হয়। তখন থেকে ইসলাম এবং মুসলিমরা ইহুদী সাম্রাজ্যবাদীদের প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়।স্নায়ু-যুদ্ধের সময় আমেরিকা আর ইউরোপের দেশ গুলি শয়নে-স্বপনে লাল পতাকা দেখতো তাদের সামনে এখন চাঁদ তারা পতাকা । ইতিহাস বলে যখনই কোনো মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা তার জাতীকে মাথা উচু করে দাড়াবার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে তখনি তাকে ধংস করা হয়েছে।পশ্চীমা গনমাধ্যমও ইসলাম এবং তার অনুসারী মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসাবে প্রচার প্রচারণা করছে।বিশেষ করে ইজরাইলের জন্য হুমকী হলেই সেই দেশ এবং সেই জাতির নেতার যেন আর কোনো রক্ষা নাই।এভাবেই ধংস করা হয়েছে লিবিয়াকে,হত্যা করা হয়েছে জাতীয়তাবাদী নেতা মোয়াম্মার গাদ্দাফীকে।কট্ট্রর ইজরাইল বিরোধী ইরাকের জাতীয়তাবাদী নেতা সাদ্দাম হোসেনকে তার দেশের মানুষদের দিয়েই মুসলমানদের ঈদের দিনে ফাসী দেয়া হয়েছে, একসময়ের সম্পদশালী ইরাককে ধংস করা হয়েছে।আজ ইরানকে ধংস করার প্রচেষ্টা চলমান থাকা অবস্থায় হুমকী দেয়া হয়েছে পরবতি’ নিশানা পাকিস্তান ।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর হলোকাষ্ট থেকে বেচে আসা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে  আশ্রিত ইহুদীদের বৃটেনের অনুরোধে প্যালেস্টাইনে আশ্রয় দেয়া হয়। দিনে দিনে সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে ফিলিস্তিনী ভুখন্ড দখল হতে থাকে।একসময় ইউরোপ আমেরিকার যোগসাজশে জাতিসংঘে ইজরাইল রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি পায় কিন্তু ফিলিস্তিনীরা রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি পায় নাই। শুরু হল ইউরোপ আমেরিকার সক্রিয় সহযোগীতায় ফিলিস্তিনীদের উপর ইহুদীদের অত্যাচার নিপীড়ন-নিযা’তন-হত্যা জবর দখল।ফিলিস্তিনীরা তাদের ভিটেমাটি থেকে বিতারিত হয়ে উদ্বাস্থ হতে থাকলো তাদের আবাস সংকুচীত হতে থাকলো, আর আশ্রিত ইহুদীরা সেই ভুমির মালিক হতে হতে  ইজরাইল রাষ্ট্রের সীমানা সম্প্রসারিত করতে থাকলো।আরব রাষ্ট্রগুলির নিস্ক্রিয়তা কখনো আবার বিশ্বাসঘাতকতায় আজকে বিশ্বের রক্তপিপাসু এক দানব রাষ্ট্র ইজরাইলের আত্মপ্রকাশ। ইচ্ছা এখন তাদের বৃহত্তর ইজরাইল রাষ্ট্র গড়ার।   

২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর প্রত্যুষে হামাস ইজরাইলের অভ্যন্তরে আক্রমণ করে প্রায় চৌদ্দশত ইজরাইলীকে হতাহত করে এবং ২০০ এর অধিক সাধারণ এবং সামরিক সদস্যকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়।তথাকথিত সভ্য জগতের মানুষ, গণতন্ত্রের রক্ষাকারী, বাক-স্বাধীনতা রক্ষাকারী, মানবাধিকার রক্ষাকারীরা কেবল ফিলিস্তিনীদের  আক্রমণকে সন্ত্রাসী আক্রমণ করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে কিন্ত তারা হামাসের এই আক্রমণের মূল কারণ যুগের পর যুগ ধরে অত্যাচারিত নিপীড়িত নিযা’তিত ফিলিস্তীনিদের ক্ষোভের কথা প্রচার করে নাই।দীঘ’ ৭৫ বছরের অধিক সময় নিপীড়িত নিযা’তিত ফিলিস্তীনিরা তাদের রক্তের বিনিময়, তাদের ভুমির বিনিময়,আপনজন হারানোর শোক আর অমানবিক নিযা’তনের চোখের পানির বিনিময় আগ্রাসী বব’র ইজরাইলীদের কাছ থেকে অজি’ত শিক্ষার একই পদ্ধতিতে প্রতিশোধের এই আক্রমণে  ইজরাইলী সেনাবাহিনীর শ্রেষ্টত্ব ধুলায় মিশিয়ে দেয়। প্রতিশোধ নিতে আমেরিকা ও ইউরোপিয়ানদের সহযোগীতায় ইজরাইলীরা তাদের সব’শক্তি নিয়ে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে অভিযানে নামে।

প্রতিবেশি আরব দেশ সহ  দূরে কাছে ৫৭টি রাষ্ট্রের প্রায় ২০০ কোটি নামে-দাড়ী-টুপি-লেবাসে মুসলমানদের অনৈক্য আর নিস্ক্রীয়তায় বাধাহীন গাজায় নিব্বি’চারে গনহত্যা চালাতে তার অসুবিধা হয় নাই। যা এখনও  চলমান।আবাসিক এলাকা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালসহ সকল চিকিৎসা কেন্দ্র,উপশানালয়,খাবার পানির ব্যবস্থা,বিদ্যুৎ ব্যবস্থা,পয়োনিস্কাশন ব্যবস্থা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।মানুষের মাথা গোজার ঠাই নাই,চিকিৎসার ব্যবস্থা নাই।,খাদ্যকে অস্ত্র বানিয়ে ক্ষুদাথ’ মানুষের খাদ্য-পানিয় ঔষধ সরবরাহ বন্ধ করে মানব ইতিহাসের নৃশংস পৈশাচিক গনহত্যা বন্ধে দানব রাষ্ট্র ইজরাইলকে নিবৃত করতে  সভ্য দুনিয়ার কারো কোনো ভুমিকা নাই। জাতিসংঘের কোনো ভুমিকা নাই, মেরুদন্ডহীন আরব লিগ, ওআইসির কোনো ক্ষমতা নাই।তারা কেবলই দাফতরিক বিবৃতি দেয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করেছে।জাতিসংঘে ইজরাইলের বিরুদ্ধে আনিত প্রস্তাব আমেরিকার ভেটোতে স্থগিত হয়,আন্তজা’তিক আদালতের রায় কায’কর হতে পারে না।ইতিমধ্যে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার আর আহতদের সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ ৮০ হাজার ছুয়েছে।শান্তি আলোচনার মাঝেও এখনো চলছে গনহত্যা।শোনা যাচ্ছে বত'মান সিরিয়া সরকারের সহযোগী তুরস্কের একটি প্রতিনিধি দল সিরিয়ার বিমান ঘাটি পরিদশ'নকালে ইজরাইল বিমান হামলা চালিয়ে বিমান ঘাটির ক্ষতি সাধন করেছে এবং বিবৃতি দিয়েছে ইজরাইল তার সীমান্তের কাছাকাছি ভীনদেশি কাউকে মেনে নেবে না।খুবই স্বাভাবিক।আমেরিকার ছত্রছায়ায় অপ্রতিরোধ্য রক্তপীপাসু দানব ইজরাইল যখন যাকে খুশী আক্রমণ করছে  মানবতা ধবংস করছে।সিরিয়া,লেবানন,ইরানকে আক্রমণ করে আমেরিকার সহযোগীতায় ট্রাম্পের হামাসকে দেয়া হুমকীর সেই দোজখের আগুন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নামিয়ে আনছে।

বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানই পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে রিয়াদে সৌদিআরব ও পাকিস্তানের ভেতর একটা কৌশলগত পারস্পারিক সহযোগীতা চুক্তি সম্পাদিত হয়।এবার ২০২৬ সালের আগষ্টে যৌথভাবে আমেরিকা-ইজরাইলের ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের পাচ মাস পর মক্কায়  সৌদিআরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ভেতর আরও একটি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটা চুক্তি সম্পাদন হয়েছে।উদ্দেশ্য এই চুক্তিভুক্ত কোনো সদস্য দেশের উপর আক্রমণ হলে তা তিন দেশের উপর আক্রমণ হিসাবে বিবেচীত হবে।বত’মান অবস্থায় এই চুক্তি মুসলিম উম্মাহর উপকার হবার কোনো আলামত নাই বরং ভাতৃঘাতী হানাহানিতে অধিক রাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ার আশংকা আছে। কারন প্রতিবেশি মুসলিম রাষ্ট্রে অবস্থিত বিদেশি ঘাটি থেকে ইরানে আক্রমণ করায় ইরান এবং ইয়ামেনের হুতিরা সে সমস্ত ঘাটিতে আক্রমণ করছে।তারমধ্যে সৌদি আরব আছে।তাহলে সৌদি আরবে বিদেশি ঘাটি থেকে আক্রান্ত ইরান পাল্টা আক্রমণ করলে কি পাকিস্তান ও তুরস্ক ইরানকে আক্রমণ করবে ? ইজরাইল যদি পাকিস্তান অথবা তুরস্ককে আক্রমণ করে সৌদি আরবে  মাকি'ন ঘাটি রেখে সৌদি আরব কি পারবে চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান অথবা তুরস্কের পাশে দাড়িয়ে ইজরাইলকে আক্রমণ করতে? 

তাই গোত্রে গোত্রে জোট নয় এই মুহুত্তে’ প্রয়োজন ওআইসি সদস্যদেশ মিলে জোট গঠন এবং ন্যাটোর মতো একটা যৌথ মুসলিম বাহিনী গঠন করা।নিজেদের মাঝে সমস্যা থাকবে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। এখনই ভুলে যেতে হবে কে শিয়া, কে সুন্নী , কে সালাফী, কে হানাফী, কে মাঝহাবী কে ওহাবি সকল বিভেদ।কারন যারা আল্লাহ মানেন, কুরআন মানেন রাসুল মানেন উদ্দেশ্য যখন সবার আল-আকসা উদ্ধার করা সেখানে কি আছে আমাদের যোগ্যতা বিভেদ করার ?  ইসলামের আদেশ মজলুমের পাশে দাড়াবার।পছন্দের নয় কিন্তু মজলুম এক ভাইকে রক্ত-পিপাসু দানবের হাতে নিপীড়িত দেখে কেন নিস্ক্রিয় কিংবা উল্লসিত হতে হবে ? সাম্রাজ্যবাদীদের উদ্দেশ্য মুসলিম দেশ গুলির একের সাথে অন্যের বিভেদ হানাহানী বাধিয়ে একে একে সবাইকে দুব’ল করে জ্বালানী সম্পদ দখল করা। ইজরাইলের প্রতিপক্ষ হামাস হিজবুল্লাহকে দুব’লকরা হয়েছে, ইরানের দোসর সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতন হয়েছে।বত’মানে দৃশ্যমান শক্তিশালী ইরানকে ছলে-বলে কৌশলে শেষ করতে পারলে আরব-পারস্য সাম্রাজ্য করায়ত্ব করে বৃহত্তর ইজরাইল রাষ্ট্র গড়া তাদের কেবল সময়ের ব্যপার।

এখনই সময় সব বিভেদ ভুলে আগ্রাসী ইহুদী সাম্রাজ্যবাদীদের রুখতে আজকের মজলুম ইরানের পাশে দাড়াতে হবে।আরবের মাটি থেকে সকল বিদেশি ঘাটি উচ্ছেদ করতে হবে কারণ তারা আরবদের রক্ষায় নয় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানীর অধিকার নিতে আর ইজরাইলকে নিরাপত্তা দিতে আরব দেশে ঘাটি গেড়েছে ।বড় কথা ইরানের আক্রমণ থেকে যারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে নাই তারা আরবদের রক্ষা করবে কিভাবে? ফিলিস্তিনী  হামাস যুদ্ধ শুধু ইজরাইলের সাথে করে নাই তারাযুদ্ধ করেছে পরাক্রমশালী আমেরিকা ও ইউরোপিয়ানদের সাথে। আরব দেশ গুলি এক হয়ে যদি ফিলিস্তিনীদের পাশে দাঁড়িয়ে রক্তপিপাসু দানব ইজরাইলকে প্রতিহত করতো, কোনো ভাবেই গাজায় গণহত্যা হতো না।তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়  আরবদের  অনৈক্যের সুযোগে ফাকা মাঠে প্রশ্রয় পাওয়া ছোট্ট একটা দেশ ইজরাইল রক্ত-পিপাসু দানব  হয়ে  গাজায় গনহত্যার দায় মুসলিম রাষ্ট্র নায়কদের।    

প্রকাশ : দৈনিক গণমুক্তি    তারিখ : ০৩/০৯/২০২৬ ইং

Tuesday, August 11, 2026

কারা সে বংশীবাদক

ছোট বেলায় আমাদের অনেক কিছু শেখানোর সাথে ছোট ছোট কিছু ছড়ার মাধ্যমে আদব-কায়দা শেখানোর চেষ্টা হতো। তেমনি একটা ছড়া ছিল “শিশুর পণ” সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি। আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে। ক্লাসে পড়া না পারলে অথবা নিয়ম-কানুনের ব্যত্যয় ঘটলেই স্যারের বেতের বাড়ি, হাতের তালুতে ডাষ্টারের বাড়ি,টেবিলের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তি কিংবা টেবিলের উপর কান ধরে দাঁড়িয়ে শাস্তি দেয়া আবার সেই স্যারের পরম আদর স্নেহ ভালোবাসা জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।আজকের দিনে কোনো টিচার, কোনো  ছাত্র, কোনো অভিভাবক তা কল্পনা করতে পারবেন তা মনে হয় না। জুলাই বিপ্লবের পর দেখেছি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কিংবা কলেজ অধ্যক্ষকে ছাত্ররা তিরস্কার-কুটুক্তি করে শারীরিক হেনস্থা করে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করতে।বিশ্ববিদ্যালয় তা থেকে বাদ যায় নাই।শোনা যায় একটা বিশেষ দল ইনটেরিম সরকারের উপদেষ্টাগনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্ট্ররে তাদের পছন্দের লোক বসানো সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের ভিসি নিয়োগ দিয়েছিলেন। জুলাই বিপ্লবের পর দুবছর অতিক্রান্ত হ’তে চলেছে।সতের মাসের ইনটেরিম সরকারের তত্বাবধানে নিবা’চনে সুদীঘ’১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গনতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের সরাসরি ভোটে নিবাচীত সরকার ক্ষমতায় বসেছে যার বয়স ছয় মাসও অতিক্রান্ত হয় নাই।

দেখেছি ঢাকার গাজিপুরের ডুয়েট এ ছাত্রদের কম্পিলিট ব্লকেড।কারণ সরকার সেখানে সিলেটের শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন অধ্যাপক সাহেবকে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে রাষ্টপতির অনুমোদনে নতুন ভিসি হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন কিন্তু তাকে কম’ক্ষেত্রে যোগদান করতে দেবে না কারণ তথাকথিত সাধারণ ছাত্রদের পছন্দ নয় । কে ভিসি হবে তা নিদ্ধা’রন করার যোগ্যতা ক্ষমতা দেখানোর ধৃষ্টতা দেখানোর সু্যোগ ছাত্ররা পেল কিভাবে? দেখেছি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারে তিতুমীর কলেজ, ইডেন কলেজে হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলন।দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট মিটিং চলাকালীন ডাকসু নেতারা অশালীনভাবে  ঢুকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে এবং ভিসির সাথে বাদানুবাদ জড়াতে।যেখানে সিন্ডিকেট মিটিং চলমান  সেখানে সিদ্ধান্ত কি হয় সেটার অপেক্ষা করা  প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজনে ডাকসু ভিপি অন্য কাউকে সাথে নিয়ে ভিসির সাথে আলাপ আলোচনা করতে পারতেন কিন্তু করেন নাই। সোস্যাল মিডিয়া প্রচার প্রচারনা থেকে জানা যায়  ভিসি সাহেব ডাকসু নেতাদের পছন্দের নয়।তাই   আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে  একটা ইস্যুকে সামনে এনে পরিকল্পিতভাবে  মব তৈরি করে ভিসি সাহেবকে  বিতর্কিত' করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাক-স্বাধীনতার নামে দেশে লাগামহীন অশালীন–অশ্রাব্য গালিগালাজ,কুরুচিপূন’ অংগভংগী সহ শিক্ষক-অবিভাবক সিনিয়রদের অপমান অপদস্থ করার এক নতুন সংস্কৃতি চালু হয়েছে।পথে-ঘাটেতো বটে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এমনকি স্কুলের আঙ্গিনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। সময় এসেছে অভিভাবকদের  তাদের সন্তানকে শুধু পড়াশুনার জন্য স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালে হবে না ।মাসে মাসে তার খরছের জন্য রক্ত-ঘাম পানি করা টাকা পাঠালেই হবে না।তারা সাবালক হয়েছে তারা ভালোমন্দ বোঝে ভাবলেও হবে না।তাদের এখন খোজ-খবর রাখা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে।তারা কাদের সঙ্গ দেয় , ক্লাসে উপস্থিত থাকছে কিনা জানতে হবে।তাদের রাস্তায় নয়, রাতে কোনো অপরাধপ্রবন এলাকায় নয়,তাদের পড়ার টেবিলে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন মিডিয়ায় আমাদের অনেক সন্তানদের নিয়ে কথা উঠছে তাদের অনেকের  অশ্লিল বক্তব্যের ভিডিও, অশ্রাব্য শ্লোগানের প্ল্যাকাড’ হাতে ছবি পত্র-পত্রিকা-সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে আছে। আমরা অবিভাবক হিসাবে দেশের ভবিষৎ প্রজন্মকে ধংসের হাত থেকে বাচানোর জন্য সেই সন্তানদের দিয়ে সংশোধনের সুচনা করতে পারি।যদি আমরা পারবারিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে না পারি শুধু প্রশাসন দিয়ে সব জঞ্জাল সরানো যাবে না , সব সমস্যার সমাধান আশা করাও যাবে না।

অতি বৃষ্টির ভেতর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেয়াকে কেন্দ্র করে কিছু পরীক্ষাথী’দের অশোভন আচার-আচরণ দেখছি তাতে মনে হচ্ছে জাতী হিসাবে আর পরিচয় দেবার কিছুই আর অবশিষ্ট নাই।পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন কেন? হলে গাড' কড়া কেন? আন্দোলনে কেউ  বোনের আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়েছে আবার  দশম শ্রেণির ছাত্র বলছে বড় ভাইদের সহানুভূতি জানাতে পাশে দাড়িয়েছে।সময় এসেছে সন্তানের দিকে অতি বেশি নজর দেবার। মানুষ বানাতে হবে কাগজের সাটিফিকেট দিয়ে সভ্য বানানো যাবে না।আফসোস হয় রাজনৈতিক  দলীয় নেতাদের কম'কান্ডে যারা ৫ মাস বয়সী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরীক্ষাথী’দের ঘুটি হিসাবে ব্যবহার করেছেন।যা প্রকারান্তরে দেশকে অস্থিতিশীল করতে গিয়ে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন। প্রথমে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আসলো ৮দফা দাবি পরে সরকার পতনের ডাক।সমালোচনা থাকবে এবং  করতে হবে  তবে  তা হতে গঠনমূলক,সমাধান করতে হবে আলোচনার মাধ্যমে।গনতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সামনে এগিয়ে নিতে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সরকারকে এক সেকেন্ড ক্ষমতায় শান্তিতে থাকতে দেব না পণ পরিহার করুণ।মনে রাখতে হবে এটা জুলাই,২৪ না জুলাই ২৬। এখন ক্ষমতায় ফ্যাসিস্ট সরকার নয় গনতান্ত্রিকভাবে নিবা'চনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নিবা'চীত সরকার। মানুষ অনেক ঠকেছে বন্দুকের সামনে বুক পেতে বারবার প্রতারিত হয়েছে।২৪শে আশা ছিল হয় নাই। সুতরাং সরকারের সমালোচনা করুন জনভোগান্তি পরিহার করে প্রতিবাদ করুন। সরকারকে তার নিধারিত' সময় পার করার সুযোগ দিন। তারা যদি জনগণের প্রত্যাশা পুরনে ব্যথ্য' হয় জনগণই নিবা'চনে ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখান করবে।আশায় থাকুন ধৈয্য' ধরুন।

দেশের  অগ্রগতি  ও দেশের শান্তির জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষিত সুনাগরিক। দেশের রাজনৈতিক দলের নেতাদের উচিৎ ছিলো বিপ্লবের পর ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফেরানো এবং  পড়াশোনায় মনোযোগী করা।কিন্তু  করা হয় নাই।বরং চর দখল করার মতো একদল গেছে আর একদল শিক্ষাংগনের দখল নিয়েছে আবার হয়তো অন্য কারো দখল  নেবার চেষ্টা হবে।কথায় কথায় মব হচ্ছে পড়াশোনা চাইতে অশোভন অশ্রাব্য গালিগালাজ উন্নয়নের  গবেষণা চলছে।কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের তাদের অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কমী’দের রাস টানবার চেষ্টা দেখা যায় নাই। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় এসবই বুমেরাং হয়ে নেতাদের গলা টিপে ধরে বলতে পারে  জুলাই বিপ্লবের পর জুলাই যোদ্ধারা যেভাবে  ইনটেরিম সরকারের উপদেষ্টাদের বলেছিল আমরাই আপনাদের  উপদেষ্টা বানিয়েছি। সুতরাং দল-মতের হাজারো পাথ’ক্য থাকতে পারে তাকে  দূরে রেখে সকল শিক্ষাংগন থেকে সকল মব এর  বৃষ বৃক্ষ কত দ্রুত কিভাবে  অপসারণ করা যায়, শিক্ষাংগনকে মানুষ গড়ার আংগিনায় রুপান্তর করা যায়  তার সিদ্ধান্ত  নিতে হবে।এসব করতে একাডেমিক কায'ক্রম ছাড়া  রাজনৈতিক কম'কান্ড সহ  নামে বেনামে সকল সাংগঠনিক কম’কান্ড নিষিদ্ধ করার কথা প্রয়োজনে ভাবতে হবে।

গুনীজনদের অভিমত একটা জাতিকে ধংস করতে এখন আর যুদ্ধের প্রয়োজন নাই, প্রয়োজন নাই দেশ দখলের।  তার শিক্ষা-সংস্কৃতি ধংস করতে হবে, সমাজকে মাদক ব্যাভিচারে ডুবিয়ে দিতে হবে।চারিদিকে তাকালে তার ছড়াছড়ি কল্পনার চাইতেও অনেক বেশি।গত দেড় দশকে শিক্ষাকে নিয়ে বারবার কাটা-ছেড়া পোষ্টমটে’ম করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে ছাত্র-শিক্ষকদের হাতিয়ার বানিয়ে শিক্ষাকে ধংস করা হয়েছে।ছাত্ররা আজ অটোপাশের জন্য আন্দোলন করে, শিক্ষককে বহিস্কারের জন্য আন্দোলন করে । ছাত্ররা এখন পড়ার টেবিলে নাই, লাইব্রেরিতে নাই। ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের পর কিছু অনৈতিক সুবিধা দিয়ে কিছু ছাত্রনেতাদের বিপথগামী করে ধন- সম্পদের মালিক বানানো হয়েছে ।তাদের দেখিয়ে অন্যদের মাঝেও নেতা হবার উদগ্র বাসনা জাগিয়ে দেয়া হয়েছে। চারিদিকে তাকিয়ে আজ কেন জানি আশংকা জাগে কাদের ষড়যন্ত্রে আমাদের এই সোনার ছেলেরা পড়াশুনার টেবিলে না বসে, ক্লাসে না গিয়ে রাস্তায় নামছে, কথায় কথায় মব তৈরি করছে।শিক্ষককে অপমান করছে, সিনিয়রদের যাকে তাকে ট্যাগ দিয়ে অপদস্ত করছে, আইন হাতে নিয়ে অরাজক অবস্থা তৈরি করছে।তারা কোথায় থাকে কোথায় খায়?মিছিল মাইকিং করার কারা দেয় অথে’র যোগান ? আমাদের সোনার ছেলে-মেয়েদের ভবিষৎ,তাদের স্বপ্নকে ধংস করছে দেশের ভবিষৎ কান্ডারীদের ধংস করছে। জানতে চাই কারা  সে  বংশীবাদক কে পারবে ওদের অগ্রযাত্রা করতে পথরোধ ?

প্রকাশ : দৈনিক গণমুক্তি   ১২/০৮/২০২৬ ইং

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA 

Thursday, July 30, 2026

উচ্চস্বরে ভয় তাড়ানোর গান

আন্ত’জাতিক আইন-কানুনের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে সব’শক্তিতে আমেরিকা-ইজরাইল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করা এবং ইরান তার প্রতিঘাত দিতে শুরু করায় আরব-পারস্য এলাকা আজ রণক্ষেত্র।আলোচনা হয়, যুদ্ধ বিরতির হয়,বিরতির সুযোগে অস্ত্রভান্ডার বাড়িয়ে আবার আক্রমণ।সেই রণ-দামামায় পুড়ছে তেল-গ্যস , ধংস হচ্ছে অজস্র অবকাঠামো ,আবাস, শিক্ষায়তন, চিকিৎসা-সেবা কেন্দ্র হাসপাতাল উপাসনালয়, বাড়ছে লাশের সারি প্রতিদিন।গৃহহীন লাখ লাখ মানুষ বিপন্ন মানবতা চারিদিক। জ্বালানি তেলের বাজার উদ্ধ’মূখীতে গোটা বিশ্ব অথ’নীতি আজ টালমাটাল।বৃহদ শক্তিশালী দেশের কাছে ছোট ছোট দূব’ল দেশ গুলির সাবো’ভৌমত্ব এবং মানুষের নিরাপত্বা হুমকীর সম্মুখীন।বৈদেশিক মুদ্রার যোগানদাতা আমাদের লক্ষ লক্ষ ভায়েরা মা-বাবা,স্ত্রী-সন্তান আপনজনবিহীন চরম বিপদের মাঝে আটকে পড়েছে।দেড় দশক পর গনতান্ত্রিকভাবে নিবা’চীত সরকার এমনি শংকটময় মুহুত্তে’ আজ ক্ষমতায়।

নিবা’চনের বাজারে কিছু এমপি হতে চাওয়া নেতা এবং তাদের অনুসারী কমী’দের অতি উচ্চ স্বরে অতিবিচ্ছিরি অতি কদয’ অতি শ্রুতিকটু অনাকংখিত বচন শুনেছি এবং অতি-দৃষ্টিকটু অঙ্গ-ভঙ্গী দেখেছি । তাদের অনেকেই জনরায় না পেয়ে  নিবা’চনে হেরেছেন। দেশে এখন নিবা'চীত নতুন সরকার। নতুন সরকারের শপথের আগেই শুনেছিলাম বিএনপিকে ক্ষমতায় এক সেকেন্ড ও শান্তিতে থাকতে না দেবার ডাক। তাই দেখছি ক্ষমতায় বসতে না বসতে কেউ আর একটা জুলাই বিপ্লবের ডাক দিচ্ছে, কেউ আবার ক্ষমতাসীন বিএনপিকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিচ্ছে।শিক্ষাঙ্গন দখলে নিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারে ছাত্র রাজনীতির বন্ধের আন্দোলনের নামে বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ ও শান্তি-শৃংখলা নষ্ট করার চেষ্টা দেখেছি।দেখেছি জ্বালানি তেলের ডিপোতে তেলের জন্য সুদীঘ’ লাইন,সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে ঘরে-বাহিরে বিষোধগার। কিন্তু সরকার-বিরোধীদলের কমিটির নাম না নিতেই সব লাইন দেখেছি হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো মিলিয়ে যেতে । আরও আছে  রসুনের কোষের মতো আকিকা ছাড়া  মুখোশের আড়ালে বাহারী নামের দলের দৃষ্টিকটু শ্রুতিকটু  হাক-ডাক ।এখন কথায় কথায় নতুন নতুন ইস্যু তৈরী করে রাস্তায় নেমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।

মাঝে মাঝে বড় বেশি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি।সত্তুরের আগের কথা। খুলনার বানিয়াখামারে বাড়ির সামনের রাস্তা  কাচামাটির  এবং এলাকাটিতে  তখন তেমন  জনবসতি ছিল না। রাস্তার দু’পাশে ঘন কাটাবনের  জঙ্গল। তার পাশে একটা  বিশাল বড় শীল কড়ই গাছ ।পাশে খালি ছোট এক টুকরা মাঠ পাশ দিয়ে বয়ে চলা খাল, জোয়ার-ভাটায় পানি ওঠা-নামা করে। সেই শীল কড়ই  গাছের গভীর ছায়ায় ভড় দুপুরেও তার নীচে রাতের মতো অনুভূত হত, ভয় লাগতো।বিদ্যুৎ ছিল না।রাতে পরিবার গুলি কেরোসিনের কুপি বাতি বা হারিকেন বাতির  উপর নির্ভর ছিল।অন্ধকার রাতে ভয়ংকর মনে হওয়ায় রাস্তায় চলাচল করতে বড় বেশি সাহসের প্রয়োজন ছিল। ঘড়ের পশ্চীমের জানালা খুললে দেখা যেত শীল কড়ই গাছ।ভাই-বোন সবাই ভয় পেতাম । তাই সন্ধ্যা না হতে জানালা বন্ধ রাখা হতো। সন্ধ্যার পর রাস্তা  দিয়ে ঘরে ফেরা দ্রুত ধাবমান কারো না কারো যাওয়ার সময় প্রতিদিনই ঘরে বসেই অতি উচ্চস্বরে  অসংলগ্ন বেসুরো গলার গান শুনতে পেতাম। কৌতূহলী হয়ে কেন তারা এমন ভাবে গান গায় একবার মা এর কাছে জানতে চেয়েছিলাম । তিনি বলেছিলেন যে তারা  অন্ধকারের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ভীষণ ভয়ে থাকে  আর সেই ভয় মন থেকে তাড়াতেই উচ্চ স্বরে তাদের ভয় তাড়ানোর গান গাওয়া। তিনি অনেক আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তার সে কথা এত বছর পরও আমার মনে রয়ে গেছে।

আজ বিভিন্ন নেতা-কমী’ তাদের অনুসারীদের বচন-বাচন হাক-ডাক শুনে  অনেক আগের সেই বিশাল বড় শীল কড়ই  গাছ পার  হতে থাকা ভীত ধাবমান পথচারীদের ভয় তাড়ানো গানের কথা মনে পড়ছে। কারণ হাদীর খুনী ধরা পড়ছে না কেন তার বিচার নিশ্চিত করছে না কেন , বিএনপির একজন প্রবীন নেতাকে সেই খুনের আসামী করে তাকে চাদাবাজ বলে তিরস্কার করতে করতে তাকে মৃত্যুর মুখে দাড় করিয়ে ক্ষান্ত দেয় নাই।তার মৃত্যুও কামনা করেছে।নেতার নাম ধরে চিৎকার করে বক্সিং মেশিনে সজোরে ঘুষি মারতে দেখেছি।কমী’দের দিয়ে নেতা-নেত্রী,তাদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য ফটোকাড’ সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে প্রপাগান্ডা করেছে।আইনী ব্যবস্থা নিলে দলের বড় নেতারা বাকস্বাধীনতার প্রশ্ন তুলেছেন।হাদীর খুনের আসামী যখন ভারতে ধরা পড়েছে এবং সরকার যখন তাকে আনার  চেষ্টা করেছে তখন দেখেছি আবার আওয়াজ তুলছে জজমিয়া নাটক নতুন করে সাজিয়ে সরকার তাদের অনেক নেতাকে আটকাতে পারে। প্রশ্ন জাগতেই পারে এরা কি নিজেদের কোন অনৈতিক কম’কান্ডের কারণে মনে মনে ভয় পাচ্ছে, তারা কি কোনো না কোনো ভাবে কোনো অপরাধে জড়িত থাকায় নিজেদের অপরাধী ভাবছে? ভয় তাড়ানোর জন্য তারা কি উচ্চস্বরে, অস্বাভাবিক অশালীন শব্দ চয়ন করে  তাদের ভেতরের সেই উদ্বেগ সেই ভয় ভুলে থাকবার  চেষ্টা করেছে?

আমরা এখন আর  কেউ কমী' অনুসারী কিংবা দশ'ক নই, চাই সবাই এখন নেতা হ'তে। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিষ্ট সরকারের নেতা কমী’ এবং জুলাই বিপ্লবের কিছু নেতা কমী’দের অবস্থা দেখে সবাই এখন ধরেই নিয়েছে নেতা  হওয়া মানেই অতিদ্রুত  গাড়ি -বাড়ির মালিক, নিশ্চিত কোটিপতি। জন-মানুষের প্রকৃত নেতা হতে হলে নিজেকে আগে পরিশুদ্ধ করতে হবে ভাবছি না। নিজেকে অন্যদের থেকে যোগ্য হতে  হবে ভাবছি না।নেতা হতে হলে নম্র-ভদ্র বিনয়ের সাথে  সম্মান দিতে এবং সম্মান নিতে শিখতে হয়, মাটি ও মানুষের ভালোবাসা পাইতে হয় ভাবতে চাই না।অশ্লীল অশালীন আচার-আচরণ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত ভদ্রতা -নম্রতা, শালীনতার আবহ নষ্ট করে নেতা হবার নয়,নেতা হতে হলে ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রয়োজন।মব তৈরি করে, উচ্চস্বরে চার হাত পা ছুড়ে আস্ফালন  করে হাস্যরসের যোগান দিয়ে কিছু মানুষের উচ্ছ্বাস, শীৎকার আর  হাত তালিতে নেতা হওয়া সম্ভব হলে, রাস্তার  ফুটপাতে দাঁড়িয়ে যারা চুলকানির মলম বিক্রি করে তারাও কি হতে পারতো না যোগ্য নেতা?

আসুন শালীন অশালীন বোঝার চেষ্টা করে আমরা ভদ্র হবার চেষ্টা করি।শান্তি –সম্প্রীতির পরিবেশ মজবুত করি। শংকরের কোনো এক লেখায় পড়েছিলাম মন যা চায় তা করতে পশুও চায় পাথ’ক্য মানুষের আছে সংযম পশুদের তা নাই।তাই মনকে বোঝাতে হবে অকস্মাৎ  রাত না পোহাতে শ্রদ্ধাহীন ভালোবাসাহীন ঘৃণা আর আতংকের দানব হওয়া যায়, জোকার, ভিলেন হওয়া যায় কিন্তু জন-মানুষের  শ্রদ্ধার পাত্র, প্রাণের নেতা  হওয়া যায় নারে পাগলা। তবুও কেন জানি  চারিদিকে দেখি  বসেছে পাগলের মেলা।এমন লক্ষণে বারবার প্রতারিত হয়ে দেশের  ভবিষ্যত ভাল হবে  আশা করতে পারি কিভাবে ?

নতুন সরকার দেশের বেহাল অবস্থায় হাল ধরতে চাইছেন।সরকারের ভুলত্রুটির গঠনমূলক সমালোচনা হবে সংশোধনের সময় দিতে হবে।দেশের ভেতরে জঙ্গী তৎপরতার হুমকীর কথা উঠছে,প্রতিবেশী দেশের পশ্চীম বাংলায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার, দেশের ভেতর ভারতপ্রেমীদের আস্ফালন,ডিসেম্বরে আসতে চাইছে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার, জাতিসঙ্ঘে অগাষ্টিনা চাকমাদের দেশ বিরোধী মিথ্যাচার, পাহাড়েও অশান্ত ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ষড়যন্ত্রের আলামত।ভাবতে হবে ইরানের মতো সরকারকে বিব্রত করতে কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নের আমাদের কেউ কোনো ভুমিকা রাখছি কিনা। ক্ষত-বিক্ষত ইরানকে সামনে রেখে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কারো মাসে'নারি হয়ে কাজ করবো নাকি দেশ প্রেমিক হয়ে দেশের সাবো’ভৌম রক্ষা করা ও দেশের মানুষের শান্তির জন্য কাজ করবো ? সময় এখনই দেশ-প্রেমিক হতেই হবে, আর কোন বিকল্প নাই।

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA

প্রকাশ : দৈনিক গণ্মুক্তি  ৩০/০৭/২০২৬ ইং

Tuesday, July 28, 2026

সবার আগে বাংলদেশ

আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জুলাই বিপ্লবের পর থেকে শুরু হয়েছিল বিশেষ একটা দলের নানা রকমের ফাদ পাতা।দীর্ঘ দেড় দশক আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে লাখ লাখ বিএনপির নেতা-কর্মী গনতন্ত্রের দাবীতে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে জেল-জুলুম ,গুম-খুন, হামলা-মামলা,ঘড় ছাড়া-বাড়ি ছাড়া, স্ত্রী -সন্তান পরিবার-পরিজন ছাড়া, নিপীড়ন -নিযা'তনে পযু'দস্ত, কিন্তু  নিজেদের পরিচয় লুকায় নাই, নাম পাল্টায় নাই দল পাল্টায় নাই, মোনাফেকি করে নিজেদের আদশ' দলের প্রতি আনুগত্য অন্য দলের কাছে বিকায় নাই। পালিয়ে বেড়িয়েছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে।কোথাও দিন মুজুর কোথাও রিক্সা চালিয়ে খেয়ে না খেয়ে নি’ঘুম রাত কাটিয়েছে, সপ্তাহ-মাস বছর হিসাব নাই।বিপ্লবের পর সেই  নিবা'চনের কথা বলতেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের চাদাবাজ, সেই দলকে নব্য ফ্যাসিবাদ বলে দেশের মানুষের কাছে চিহ্নিত করতে এহেন কোনো প্রপাগাণ্ডা নাই যা তারা করে নাই।অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল লীগ নাই জাপা নাই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারলেই মঈন-ফখরুদ্দিনের মাইনাস টু ফরমুলা বাস্তবায়ন হবে, নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যাবে।পরিকল্পনা অনুসারে নিজেদের মত বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে ফেলা যাবে।মুছে ফেলা যাবে ৭১ এর নিজেদের বিত'কিত পুতি-গন্ধময় কম'কান্ড।সেই  পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বারবার ব্যথ' হয়েছে।

রাজনীতি আগের সেই সম্মানের জায়গায় নাই। রাজনীতি এখন গরীব ধনী হয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবার পুজিবিহীন ব্যবসা। রাজনীতিতে এখন ভালো মানুষ ঢুকলে ভালো থাকতে পারে না।সব রাজনৈতিক দলের মতই বিএনপিতেও খারাপ মানুষ আছে,অস্বীকার করা যাবে না।কমী' এবং অনুসারীর সংখ্যা অনুপাতে অপরাধের সংখ্যা ও ভালো কাজের সংখ্যা  অন্য দলের তুলনায়  বেশি হবারই কথা । কথায় আছে হাতী যেমন তার লাদাও তেমনই তো হবে। দল অপরাধের প্রমাণ পেলে কেন্দ্র থেকে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করছে কিন্তু তার প্রচার নাই। নিবা'চনের আগে এবং পরে  বিএনপির বিরুদ্ধে  এনসিপির নেতারাও মাঠে নেমে  যে নোংরা বিদ্রুপ এবং শ্লেষাত্মক আক্রমণ মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালিয়েছে তা জাতি আশা করে নাই। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংঘাত এড়াতে  প্রশংসাতিত ধৈয্য’ এবং সংযম দেখিয়েছে।তারা বুঝতে পারে নাই বিএনপি কমী’ নিভ’র  দল নয় তার সাথে সম্পক’ মাটি ও মানুষের, তারাই দলের প্রান শক্তি।

অবশেষে  সকল ছলা-কলা ব্যথ' করে সাধারন মাটি ও মানুষের ৫১% ভোটে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বিএনপি জয় লাভ করেছে।বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার কমিটির সদস্য  হিসাবে শপথ না নেয়ায় তাদের গাদ্দার বলা হয়েছে।কেউ আবার  নতুন বিপ্লবের ডাক দিচ্ছেন।স্মরণ করা প্রয়োজন ইনটেরিম সরকারের ঘটা  করে উদযাপিত জুলাই সনদ সই করার নিধা'রিত দিন বিএনপি উপস্থিত থেকে সনদে সই করেছে।এনসিপি  কি সই করেছিল, করে নাই।শোনা যায় সই করেছে উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের শেষ কম'দিবসে।জুলাই বিপ্লব পরবর্তীতে সমন্বয়কদের ইনটেরিম সরকারের সহযোগী হবার কথা নয় তারা হয়েছে।অনৈতিক কম'কান্ডে জড়িয়ে জাতির  প্রত্যাশার নতুন সুয্য' না উঠতেই  সমন্বয়করা কোটি টাকার গাড়ি, কোটি  টাকার মালিক হয়ে  জাতির সাথে প্রথম গাদ্দারী করেছে। জুলাই সনদে সই না করে  তারা সেদিন কক্সবাজারে সমুদ্রবিলাসে গিয়ে  জাতির সাথে দ্বিতীয়বার বেঈমানী করেছে।শোনা যায় নিবা’চনে বিএনপির সাথে আসন ভাগাভাগিতে ব্যথ'-ব্যাথিত হয়ে  জুলাই বিপ্লবের পর জামায়াতকে গালাগাল করা একেবারেই বিলীনপ্রায়  দলের কয়েক নেতা এমপি পদের জন্য সেই জামায়াতের সাথে জোট করে নিবা'চন করে আবারও জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। ফলে যারা দেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী হীরো হবার কথা তারা জামায়াতের ছায়াতলে থেকে মাত্র ৩% ভোট পেয়ে  কোনোভাবে টিকে আজ ভিলেনে পরিনত হতে যাচ্ছে। তারা বুঝতে পারে নাই অতিদ্রুত দল করে রাজনৈতিক নেতা হয়ে ,ক্ষমতার মজা নিয়ে, নানা রকম অনৈতিক কম’কান্ডে জড়িয়ে, সেনাবাহিনীকে বিত’কিত করতে গিয়ে,সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা,সরকারী কম’কতা’ শিক্ষকদের সাথে শিষ্টাচার বহি’ভুত আচার-আচরণ করে সারাক্ষন জামাতকে গালি দিয়ে,একটা এমপি হতে তাদের সাথে জোট করে মানুষের মাঝে তাদের আকাশ্চুম্বী গ্রহন যোগ্যতা কতখানি নিচে নামিয়েছে।

মনে রাখতে হবে  বিএনপি জুলাই সনদ দিয়ে জনগণের রায় পায় নাই তারা তাদের ৩১ দফার দলীয় ম্যানুফেষ্ট দিয়ে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতা এসেছে।তারা জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার কমিটি সদস্য হিসাবে নয় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে নিবা’চীত হয়েছেন। জুলাই সনদ মানবে না তারা কখনো বলেও নাই।বরং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুন'বাসনের অংগীকার করেছে বহুবার।তারা বলছে সনদ অনুযায়ী অক্ষরে অক্ষরে  সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। তাই নিজেদের ব্যথ'তা এবং অপরাধ থেকে বাচতে ক্ষমতার চেয়ারে বসতে না বসতে পাচ মাস বয়সী সরকারকে  ফেলে দেবার শ্লোগান তোলা কারো ঠিক হয় নাই। দীঘ' দেড় দশক পর গনতান্ত্রিক পন্থায় নিবা'চনের মাধ্যমে নিবা'চীত সরকারকে সহায়তা করা সবারই দায়িত্ব।মতবিরোধ থাকবে কিন্তু গনতন্ত্রের সৌন্দয্য' আলাপ আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।মেনে নিলাম আজকের বিরোধীদল খুব বেশি আশাবাদী ছিল ক্ষমতায় যাবার কিন্তু  হয় নাই। তাতে ক্ষোভ থাকতেই পারে কিন্তু দেশ ও দেশের মানুষের শান্তির জন্য বিজয়ী দলকে সময় দিতে অসুবিধা কোথায়? এখন উদ্দেশ্যই যদি হয় দেশ ও দেশের মানুষ গোল্লায় যাক আমরা যেহেতু ক্ষমতায় যাইতে পারি নাই সুতরাং এক মুহুত্ত’ কাউকে ক্ষমতায় শান্তিতে থাকতে দেব না তাতে আশংকা জাগে।তখন জামাত-এনসিপি জোট কারো ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হয়ে কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে জন রায়ের বিরুদ্ধে দেশের ভেতর অরাজকতায় নামার আগে খুব বেশি  ভাবতে হবে।

ভুলে গেলে চলবে না জুলাই বিপ্লবে নাহিদ-হাসনাত-সারজিসরা  গ্রেফতার হয়ে বহুল আলোচীত ডিবি হারুনের খাবার হোটেলের টেবিলে থাকতেই আন্দোলন  শেষ হয়ে যেত যদি না সেদিন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ছেলেরা, সকল পেশার সব’স্তরের সাধারন মানুষ নতুনভাবে জেগে উঠে রাস্তায় না নামতো।আজকে সব ভুলে জামাত-এনসিপি জোট একমাত্র নিজেদেরই একক কৃতিত্ব দাবী করে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মত ২৪ এর চেতনা বেচতে শুরু করে যখন তখন যাকে যেভাবে হুমকি দিয়ে ভুল করছে।এক সময় তারা যে সেনাপ্রধান এবং তার বাহিনীর নিরপেক্ষতায় বিপ্লব সফল হয়েছিল  তাকেও কম বিব্রত করতে, কটাক্ষ করতে ভাবে  নাই।সেই সেনা প্রধান এবং তার বাহিনীর নিরলস চেষ্টা, নিরপেক্ষতায় আবারও একটা রক্তপাতহীন নিবাচ’ন জাতিকে উপহার দিয়ে প্রমান করলেন রাজনৈতিক নেতারা দেশে সমস্যা তৈরী  করে আর শেষে জাতির গব’ সেনাবাহিনীকে সমাধানে রাস্তায় নামতে হয়।স্মরণে রাখতে হবে জুলাই বিপ্লবের জুলাই যোদ্ধাদের দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে কিন্তু বিপ্লবের পর অনৈতিক কর্মকান্ডের দায়মুক্তি জাতি কোনো নেতাকে  দেয় নাই।

বত'মান অবস্থায় দেশ আর কোনো অরাজকতার চাপ নিতে পারবে, মনে হয় না।সরকার দলীয় মন্ত্রী–এমপি, নেতা-কমী’দের সচেতন হতে হবে,মিডিয়ায় কাভারেজ পেতে অতিআবেগ অতিবাচলতা ত্যাগ করতে হবে,দেশের কোন নাগরিক কোনভাবে কোনো নেতা-কমী’দের দ্বারা যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়  সতক’ থাকতে হবে। চারিদিকে হাজার লক্ষ চোখ ত্রুটি ধরতে অপেক্ষায় আছে।আছে তিলকে তাল করে উদর পিন্ডি বুদর ঘাড়ে চাপিয়ে প্রপাগান্ডা ছড়াতে।একটু ভুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের  সকল অজ’ন ম্লান হতে পারে,তার জনকল্যানের সকল প্লান ভেস্তে যেতে পারে।গত রোজায় জামায়াতের ইফতার পাটি’তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের বক্তব্য শুনে আশাবাদী হয়েছিলাম একে অপরের প্রতি হুমকী ধামকি কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হবে কিন্তু হয় নাই।আমরা দেখেছি রাজপথে আমেরিকার ইরান আক্রমণের প্রতিবাদ মিছিলে “ ইরানে হামলা কেন বিএনপি জবাব চাই” “ইরানে হামলা কেন তারেক জিয়া জবাব চাই” শ্লোগান, প্রতিপক্ষ নেতাদের নিয়ে কুরুচীপুণ’ পোষ্ট ,ডাকসু , রাকসুর নেতাদের ন্যাক্কারজনক অশালীন বক্তব্য শুনেছি। এখন তাদেরই কেউ কেউ প্রশ্নপত্র কঠিন কেন, হলে গাড’ কঠিন কেন এমন বাহানায় শিক্ষা-মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবীতে অভব্য--অসভ্য আচরণ করা পরীক্ষাথী’দের উৎসাহ দিচ্ছেন।আফসোস হয় কি শিক্ষা অতীত থেকে আমরা পেলাম ? রাষ্ট্রের সংস্কার চাইছি অথচ নিজেদের সংস্কার করতে পারি নাই।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চীম বাংলার নিবা’চনে উগ্র কট্ট’র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ক্ষমতায়ন।সীমান্তে পুশ-ইন  এর চেষ্টা, বিভিন্নভাবে দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে দিয়ে শান্তি-সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেশের গাইবান্ধায় বিশাল রামমুতি’ নিমা’নের নামে একটা ফাদ পাতা হয়েছে, সারাবিশ্ব জুড়ে  যুদ্ধাবস্থায় দেশকে অস্থিতিশীল করে  দেশের স্বাধীনতা- সাবো'ভৌমকে বিপন্ন করার চেষ্টা চলছে।এমন অবস্থায় দেশ ও দেশের মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য  অতি প্রয়োজন এখন  জাতীয় ঐক্য এবং সকলের দেশ-প্রেমিক হবার।সবাই মিলেমিশে কাধে কাধ রেখে আসুন দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করে আত্ননির্ভরশীল একটা সুন্দর নিরাপদ বাংলাদেশের গবী'ত নাগরিক হবার চেষ্টা করি।মনে-প্রানে ধারন করে নিজেদের জীবনে তা লালন-পালন করতে আওয়াজ  তুলি  “ আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা , সবার আগে বাংলদেশ” ।

প্রকাশ ঃ দৈনিক গণমুক্তি   ঃ ২৮/০৭/২০২৬ ইং

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA


Sunday, July 5, 2026

দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে

মুতি' কত বড় হবে তা দিয়ে ভক্তের ভক্তি পরিমাপ করা যায় না। বিশ্বের সব'বৃহত  হিন্দু রাস্ট্র ভারতেও এতো বড় মুতি' আছে কিনা জানা নাই।রাম ভারত বষে' কখনো পুজার দেবতা ছিলেন না। কট্টর  উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ধম'নিরপেক্ষ ভারতকে হিন্দুত্ববাদী রাস্ট্র বানাতে রামকে হাতিয়ার বানিয়েছেন। ভারতজুড়ে উগ্র সাম্প্রদায়িক দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর জয় শ্রীরামের নামে গো-মাংস রাখার অজুহাতে নিব্বি'চারে মুসলমানদের উপর নিম'ম নিপীড়ন নিযা'তনে আহত নিহত করা হয়েছে, বুলডোজার নীতি অবলম্বন করে বসতভিটা থেকে  উচ্ছেদ করা হয়েছে, ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ সহ অসংখ্য মসজিদ -মাদ্রাসা ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে ভারতকে মুসলমানদের রক্তে রক্তাক্ত করা হয়েছে, নিপীড়িত মুসলমানদের অশ্রুজল আর গংগা-যমুনা, নম'দা, সবরমতী, সরযু নদীর জলকে  একাকার করা হয়েছে।সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্য পশ্চিমবাংলায়  মমতা ব্যানাজি’র তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকায় এতদিন তেমন সাম্প্রদায়িক হানাহানি ছিল না।কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলে  শুভেন্দ্রুর বিজেপি সরকার জয়শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে একই কায়দায় মুসলমানদের মসজিদ-মাদ্রাসা ভাংচুর করছে,মুসলমান নিধন করছে ,মুসলমান উচ্ছেদ করছে। মনে হয় পশ্চিমবাংলার মুসলমান বাসিন্দাদের বিতারণের পণ করে যেন সে ক্ষমতায় বসেছে।প্রতিদিন ভারতীয় বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশে পুশ ইন করতে চেষ্টা চালিয়ে সীমান্তকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
ধম'-বণ' নিব্বি'শেষে শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য উদাহরন বাংলাদেশ।যার ধম' সে পালন করবে তাতে কারো বাধা দেয়ার অধিকার নাই।সমস্যা রংপুর বিভাগের অতি স্পর্শকাতর গাইবান্ধা জেলার কেশবপুরে বিভিন্ন মতবাদের মাত্র ১৫/১৬ হাজার সনাতনী অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকায়  বিত'কিত ব্যাক্তির কথিত নিজ উদ্দ্যগে বিভিন্ন দেব-দেবীর মুতি’ সহ অতিকায় রাম মুতি’ নিমা'ন ।শোনা যাচ্ছে সেখানে অন্যান্য দেব-দেবীর মুতি'র সাথে সু-উচ্চ শ্রীরামের মুতি’ তৈরি প্রায় শেষ হওয়ার পথে।সেই খবরে পক্ষ-বিপক্ষ বাদ-প্রতিবাদ উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়ায় প্রশাসন কাজ বন্ধ রাখার আদেশ দিয়েছে।শান্তি ও সম্প্রীতির সবার সমান অধিকারের বাংলাদেশে বিভিন্ন ধমে’র বিভিন্ন ভাষা-ভাষীর বসবাস সবাই বাংলাদেশী।দেশে মন্দির হবে সেখানে মুতি’ হবে যার ধম' সে পালন করবে বাধা হবে কেন?
মন্দির, প্রতিমা বানানো নিয়ে কোনো কালে কোনো আপত্তি কি ছিলো বাংলাদেশে? গাইবান্ধার  মাত্র কয়েক হাজার হিন্দু অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকায় কেন এতো বিশাল আয়োজন?যেখানে প্রতিবেশী দেশের বড় বড় নেতারা হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন রংপুরের চিকেন নেক দখলে নেবার।কেউ কেউ প্রকাশ্যে জানান দিচ্ছে বাংলাদেশকে গাজা বানাবার খায়েশের কথা। বাংলাদেশে সদ্যনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী হেটে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন দুই দেশে একই আকাশ একই বাতাস। তিনি উভয় দেশের ১৬০ কোটি মানুষের শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, অভিন্ন স্বপ্নও আছে বলেছেন।তিনি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে। অখন্ড ভারত সাম্রাজ্যের স্বপ্নের  দিনেশ ত্রিবেদীর কি অসাধারণ কূটনৈতিক প্রকাশ। আমাদের দেশের জন্য আশংকা জাগে কিন্তু সাংবাদিকদের কেউ প্রশ্ন করতে পারেন নাই যে এতো বড়  স্বপ্নের মাঝে কেন ভারতে মুসলমানদের উপর এতো বেশি পৈশাচিক নিপীড়ন-নিযা’তন চলছে? কেন পুশ ইন করে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ানো হচ্ছে ?কেন জুলাই বিপ্লবকে মেনে নেয়া হয় নাই বরং জুলাই বিপ্লবে নিব্বি’চারে মানুষ হত্যা দীঘ’ সতের বছর গুম-খুনের দায়ে দণ্ডিত অপরাধী এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের প্রশ্রয় দিয়ে সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কম’কান্ড চালাবার সুযোগ দেয়া হচ্ছে? অভিন্ন নদীর উজানে বাধ দিয়ে কেন শুকনো মরশুমে বাংলাদেশের মানুষদের খরায় শুকিয়ে আর ভরা বষা’য় ডুবিয়ে মারছে ? কেনই বা বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশি মানুষ মেরে গরু চোরাকারবারী বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে ? চির বৈরি পাক-ভারত সীমান্তে এমন ঘটনা কখনো কি  ঘটে ? কিন্ত পোষ্য দালাল “ আমরা ছোট্ট দেশ, আপনারা আমাদের পাশে বৃহৎ শক্তি, আপনারা আমাদের লালন-পালন করবেন  ” বলতে ভুল করি নাই। 
আমাদের দেশের হিন্দু মহাজোটের বড় এক নেতা  যিনি বাংলাদেশকে দখল করতে ভারতকে আহবান করেছিলেন আজ  তিনি গাইবান্ধার মত সারা বাংলাদেশে একইভাবে মন্দির মূতি' বানানোর হুমকি দিচ্ছে? অন্য এক হিন্দু মহাজোটের নেতা যার সাথে পশ্চীমবাংলার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের হাস্যজ্জল ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাসছে তিনি শাহবাগে দাড়িয়ে রংপুর থেকে মুসলমানদের চলে যেতে বলছেন।যে কোনো ভাবেই গাইবান্ধায় তারা রাম মন্দির করবে?  আরেক জন হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ দাবি করছেন। আমার সোনারবাংলার চারিদিকে তাই আজ দেখি কেবল শুকুন আর হায়েনার দল যারা খুবলে খেতে  চায় আমার মাতৃভুমি বাংলাদেশকে। প্রশ্ন,কোথায় পাচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলার এতো সাহস এতো শক্তি?
জুলাই বিপ্লবের পর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক শুন্যতায় বাংলাদেশে জয়শ্রী রাম আমদানি হয়েছে।সেদিন জয়শ্রী রাম শ্লোগানের সাথে "রক্তে আগুন লেগেছে, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায় স্লোগান ছিল।এমন আন্দোলনের মাঝে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে আলীফ নামের এক আইনজীবিকে হত্যা করা হয়। আজ আরও সংঘটিত হয়ে  গাইবান্ধা এবং   ঢাকায় তারই আবার শোডাউন হচ্ছে। সুতরাং গাইবান্ধার বিষয়  ধমী'য় নয় রাজনৈতিক, আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র।গাইবান্ধার কেশবপুরের মন্দির বাংলাদেশীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটা ফাদ।আমাদের দেশের কিছু মানুষ ভারতের প্রতি অতি বেশি  অনুরক্ত, হতেই পারে ভারত তাদের তীথ'স্থান। কিন্তু বড় সমস্যা, মনে তাদের বড় সাধ ভারতের সাথে একিভুত হবার।তারাই ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হয়ে দেশকে আজ অস্থিতিশীল করতে চাইছে।১৮ কোটী মানুষের বাংলাদেশ শান্তি-সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।পাশাপাশি খালি কলস থাকলেও ধাক্কাধাক্কি লাগে।ব্যাক্তিগত,আথি’ক দেনা-পাওনা,সহায়-সম্পত্তির লোভে রাজনৈতিক দন্দ সহ নানা কারণে মারামারি খুনা-খুনি হলেও কখনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নজির নাই। রামের মূতি'কে যারা অপমান করেছে তাদের অন্যায় আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।ইসলামে অন্য ধমে'র দেব-দেবীকে গালি দেয়া নিষিদ্ধ আমরা তাদের ঘৃণা করি এবং অপরাধীদের দৃস্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করি।
শান্তি-সম্প্রীতির সেই বাংলাদেশকে আজ একটা দাঙ্গা বাধিয়ে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে।এমন সুযোগে দেখলাম বরিশালে ১৪ বছর আগে ক্রয়কৃত জমিতে বিল্ডিং করে বসবাস,এতোদিন  কোন দাবি নাই কোট' কাছারিতে মামলা নাই । মালিক দাড়ি টুপি পড়া এক ভদ্রলোক তাকে জংগী ট্যাগ লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে প্ল্যাকাড’ নিয়ে মানব বন্ধন করছেন একদল সনাতনী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায়  আস্তে আস্তে সব পালাতে থাকে। আমাদের দু'ভাগ্য আমরা সুপ্রতিবেশী পাই নাই আর ইচ্ছা করলেও তা পরিবত'ন করা সম্ভব নয়। এদেশে তাদের অনেক দালাল আছে কিন্তু সেদেশে আমাদের কোন দালাল নাই। সে দেশে সংখ্যালঘুরা এতো অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করছে কিন্তু তাদের  মাতৃভুমি ছাড়তে চায় না কারণ তারা দেশ প্রেমিক,তাদের তাড়াতে পুশ ইন করতে হয় আর আমরা দালালরা এক পা ওপারে রেখে সারাক্ষণ দাড়িয়ে থাকি অপেক্ষায়।প্রশ্ন দেশের সাবো'ভৌমত্বের উপর  হুমকী গাইবান্ধার  এমন প্রকল্প এতো দ্রুত  কিভাবে বাস্তবায়ন হলো? সেখানকার  স্থানীয় প্রশাসন,দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা, ধমী’য় নেতারা এতো দিন কোথায় ছিলেন? দেশের   বত'মান পরিস্থিতির দায় তারা কি এড়িয়ে যেতে পারবেন?
আবেগের এখন আর সময় নাই ।দেখি বেটা করে কি ভাবারও সময় নাই।প্রিয়া সাহার মাকি'ন প্রেসিডেন্টের কাছে নালিশের কথা আমরা ভুলে গেছি।তারা কিন্তু তাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে।সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে নতুবা পচতাতে হবে।স্মরণে রাখা প্রয়োজন ইরানে আমেরিকা-ইজরাইলের যৌথ আক্রমণের আগে সরকার পতনের লক্ষে ইরানের অভ্যন্তরে মোসাদের এজেন্ট দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভ তৈরি করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে আমাদের দেশের সীমান্তের ওপারে ইজরাইলের এক বিত’কিত ব্যাক্তিকে দেখা গেছে। শুধু তাই নয় ভারতে নিযুক্ত ইজরাইলী দুতের বাংলাদেশে হামাসের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছে।সরকারের উচিৎ যারা দাঙ্গা বাধিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে তাদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা ।শুধু সরকার নয়, আমাদের মনে রাখতে হবে যারা দাঙ্গা বাধিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, তারা সবাই অথ’বিত্তের মালিক সমস্যা দেখলে বাকি এক পা তুলে ওপারে আয়েশি জীবন-যাপন করবে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশের সাধারণ মানুষ। তাই দেশদ্রোহী, বাটপার  প্রতারকদের হাত থেকে দেশকে বাচাতে দেশ প্রেমিক দল-মত , ধম'-বণ' নিব্বি'শেষে সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে সরকারের পাশে দাড়াতে হবে।অন্যথায় আধিপত্যবাদী- সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে বিপন্ন হতে পারে অনেক অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমার দেশের স্বাধীনতা ।

Sunday, May 31, 2026

সেই পণ পরিত্যাগ করে নাই

দেশে একটা কথা আছে কারো ঘর পোড়ে আর কেউ তাতে আলু পুড়িয়ে খায়। নৃশংসভাবে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে নিহতের মা-বাবার সাথে দেশবাসী ব্যাথিত-মমা'হত শোকাহত। হত্যাকারীর দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তিতে সবাই দাঁড়িয়েছে এক কাতারে। সরকারও নিশ্চিত করছে শাস্তি হবে সর্বোচ্চ এবং অতিদ্রুত। আফসোস সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলের নেতারা সেই শোকাবহ বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে শোকাহত মানুষের আবেগকে সদ্য প্রসুত গনতান্ত্রিকভাবে ভোটে নিবা'চীত সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতে চেষ্টা করছেন।নিবা'চনে পরাজিত হয়ে সরকার গঠনের আগেই তারা বলেছিল এই সরকারকে ক্ষমতায় একদিনও শান্তিতে থাকতে দেব না। দেখা যাচ্ছে তারা আজও সেই পণ পরিত্যাগ করে নাই।
মানুষের শোকাবহ আবেগকে কাজে লাগিয়ে চারিদিকে মব দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। সরকার প্রধান তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীকে নিয়ে শোকাহত পরিবারের বাসায় তাদের সান্ত্বনা দিতে গেলে সেখানে মব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভুয়া ভুয়া শোর তোলা হয়েছে তা ঠিক হয় নাই । তিন মাস বয়সী সরকারকে আমরা ব্যথ' বলার বোধকরি সময় আসে নাই।ঘটনার কয়েক ঘন্টার ভেতর আসামি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যথ'তা কোথায় তার পদত্যাগের দাবি কেন? সংসদে তার বক্তব্যের সামনে বিরোধী নেতারা ধরাশায়ী কারণ কি তাই ? ভাবতে হবে সীমান্তে অস্থিরতা দেখা যাছে জাতীয় ঐক্যের এখন খুব বেশি প্রয়োজন। এমন সময় তিন মাস বয়সী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ছলা-কলা কুটচালের আশ্রয় নিলে গনতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বাধা গ্রস্ত করা হবে তাতে দেশের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে ।
নেতারা যদি না বুঝেন, প্রত্যক দলে অনেক বড় বড় উকিল ব্যারিস্টার আছেন তাদের নিয়ে বসুন জানতে চান দেশের অপরাধীর বিচারের দীর্ঘ সুত্রিতার দায় কার? গলদ কোথায়? সবাইকে নিয়ে বসুন আলাপ আলোচনা করুন কিভাবে হত্যা ধষ'ণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা যায় অপরাধীকে অতিদ্রুত শাস্তির আওতায় আনা যায়।একেবারে ধংসপ্রায় শিক্ষাংগনে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে ছাত্রদের কিভাবে পড়ার টেবিলে ফেরানো যায় তার ব্যবস্থা করুন। জনগণ ভোট দিয়ে রাস্তায় নয় আপনাদের সংসদে পাঠিয়েছে সরকারের দোষ -ত্রুটির সমালোচনা করতে, অপরাধ একেবারে নিমু'ল করা যাবে না তবে নিয়ন্ত্রণ করার আইন করতে এবং তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
সময় এখন রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সতের বছরের গনতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে গনতান্ত্রিক পন্থায় জনগণের ভোটে নিবা'চীত সরকারকে সময় দিয়ে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা, যে কোনো গণবিরোধী, রাষ্ট্র বিরোধী কম'কান্ডে গনতান্ত্রিক পন্থায় প্রতিবাদ করা, গনতন্ত্রকে সুসংহত করতে নিবা'চনী রায় মেনে নিয়ে সরকারের সময়কাল শেষে জন রায়ের অপেক্ষায় থেকে গনতন্ত্রের সোন্দয্য' বজায় রাখা ।সরকার এবং তার দলের নেতা-কর্মীদেরও বিরোধীদলের মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।কারণ তিন ছয় মাস এক বছর পরপর দেশ অস্থিতিশীল করে সরকার পরিবর্তনের নিবা'চন দিয়ে নেতাদের ক্ষমতায় বসার খায়েশ মেটানোর এতো বড় ব্যয়ভার বহনের সক্ষমতা ঋণের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া রাষ্ট্রের এখন আর নাই।  

Tuesday, March 24, 2026

অভিবাদন

সারারাত তার চোখে ঘুম আসেনি।সকালে উঠবো উঠবো করে ওঠা হয় নাই।লাবনী তাকে কয়েকবার ডেকেছে সে ওঠে নাই।বার বার ডেকেও ওঠাতে ব্যথ’ হয়ে ঝাড়ি দিয়ে চুপ হয়ে অপেক্ষা করেছে তাতেও কাজ হয় নাই।আজ  রায়হানের রাতের বাসে গ্রামের বাড়ী যাবার কথা। কয়েকদিন থাকতে হবে।ঘড়ে বাজার সদাই লাগবে তাই রাতেই সব লিষ্ট করে রেখেছে। লাবনী হাতে পানির গ্লাস নিয়ে নাখে মুখে ছিটাতে সে উঠে বসে । চোখ মেলে দেখে আধো ঘুম আধো জাগায় না খেয়ে ঘড়ির কাটা ১১টার ঘর ছুই ছুই করছে।বাজারে যেতে হবে।ভাবছে বাজারে এখন নাকি বিকালে। সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিল এক মিনিট। ছেলে মেয়েরা স্কুলে।লাবনীর মুখ থমথমে দেখে পাশে গিয়ে বসে।সাড়া না পেয়ে জড়িয়ে ধরে কাছে টানে।লাবনী ঢং না করে নাস্তা খেতে তাগাদা দেয়।পেটে ইদুর বিড়াল ছোটাছুটি করছে।রায়হান বাধ্য শান্ত ছেলের মতো আদেশ পালন করতে দ্রুত হাত মুখ ধুয়ে টেবিলে নাস্তা খেতে বসে।রাতে তৈরী করা বাজারের ফদ’ লাবনী হাতে ধরিয়ে দিলে তা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।বাজারের জিনিসপত্রের দামে মাথায় ঝিম ধরে।কিন্তু উপায় নাই বউ-ছেলেমেয়েদের খাওয়াতে হবে বাচার জন্য চলার জন্য নিজেকেও খেতে হবে।কেনাকাটা করে ফিরতে ছেলে-মেয়ে স্কুল থেকে ফিরেছে। বাসার কাছে স্কুল, বাচ্চারা একাই যাওয়া আসা করে অসুবিধা হয় না।

দুপুরে খাওয়া সেরে একটু ঘুমিয়ে নিলে ভালো হতো।ছেলে-মেয়ে এই প্রথম তাদের বাবা ছাড়া থাকবে তাই কাছ থেকে নড়ছে না।চলছে নানা কথা সাথে নানা রকম বায়না।লাবনী টেবিল পরিস্কার করতে করতে তাদের বায়নায় সায় দেয়।কিছু সময় পর  লাবনীও এসে বসে। কথায় কথায় সন্ধ্যা হয়। লাবনী উঠে হালকা নাস্তার ব্যবস্থা করে। সময় গড়িয়ে চলে তার আপন গতিতে।বাসের সময় রাত ১২.০০টা। দশটা বাজতে আজ সবাই একসাথে রাতের খাবার খেতে বসেছে । বউ ছেলে মেয়ে কারো যেন কথা ফুরায় না। খাওয়া সেরে আর অপেক্ষা করে না। দ্রুত নিজে তৈরী হয়, ছেলে মেয়ের মুখটা মলিন , দুজনকে  বুকের দুপাশে জড়িয়ে আদর করে বেড়িয়ে পড়ে। একটু হাটতে হবে বড় রাস্তায় উঠতে। গলি রাস্তার দুপাশের পরিবেশ ভালো না জেনেও কম ভাড়া দেখে উঠে পড়েছে। বড় সুবিধা ছেলে-মেয়ের স্কুলটা কাছে লাবনীরও সময় বাচে সাথে কিছু টাকাও। তার অফিসও বেশি দূরে নয়।পায়ে হেটে আসা যাওয়া করে।মাস শেষে রিকশা ভাড়ার কিছু টাকা তার বেচে যায়,সাথে শারীরিক একটু ব্যায়াম হয়।

এখন গলি রাস্তায় মানুষজনের চলাফেরা খুব একটা নাই।হাঁটার সময়  সে তার চোখ কান খুব সতর্ক রাখার চেষ্টা করছে।আগে এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে শুনেছে। সে কখনো তার মুখোমুখি হয়নি।জীবনে একবারই  কয়েক বছর আগে ছিনতায়ের কবলে পড়েছিল। মৃত্যুর আগ পয্য'ন্ত সেই ঘটনা ভুলতে পারবে না।তারপর থেকে রাস্তায় সবসময় অন্ধকার জায়গা এড়িয়ে চলে। কিছুটা সামনে অন্ধকারে মেয়েলি কান্না জড়িত "মাগো" শব্দে সতর্ক হয়।হাঁটতে হাঁটতে ঘটনাস্থলের কাছে এসে দেখতে পায় ১৪/১৫ বছরের বয়সের একটি ছেলে একটা মেয়েটি মারছে। মেয়েটি কাঁদছে আর বলছে, "তুমি আমার সাথে প্রতারণা করেছো আমি মায়ের কাছে ফিরে যাব। সামনের বাড়িতে সে লক্ষ্য করল, একজন মহিলা অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি এড়াতে তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে বাচতে চাইছে। সামান্য লাইটের আলোতে মেয়েটিকে সুন্দরী কিশোরী মনে হল। এমন বয়সে বাবা-মায়ের স্নেহ ভালোবাসায় মেয়েটির থাকার কথা। অথচ অন্ধ প্রেমে ছেলেটির উপর বিশ্বাস করে বাবা-মা ছেড়েছে। পরিণতি রাতে রাস্তায় মার খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার মূল্য দিতে হচ্ছে। ভাবছে এই বয়সে তারা ছেলে-মেয়ে একসাথে  দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট খেলেছে। এখন ডিজিটাল যুগে খুব দ্রুত ছেলে-মেয়েরা প্রেম-ভালবাসা বিয়ে সংসার করা বুঝে গেছে। সেও না দাঁড়িয়ে দ্রুত পার হয়ে এসেছে । বড় রাস্তায় এসে পড়লে সিএনজি ঠিক করে তাতে উঠে দ্রুতই বাস কাউণ্টারে চলে আসে। মোবাইল আসায় ঘড়ি পড়া হয় না।মোবাইলে সময় দেখে এখনো অনেক সময় আছে।পকেটে হাত ঢুকিয়ে সিগার বের করে ঠোটে চেপে আগুন জ্বালায়। উন্মুক্ত রাস্তায় ধূমপান করা নিষিদ্ধ কিন্তু কাউকে মানতে দেখে নাই, সেও আজ আইন মানতে চাইছে না ।

মায়ের শরীর খারপ তাই না জানিয়ে দেখতে যাচ্ছে। মাকে কাছে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু বউ শাশুড়িকে মেলাতে পারে নাই। কেউ যেন কাউকে সহ্য করতে পারে না। সে নিজেই এখন শাখের করাত যে দিকে যায় সেদিকেই কাটে। ভীষণ কষ্ট হয় ,বড় বেশি একাকি মনে হয়। নিজেকে অপরাধী ব্যথ’ মনে হয়। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে যতটুকু শান্তি। মাঝে মাঝে শংকা জাগে বৃদ্ধ বয়সে তাকেও কি তার মা-বাবার মতো এভাবেই থাকতে হবে। রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম। চলমান গাড়ীর চেয়ে পিঁপড়ার গতি এখন অনেক বেশি মনে হয় তার।সামনে সারিবদ্ধ যান্ত্রিক পিঁপড়ার আলো ঝিলিমিলি সারি দেখতে ভালোই লাগছে। মোবাইলে তাকিয়ে দেখে সময় হয়ে গেছে তাই বাসে নিজ আসনে গিয়ে বসে।রাস্তায় এখনও মানুষের ভীড়। ভাবছে সীমিত আয়ের মানুষের এই শহরে জীবন কাটানো দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তার ধারণা আগামীতে এই মেগা সিটি কেবল ধনী এবং ভিক্ষুকদের জন্যই থাকবে। ঢাকায় থাকার যোগ্যতা দিন যেন সে হারিয়ে ফেলছে। 

সাধারণতঃ ট্রেনে বাসে যাতেই যাত্রা করে না কেন  অপেক্ষা ছাড়ার দেরি আর সাথে সাথেই চোখ বন্ধ করা বাকি।রায়হান আজ কেন জানি চোখ বন্ধ করতে পারছে না। মাথাটা ঝিম ধরে আছে। আসার পথে ক্রন্দণরত মেয়েটার মুখ ভেসে উঠছে। ক’বছর পর তার নিজের মেয়েটারই বয়স এমনি হবে হয়তো।নিজেকেই অপরাধী মনে করে প্রশ্ন করছে কেন সে এই পরিস্থিতি এড়িয়ে আসলো । কেন আমরা আমাদের নৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছি ? কেন আজ আমরা খোলা মনে হাসছি না ? কেন দুঃখ ভুলে যাওয়ার জন্য নিজেরা জোরে কাদতে পারি না?কেন আমরা বাচ্চাদের সমস্যা সমাধান দূরে থাক সমস্যা জানতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না? তারা যদি ভুল করে থাকে তাদের কেন পরামর্শ দিতে পারি না তাদের শাসন করার সাহস পাই না? আজ আমাদের কোনও আত্মীয়ের এই পরিস্থিতিতে আমরা কী চুপ থাকতাম?নিশ্চয়ই না।

সমাজে আগে মুরুব্বীদের সম্মান করা হত গুরুত্ব দেওয়া হতো। মুরুব্বীদের প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল ছিল।কেউ তাদের সামনে অন্যায় করতে সাহস করতো না।এলাকার মাতব্বর থাকতো সরদার থাকতো তারাই বিচার কায’ করতেন। ডিজিটাল যুগে সব আজ এলোমেলো। এখন এলাকার মাস্তান-সন্ত্রাসী-চাদাবাজদের আমরা বিচারক মানি একটু কিছুতেই থানা পুলিশ করি। ব্যক্তিগত সমস্যাকে রাজনৈতিক রং মাখাই ধমে’র রং মাখাই। সে আর ভাবতে পারে না।বাস তার তার দীঘ’ যাত্রায় ক্ষনিক বিরতিতে হোটেলে থেমেছে।রায়হান নামবে কি নামবে না ভাবতে  শুরু করেছে। আজকাল সে কেন জানি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। নামতে গিয়ে হোচট লাগে।  ওয়াসরুম সেরে আবার বাইরে এসে দাঁড়ায়।  

এতো রাতে এক বৃদ্ধ লোককে লম্বা বাঁশের লাঠিতে জাতীয় পতাকা ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে  দেখে,মনে পড়ে সামনে ২৬শে মাচ’ দেশের স্বাধীনতা দিবস। ঢাকায় মুজিব ইয়াহিয়ার আলোচনার মাঝেই মুক্তিকামী বাংগালী নিধনের পরিকল্পনা করেছিল। সেভাবেই প্ল্যান করে ” অপারেশন সাচ’ লাইট” নাম দিয়ে  তা বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীন পশ্চীম পাকিস্তান থেকে চট্টগামে জাহাজযোগে এবং করাচী থেকে বিমানে সেনা-সরঞ্জাম আনা শুরু করেছিল। সব ব্যবস্থা চুড়ান্ত হলে ইয়াহিয়া গোপনে ঢাকা ছেড়ে করাচী চলে যান।২৫শে মাচ রাতে পাক হানাদার বাহিনী ”অপারেশন সাচ’লাইট”চুড়ান্ত বাস্তবায়ন করতে প্রথমেই  শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে তৎকালীন পশ্চীম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বাংগালী জাতির কন্ঠ স্তব্ধ করতে রাতের আধারে ট্যাংক-সাজোয়া যান অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গণহত্যায় ঝাপিয়ে পড়ে ইপিআর পিলখানা ব্যারাক, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, নিলক্ষেত বিশ্ববিদ্যালয় সহ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর। ট্যাংক- মটারের গোলায় চারিদিকে আগুনের লেলিহান শিখায় বিভিষিকাময় হয়ে যায় ঢাকা নগরী । রাস্তায় রাস্তায় লাশের সারি। ঘটনার আকস্মিকতায় রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ দিকভ্রান্ত সব আত্মগোপনে।

জিয়াউর রহমান তখন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ৮ম ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর সহকারী কমান্ডিং অফিসার।কমান্ডিং অফিসার লেঃকণেল জানজুয়া তাকে ২৫শে মাচ’ রাতে বন্দরের সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসে পাঠিয়ে পথে জিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।পথিমধ্যে জিয়া রাতে ঢাকার নৃশংশতার খবর, সেনানিবাসে গোলাগুলির খবর জানতে পেরে অস্ত্র খালাসে না গিয়ে সঙ্গী পাকিস্তানী হানাদারদের গ্রেফতার করে ফিরে এসে সেনানিবাসের বাসা থেকে কমান্ডিং অফিসার জানজুয়াকে গ্রেফতার করে ষোলশহর ব্যারাকে এনে হত্যা করেন। চট্টগ্রাম ষোলশহর ব্যারাকে মীর মেজর শওকত,ক্যাপ্টেন অলি আহম্মেদ, ক্যাপ্টেন শমশের মবিন চোধুরী, লেফটেন্যান্ট খালেকুজ্জামান সহ অনান্য অফিসার ও সিপাহীদের নিয়ে “উই রিভোল্ট” বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ২৬শে মাচ’সকালে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে সশস্ত্র স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। সেই ঘোষণায় সারাদেশব্যপী জাতি আবার জেগে উঠে। শুরু হয় পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সশস্র মুক্তিযুদ্ধ। দীঘ নয় মাসের যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ তাজা প্রাণের রক্তে, হাজার হাজার মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর হানাদার পাকিস্তানীদের হাত থেকে মুক্ত হয় আমাদের মাতৃভু্মি বাংলাদেশ।আজ সেই  স্বাধীনতার ঘোষক  এবং পরবতী’তে বাংলাদেশের ইতিহাসের সফ্ল রাষ্ট্র নায়ক জিয়াউর রহমানের সন্তান তারেক রহমান জনগণের ভোটে নিবা’চিত দেশের প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতায় বসতে না বসতেই চারিদিকে কেবলই ষড়যন্ত্র। ভাবে জাতি হিসাবে আমাদের দূ’ভাগ্য আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি নাই।ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় বিশেষ কোন দিনই দল-মত, জাতি-ধম’-বণ’নিব্বি’শেষে পালন করতে পারি নাই। আমরা এখন জনে জনে, ঘরে ঘরে, দলেদলে বিভক্ত। একদলের আনন্দ উৎসব হলে আরেক দলের শোক দিবস। একদল হ্যাঁ বলতে না বলতে আরেক দলের না হয়ে যায়। একটু এগিয়ে হাতে ধরা একটা ছোট জাতীয় পতাকা কিনে বাসে গিয়ে বসে।

বাস ছাড়তেই পাশের জানালার পদা’ সরিয়ে অন্ধকারে বাহিরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল জানে না। সুপারভাইজারের ডাকে  জেগে চোখ খুলে দেখে বাস ফাকা সবাই নেমে পড়েছে। নিচে নেমে সিএন জি ডাকে, গন্তব্য এখন মায়ের ঠিকানা। বাড়ির গেটের সামনে আসে। আজ ব্যতিক্রমী একটি দিন। কখনই না জানিয়ে এভাবে মায়ের কাছে আসে নাই।কলিং বেল টেপার আগে জাতীয় পতাকা গেটে লাগিয়ে দেয়। গেট থেকে এক ধাপ পিছিয়ে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় দেশের স্বাধীনতার জন্য, দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করে যাওয়া বীর সেনানীদের প্রতি ।মনে মনে আল্লাহর কাছে প্রাথ’না করে হে আল্লাহ তুমি বহুধাবিভক্ত জাতীকে গবী’ত দেশ-প্রেমিক একতাবদ্ধ জাতিতে পরিণত করে দাও।

 https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA

Wednesday, November 19, 2025

ছলা-কলা নয়, বাহুবল নয়

ঐতিহাসিক দিবস ৭ই নভেম্বর বিএনপি এবং অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দল “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস” হিসাবে পালন করেছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও তাদের নিজেদের মতো করে দিনটি উদযাপন করেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি জননেতা থেকে একনায়ক হয়ে যাওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কিছু সামরিক অফিসার স্বপরিবারে হত্যা করে।শেখ মুজিবর রহমানের মন্ত্রী সভার সদস্যদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানেরই অতি আস্থাভাজন খন্দকার মোশতাক আহম্মেদ নতুন সরকার গঠন করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষনা করেন।মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অস্থায়ী মুজিব নগর সরকারের চার নেতা সহ অনেক নেতাকে জেলে ঢুকালেন। জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান এবং জেনারেল ওসমানীকে রাষ্ট্রপতির সামরিক উপদেষ্টা করা হলেও ক্ষমতার মুল নায়ক ছিলেন সেই হত্যা কান্ডের নায়ক মধ্যম সারির অফিসারেরা। তারা সেনা পরিষদ গঠন করে মূলত বংগভবন থেকে সব নিদ্দে’শনা দিতেন। 
     ১৫ আগষ্ট,৭৫ থেকে ৭ই নভেম্বর পয্য’ন্ত ছিল দেশের ঘটনা বহুল দিন।স্বল্প পরিসরে তা বণ’না করা যাবে না । জেনারেল খালেদ মোশারফ নিম্নস্থ অফিসারদের ক্যু মেনে নিতে না পেরে ৩রা নভেম্বর পাল্টা ক্যু করে নিজেকে সেনা প্রাধান ঘোষনা করেন।জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন। ৪ তারিখ রাতেই কারাগারে সেনা পরিষদের সদস্য মেজররা মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অস্থায়ী মুজিব নগর সরকারের চার নেতাকে হত্যা করে। শোনা যায় আপোষরফায় হত্যাকান্ডে জড়িত সেনা অফিসারদের দেশ ত্যাগের ব্যবস্থা হয়। ৩রা নভেম্বর থেকে ৭ই নভেম্বর পয্য’ন্ত দেশে কোন সরকার ছিল না। সরকারবিহীন দেশে কনে’ল তাহেরের নেতৃত্ব গণবাহিনী “সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই হাবিলদারের উপর অফিসার নাই” এমন শ্লোগান দিয়ে সেনাবাহিনীর ভেতর বিভেদ তৈরী করে ক্ষমতায় যাওয়ার আয়োজনে চেষ্টা করেছিলেন।
      সেনাবাহিনীর মাঝে জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রশ্নাতিত গ্রহণযোগ্যতা ছিল তাই তাকে সামনে রেখে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টায় পাল্টা ক্যু এ খালেদ মোশারফ নিহত হন।পাল্টা ক্যু এর পর দেশের স্বাধীনতা ও সাবো’ভৌম যখন হুমকীতে তখন সিপাহী-জনতা সংহতির মাধ্যমে ৭ই নভেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তার বাস ভবন থেকে মুক্ত করে।কিন্তু জেনারেল জিয়া তার বুদ্ধিমত্তায় কণে’ল তাহেরের ফাদে পা দেন নাই।তার জনপ্রিয়তা ও ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিলে কনে’ল তাহের সেনাবাহিনীর সিপাহী অফিসারদের লাশের উপর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে ব্যথ’ হয়। পরবতি’তে জেনারেল জিয়াউর রহমান কণে’ল তাহেরকে গ্রেফতার করে বিচারে আওতায় এনে দেশি বিদেশি চক্রান্ত থেকে দেশকে নিরাপদ করেন।
     ইতিহাস বিবেচনায় স্মরণ করা প্রয়োজন ১৯৭১ এর মাচে’ শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে তৎকালীন পশ্চীম পাকিস্তানে স্থানান্তরিত করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ঢাকাকে বদ্ধভূমি বানিয়ে ফেললে আওয়ামীলীগের নেতারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।জিয়াউর রহমান তখন ছিলেন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইষ্ট-বেঙল রেজিমেন্টের মেজর। ২৬ মাচ’ সোয়াত থেকে নিভি’গ্নে অস্ত্র খালাসের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনি ফিরে আসেন এবং তার কমান্ডিং অফিসার জানজুয়াকে হত্যা করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সাথে আলাপ আলোচনায় চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথমে নিজের নামে পরে বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নামে ঘোষণা দিয়ে নেতৃত্বহীন জাতীকে সশস্র মুক্তি যুদ্ধে সামিল করেছিলেন।এভাবে দেখলাম দেশ ও জাতীর ক্রান্তিলগ্নে দুই দুইবার সিপাহ-সালারের দায়ীত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান দেশ ও জাতিকে রক্ষা করেছিলেন। দেখলাম ৭৫ পরবতি’তে সামরিক ফরমান জারি করে ৭১ এর পাকিস্তানীদের দোসর হয়ে বিত’কিত কম’কান্ডে নিষিদ্ধ জামায়াতকে রাজনৈতিক পূন’বাসন এবং ৭৫ এর হত্যাকান্ড থেকে বেচে যাওয়া শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যাদ্বয়কে দেশে ফিরিয়ে এনে আওয়ামীলীগকে পূন’বাসন করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। আমরা সেই বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা প্রেসিডেন্ট  জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছি। দীঘ’ ৪০ বছর বসবাস করা রাষ্ট্র প্রদত্ত বাড়ী থেকে তার পরিবার দুইবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শুন্য হাতে বের করে দিয়েছি।
     সংসদ কর্তৃক শহীদ প্রেসিডেন্ট  জিয়াউর রহমানকে সম্মান জানাতে দেশের বৃহত্তম জানাজার পর লক্ষ লক্ষ মানুষ তাকে সংসদ এলাকায় দাফন করেছিল আমরা প্রথমে তার কবরস্থানে যাওয়ার ক্রিসেণ্ট লেকের উপর ভাসমান পল্টুন তুলে ফেলেছি পরে তার কবরস্থানটি সরিয়ে ফেলার কথাও ভেবেছি। পিলখানায় মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের একত্র করে হত্যার ব্যবস্থা করেছি। দীঘ’ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে দেশ এতো বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয় নাই। দেখেছি বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানেরই কন্যা হাসিনার ফ্যাসিষ্ট হয়ে ওঠা।জাতি দেখেছে ক্ষমতায় থাকতে গত দেড় দশকে গুম-খুন পুড়িয়ে নিজ দেশের মানুষকে হত্যা করে ২৪ এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে দেশ ছাড়া হতে।অবশেষে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্ত’জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল হাসিনার মৃত্যুদন্ড রায় দিয়েছেন। এখন বলতেই হবে তার পরিবারের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই দেশকে দেউলিয়া করে নিজ আত্মীয়-স্বজন দলীয় নেতা-কমী’দের দিয়ে অথ’ পাচার, গুম খুনের মাধ্যমে,দেশ ও জাতীর উপর চরম আক্রোশে অমানবিক কম’কান্ড এবং দেশ বিরোধী জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে চুক্তির বেড়াজালে জড়িয়ে সে ভীন দেশীদের তাবেদার রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল বাংলাদেশকে । দেশবাসীর আশা আন্ত’জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের এই রায়ের মাধ্যমে শুধু হাসিনার অপরাধের রায় নয় যেন এই রায়ের মাধ্যমে এদেশে স্বৈরশাসন স্বৈরাচারের চির-কবর রচিত হয়।
     স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হতে চলেছে । আমরা এখনও বাংগালী-না বাংলাদেশী, স্বাধীনতার পক্ষ না বিপক্ষ নিয়ে বিভক্ত। আমরা সকলে জাতীয় দিবসগুলো একসাথে উপভোগ করতে পারি না, জাতীয় ইস্যুতে একই মঞ্চে দাঁড়াতে পারি না। ক্ষমতাসীনদের নামাতে পাচ বছর পর পর  কখনো দাড়ালেও নেতাদের ইগো আর ক্ষমতার মোহে ঐক্য ভেঙ্গে যায়। আগামি ফেব্রুয়ারী, ২৬ এ জাতীয় নিবা’চন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা এখন একে অপরে কাদা ছোড়াছুড়িতে সবাই ব্যস্ত। আমরা বক্তৃতা দিতে দাঁড়িয়ে অন্যকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বলি কিন্তু নিজেরা কেউ শিক্ষা নেই না। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ অনেক পট পরিবত’ন দেখলাম কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবত’ন দেখতে পাই না। জুলাই যোদ্ধাদের লাশ আর রক্তের উপর দাড়িয়ে আবারও একই ভাবে জিঘাংসায় মেতে ওঠেছি।সাম্যের ভিত্তিতে ধম' বণ' নিব্বি'শেষে প্রত্যেকটি নাগরিকের জন্য খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা শিক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান করাই রাস্ট্রের দায়িত্ব ও কত'ব্য। ধম’ যার যার উৎসব তার। ধম’ পালনে থাকতে হবে স্বাধীনতা রাস্ট্রকেই দিতে হবে নিরাপত্তা। ক্ষমতায় বসতে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা পুজা মন্ডপে গিয়ে রোজা আর পূজাকে একাকার করে বক্তব্য দিচ্ছেন।মন্ডপে উপস্থিত হতে পেরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছেন, গীতা পাঠ করছেন।কেউ কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে শুনেছি ভোটের আশায় নিজের ঈমান আকিদা ঠিক রাখতে পারছেন কিনা,আল্লাহর সাথে শিরক করছেন কিনা ভাবছেন না।সবই এক ধরণের প্রতারণা। জাতি এমন কিছুই আর দেখতে চায় না। দেখতে চায় এখন পরিশুদ্ধ হওয়া নেতা ও তার পরিশুদ্ধ হওয়া দল ।
     দিনে দিনে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ও বুড়িগঙ্গায় অনেক পানি গড়িয়েছে সময় নষ্ট করার এখন আর অবকাশ নাই। সময় এখন সব ভেদাভেদ ভুলে যাবার। আসুন ব্যক্তি নয় দল নয় দেশকে ভালোবাসি। ক্ষমতায় লোভে জনে জনে ঘড়ে ঘড়ে বিবাদ না করি। দেশের সকল ক্ষেত্র বেহাল অবস্থা। সবার আগে ধংসস্তুপ থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা সোজা করে দাড় করানো বড় বেশি প্রয়োজন। শিক্ষিত জনশক্তি ছাড়া দেশ গড়া সম্ভব নয়। আগামী প্রজন্মকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সুশিক্ষিত করতে হবে। পরনিভ’রশীল থেকে দেশকে স্বনি’ভর করতে হবে। বাস্তব,রাজনৈতিক নেতারাই দেশ পরিচালনা করবেন। তাই রাজনৈতিক নেতাদের দেশ-প্রেমিক সু-নাগরিক হতে হবে। নিজেদের নেতা কমী’ সমথ’কদের প্রতিবেশির উপর জুলুম না করার এবং সবার সাথে সু-সম্প’ক গড়ার শিক্ষায় শিক্ষিত করুন, দেখবেন জনে জনে সম্প্রীতি বাড়বে। কোনো আশ্বাস দিতে কোথাও আপনাকে দৌড়াতে হবে না। ছলা-কলা নয় বাহুবল নয় জনগণের উপর আস্থা রাখতে হবে। শাসক নয় সেবক হতে হবে। আর কখনো যেন এদেশে কোনো ফ্যাসিষ্টের জন্ম  না হয়  আর কোনো  সিপাহী-ছাত্র-জনতার রক্তে লাল না হয় এদেশের সবুজের মাঠ রাজপথ। নতুন আর কোনো দিবস নয় ,দেখতে চাই স্বনি’ভর সুন্দর সবার সমান অধিকারের আমার সোনার বাংলাদেশ ।

" আমার কথা " ডিসেম্বর-২০২৬ ইং

Sunday, November 2, 2025

প্রত্যাশা কিন্তু খুব বেশি নয়

১৭ই অক্টোবর জাতীয় ঐক্যমত্য কমিটি রচিত “জুলাই জাতীয় সনদ” অনেক অভিজ্ঞ বষী’য়ান নেতা ,প্রায় অধে’কের বেশী নিবা’চন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের অনুপস্থিতিতে স্বাক্ষর হওয়ায় জাতীয় উৎসব হিসাবে উৎযাপন হতে পারে নাই। তারপরও মানুষ শান্তির অপেক্ষায় ছিল।কিন্তু জাতীয় ঐক্যমত্য কমিটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুপারিশে বিভন্ন বিষয়ে ভিন্নতার কারণে রাজনৈতিক দলের প্রদত্ত নোট অফ ডিসেন্ট উল্লেখ না করায় নেতারা জাতির সাথে প্রতারনা হিসাবে দেখছেন।সবাই সব বিষয় একমত হবে এমন কোনো কথা নয়। ভিন্নতা থাকবেই।কমিটির সভায় নোট অফ ডিসেন্ট রাখা হয়েছিল।যেহেতু “জুলাই জাতীয় সনদ” কে একটা দলিল বলা হচ্ছে তাতে নোট অফ ডিসেন্ট বলি অথবা মতামত বলি তা রাখা উচিৎ। তাতে রাজনৈতিক দল গুলির চিন্তাধারা মানুষের কাছে স্পষ্ট হতো। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিবা’চন করবে যারা জনগণের ভোটে জয়লাভ করবে তারা ক্ষমতায় গিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। ইনটেরিম সরকার “জুলাই জাতীয় সনদ” কে একটা ইতিহাস এবং পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশিত করার কথা বলেছেন। ফলে রাজনৈতিক দলের প্রদত্ত নোট অফ ডিসেন্ট উল্লেখ থাকলে মানুষ আলাদা করে রাজনৈতিক দলগুলিকে মূল্যায়ন করতে পারতো এবং আগামী নিবা’চনে ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দিতে পারতো।

জুলাই বিপ্লবের আগে বিগত প্রায় দেড় দশক নিরপেক্ষ নিবা’চনের দাবিতে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি জামায়াত একসাথে আন্দোলন করেছে । জুলাই বিপ্লবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি এবং জামায়াত তাদের স্ব-স্ব নেতা-কমী’ সমথ’ক ছাত্র-জনতাকে নিয়ে ঐক্য গড়ে একই সাথে আন্দোলন করেছিলেন। জুলাই বিপ্লবের পর সংষ্কার,পিআর এবং গনভোট ইস্যুতে ঐক্যে ফাটল ধরেছিল। দীঘ’মাসব্যপী দীঘ’সময় নিয়ে নানা যুক্তি তক’বিতক’ জ্ঞানগভ’ আলোচনা সমালোচনার মাধ্যমে সেই ঐক্য ধরে রাখতে গিয়ে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিটি নোট অফ ডিসেন্ট ইস্যুতে “বজ্র আটুনি ফসকা গিরোর” মত বরং এখন সুবিশাল অনৈক্য তৈরি করে ফেলেছেন। ফলে চারিদিকে এখন নতুন করে আবার অবিশ্বাস আর আশংকা বেড়েছে। মনে হয় না রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অতিসহজে তা দূর করতে পারবেন। এখন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয় যে ,মাকি’ন প্রবাসী ঐক্যমত্য কমিটি প্রধান এতো সময়-ক্ষেপন করে কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন এতোদিন? তিনি কেনই বা শেষ সময় নিজেকে বিত’কিত করতে গেলেন? 

দেশের ১০% মানুষ সংবিধান কিংবা জুলাই জাতীয় সনদ বোঝার সক্ষমতা আছে কিনা সন্দেহ। সেই দেশে জাতীয় নিবা’চন না করে গনভোট সহ কিছু দাবি নিয়ে আজ উত্তপ্ত রাজনীতিক পরিবেশ। চারিদিকে আবার দাবি দাওয়া বেড়ে গেছে।বিভিন্ন দলের প্রশাসনের নিয়োগ বদলী নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন।জন-প্রশাসনের সক্ষমতার প্রশ্ন আসছে।আমাদের স্মরণ করা প্রয়োজন ২৪ এর জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবে  সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার কাতারে এসে দাড়িয়েছিল। ফলে সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতায় অনেক হতাহত অনেক ধংসযজ্ঞ থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। উদ্ধ’তন কম’কতা’র আদেশ পালন করতে গুটি কয়েক উচ্চাভিলাসী সেনা-কম’কতার অনৈতিক কম’কান্ডে কারণে সমরে শান্তিতে,ঝড়-ঝঞ্জায় দেশ ও জাতিকে উদ্ধারকারী সেনবাহিনীকে আজ বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। বিচারাধীন সেই সেনা-কম’কতাদের জন্য সেনাবাহিনী নিয়ে খুব বেশী নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে।কিছুদিন আগে আমাদের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছিলেন দেশের সবাই নাকি সঙ্ঘাতের জন্য মুখিয়ে আছেন যা প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের জন্য হতে পারছে না। তিনি আরও বলেছিলেন আগামি কয়েক মাসের মধ্যে তা দেখতে পাওয়া যাবে।তিনি আশংকা করে বলেছিলেন এর সাথে ধমী’ও ভাবাবেগ যুক্ত হতে পারে, যদি হয় তাতে দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।

দেশের অন্য প্রান্তে চেষ্টা চলছে উত্তপ্ত করতে পাহাড়ী জনপদ।তাদের কেহ কেহ সামাজিক গণমাধ্যমে প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত জানিয়ে দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।সমতলে আইন-শৃংখলার অবনতি হচ্ছে প্রতিদিন।নিবা’চন বানচালে ভেতরে বাহিরে ষড়যন্ত্র চলছে।চারিদিকে হায়েনার আনাগোনা  দেশের মানচিত্র খুবলে খেতে চায় তারা। স্মরণ করতে হবে সেনা-প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ফেব্রুয়ারির দিকে সতক’ করে বলেছিলেন দেশের সাব’ভৌমত্ব হুমকীর মুখে। আহব্বান করেছিলেন নিজেদের মধ্যে কাদা-ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে।সতক’ করেছিলেন নিজেদের ভেতর ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ করতে না পারলে, একে অপরে কাদা-ছোড়াছুড়ি করে মারামারি-কাটাকাটি করলে দেশের স্বাধীনতা-সাব’ভৌমত্ব বিপন্ন হবে।তিনি পেশাদার কাজ প্রশিক্ষন ফেলে সেনা-বাহিনীকে ব্যারাকের বাহিরে রাখতে চান না। তিনি দেশ ও জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে সেনা-নিবাসের ফেরত যাওয়ার আশা করেছিলেন।এখন চারিদিকে চলমান অস্বাভাবিক আলামত দেখে খুব একটা ভালো আশা করতে পারছে কি  দেশবাসী?

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সেনা-প্রধানের সেই সত’কবাতা’ ,সেই আহব্বান সেই অনুরোধকে উপেক্ষা করলে চলবে না। আগে দেশ এবং দেশের মানুষকে বাচাতে হবে তবেই করা যাবে রাজনীতি।দেখা যাচ্ছে একদল আরেক দলকে লাগামহীন বচন-বাচনে আক্রমণ করছে। দলবেধে রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘষে’ জড়িয়ে আহত-নিহত হচ্ছে। এখনই সময় তাদের লাগাম টানার। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের কেহ কেহ মসজিদ সহ বিভিন্ন উপাশনালয় গিয়ে ধম’কে রাজনীতিতে ব্যবহার করছেন। তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে হানাহানি –মারা-মারি হচ্ছে। নেতৃবৃন্দদের কেহ কেহ অতি আবেগী হয়ে নিজেদের ঈমান-আকিদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।নিবা’চনের সময় আর দেশের গ্রামে-গঞ্জে ওয়াজ মাহফিলের সময় একই সময় হয়ে গেছে। দলমত নিব্বি’শেষে ধম’প্রাণ সকল মানুষের অথা’য়নে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন হয় বিপুল মানুষের সমাগম হয়। সেখানে বক্তার কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতমূলক কথা বাতা’কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে হাঙ্গামা হয়েছে।আগামী দিনে সেই হানাহানির মাত্রা আরো কয়েক গুণ বেশি বাড়ার আশংকা আছে । প্রশাসনকে আগাম সত’ক হতে হবে যাতে কেহ ধমী’য় অনুষ্ঠানের নাম করে কোনো বিশেষ ব্যাক্তি বা দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণে সমাবেশ বিভক্ত হয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়ে কেহ সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করতে না পারে। খুব স্পশ’কাতর ধমী’য় অনুষ্ঠানও যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। যেহেতু প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে যে কোনো ব্যক্তির বা দলের তার দলীয় সভা-সমাবেশ করার সুযোগ আছে সেখানে ছল-চাতুরি করার প্রয়োজন কি ? 

দিনে দিনে অনেক বেলা পেরিয়ে গেছে সময় নষ্ট করার আর অবকাশ নাই।দেশর স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে বারবার। অনেক হয়েছে  জাতি এখন সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের কাছ থেকে একটা সহনশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। আশা করে দেশ-প্রেমিক ও সৎ নেতৃত্ব। প্রত্যাশা করে এখন সব ভেদাভেদ ভুলে একদল আরেক দলের নেতা-কমী’দের ভেতর আন্তরিক সৌহাদ্দ’পূন’ আচার আচরণ। আশা করে ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে জনে জনে ঘড়ে ঘড়ে কেউ যেন বিবাদ না করে, দেশকে বিপন্ন না করে। সবাই ভাবুক ব্যক্তি নয় দল নয় দেশকে ভালোবাসতে হবে।রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের নিজেদের মাঝে অনৈক্য তৈরি না করে জনগণের উপর আস্থা রাখতে হবে।স্থানীয় প্রশাসনকে পরিপূণ’ সহযোগীতা করতে হবে। একই ভাবে প্রশাসনের নিবা’চনকালীন দায়ীত্বপ্রাপ্ত সকল কম’চারি-কম’কতা’কে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করতে হবে। সবাই মিলেমিশে হার-জিতের খেলার মত একটা উৎসব মুখর পরিবেশে একটা সুষ্ঠ নিবা’চন হবে, জনগণ তার ভোট দিয়ে যাকেই জয়ের মালা পড়াক, যে দলই জয়লাভ করুক না কেন তারা সরকার গঠন করবে, দেশ ও দেশের মানুষের সেবায় নিজেদের সম্পৃক্ত করবে। দেশ –দেশের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা-হেফাজত করবে।জাতির এমন প্রত্যাশা কিন্তু খুব বেশি নয়।

" আমার কথা " ডিসেম্বর-২০২৬ ইং

প্রকাশ : দৈনিক দিনকাল  তাঃ-১৩/১১/২০২৫ ইং


Wednesday, October 22, 2025

প্রসঙ্গ : জুলাই সনদ

     অবশেষে বহুল আলোচিত বহু কাংখিত “জুলাই জাতীয় সনদ “গত ১৭/১০/২০২৫ ইং তারিখ শুক্রবার স্বাক্ষরিত হল।রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দদের সাথে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সুদীঘ’ কয়েক মাস বৈঠকের পর বৈঠক হয়েছে।তাদের সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল জুলাই জাতীয় সনদ।গত ১৬/১০/২০২৫ ইং বুধবার রাতে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দদের সাথে জরুরী বৈঠকে বসেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ।সেখানে তিনি আশা করে বলেছিলেন আমরা উৎসবমূখরভাবে সেখানে যাব এই দলিলে স্বাক্ষর করবো ,উৎসব করবো ।সারা জাতি তাতে শরিক হবে।কিন্তু তা হতে পারে নাই।জুলাই যোদ্ধাদের ব্যানারে অনুষ্ঠান বানচাল করার চেষ্টা হয়েছে।পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ি ভাংচুর এবং আগুন দিলে পুলিশ লাঠিচাজ’ করতে, কাদানে গ্যাস সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে বাধ্য হয়েছে।

     সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ,জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সদস্য ,উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সহ  দেশের বড় বড় দলের নেতৃবৃন্দদের উপস্থিতিতে দেশের ২৪টি রাজনৈ্তিক দলের নেতৃবৃন্দ জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করার পর ইনটেরিম সরকারের প্রধান ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস তাতে স্বাক্ষর করেন।কয়েকটি বাম দল ও জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারীদের দল এনসিপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন না।উল্লেখ্য জুলাই ঘোষনার সময়ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন না।জাতির কাছে তা কাংখিত নয়। নিবা’চন কমিশনে নিবন্ধিত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দগ্ণ সম্ভবতঃ উপক্ষীত হয়েছে,তাই তাদের কাউকে দেখা যায় নাই।আজ অবধি বাংলাদেশের কোন জাতীয় দিবস সত্যিকারভাবে দলমত নিব্বি’শেষে একই চিন্তা-চেতনা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে উৎযাপন করতে পেরেছি বলে স্মরণে নাই।জাতির জন্য বড়ই পরিতাপের বিষয় ।আগামীতে আমাদের রাজনীতিকগণ তা ভেবে দেখবেন আশা করি।

      সম্ভবত ফেব্রুয়ারী’২৬ এ  নিবা’চন ,অক্টোবর’১৭ এ “জুলাই জাতীয় সনদ” স্বাক্ষরকে ঘিরে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়ে নানা রকম প্রচারণা,আইনশৃংখলা অবনতির নানা রকম অনুষংগ আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে।রাজনীতিবিদগ্ণ যে জনগণের জন্য রাজনীতি করছেন তাদের চাহিদা খুব একটা বেশী না।তাদের প্রয়োজন রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতায় সাম্য ও ন্যায় বিচার,খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান,শিক্ষা চিকিৎসা ও নিরাপত্তা।রাষ্ট্র পরিচালনা করেন রাজনীতিকগণ তাই সবার আগে প্রয়োজন আপনাদেরই সংষ্কার আপনাদের নিজেদেরই পরিবত’ন। সবকিছুতে সবাই একমত হবেন তা সম্ভব নয়,রাজনীতিকদের বেলায় তা আরো খুব বেশি অসম্ভব।কিন্তু রাজনীতিকদের দেশ-প্রেমিক হতেই হবে এবং রাষ্ট্র-জনগনের ক্ষতি হয় এমন কম’কান্ড করা থেকে বিরত থাকতে হবে।দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিবা’চিত নীতি-নিধা’রক  রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকে।তাদেরই আদেশ নিদে’শ পালন করতে হয়।সেক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারীর হাতে থাকে দুটি বিষয় হয় তাকে আদেশ পালন করা অথবা চাকুরি থেকে অব্যহতি নেয়া।

      ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় দেশকে অস্থিতিশীল রাজনীতিকরাই করেছেন বারবার  এবং সামাল দিতে না পারলে প্রতিরক্ষা বাহিনীকেই নামতে হয় রাস্তায়।নিবা’চিত নীতি-নিধা’রকদেরই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আদেশ নিদে’শ পালন করতে গিয়ে দায়িত্বরত তাদেরই উচ্চাবিলাসী  কেউ কেউ পদভ্রষ্ট হয়।যে কোনো পদভ্রষ্ট অপরাধীর আইনী বিচার হতেই হবে।কিন্তু গুটি কয়েক সদস্যের কারণে দেশের শেষ আস্থার স্থান পুরা প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে থাকলে তাদের  মনোবল ভাংতে পারে চেন অব কমান্ড নষ্ট হতে পারে।যা রাষ্ট্রের সাবো’ভৌম ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকী হতে পারে।বত’মান বিশ্বব্যবস্থায় রাজনীতিকদের অনৈক্য, যে কারোরই হঠকারী নেতিবাচক পদক্ষেপে কোনো সংকট দেখা দিলে তা সামাল দেয়ার সক্ষমতা এখন রাষ্ট্রের আছে বলে মনে হয় না।তাই রাজনীতিকগণ নিজেদের মাঝে ইগো পরিহার করুন জুলাই সনদের রুপরেখা বাস্তবায়ন করে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে  দেশ এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পুরণ করতে এবার অন্তত ভাবুন।

" আমার কথা " ডিসেম্বর-২০২৬ ইং

 https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rj


প্রকাশ ঃ দৈনিক ভোরের আকাশ  তাঃ ২৫/১০/২০২৫ ইং

Thursday, August 28, 2025

এমন হলে কেমন হয়

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধারক সরকারের অধীনে অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীঘ’ দেড় দশক বিএনপি-জামায়াত সহ সমমনা দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করেছে।নেতা-কমী’রা জেল-জুলুম,মামলা-হামলা,গুম-খুন নিযা’তন-নিপীড়ন সহ্য করেছে।কিন্তু ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারকে টলানো সম্ভব হয় নাই।কারণ রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে পারে নাই।গনদাবী প্রতিষ্ঠিত করে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামাতে রাজনৈ্তিক নেতৃবৃন্দ ব্যথ’ হয়েছে।বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে নিষ্ঠুরতা-ব্বব’তা-নিম্’মতার সাথে হাসিনা সরকার দমন করতে ছাত্র-জনতাকে রক্তাক্ত হতাহত করলে সরকার পতনের একদফা দাবীর ডাক ওঠে।নিরিহ ছাত্র-জনতার উপর পৈশাচিক বব্ব’তায় এবং দেড় দশকের পুঞ্জিভুত ক্ষোভে তা গনদাবীতে রূপান্তর হয়।দল-মত নিব্বি’শেষে আপামর জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসে।দেশ-প্রেমিক সেনাবাহিনীও জন সমথ’নে পাশে দাঁড়ায়।ফলে জাতীর বুকের উপর দেড় দশকের জগদ্দল পাথড়ের মত চেপে বসা ফ্যাসীবাদী হাসিনার পতন এবং অবশেষে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

জাতি হতাশ হয় আন্দোলনে নিহতদের সৎকার না হতেই ,আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে, আহত নিহতদের রক্তের দাগ না শুকাতে,হতাহতদের আত্মীয়দের শোক না ঘুচতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিপ্লবে নিজেদের একচ্ছত্র কৃতীত্ব দাবী এবং ক্ষমতা মসনদে কিভাবে কত দ্রুত বসা যায় তাতে ব্যস্ত দেখে।জাতি হতাশার সাথে দেখলো জুলাই বিপ্লব ফ্যাসীবাদী হাসিনা থেকে মুক্তি পাওয়া ৭১ এর স্বাধীনতার রক্ষা দিবস না হয়ে ২য় স্বাধীনতা হয়ে গেল।কিছু নেতাদের দেখলো নিজেদের বদনাম ঘোছাতে ৭১ এর স্বাধীনতার ইতিহাস মুছার চেষ্টা চালাতে।হাসিনা ইতিহাস বিকৃ্ত করতে দেড় দশক সময় নিলেও মাত্র কয়েক ঘন্টায় তারা ইতিহাস বিকৃ্তির কৃতীত্ব দেখাতে চেষ্টা করেছে।সেই ইতিহাস এতো দ্রুত মুছা কি সম্ভব?ফলে ঐতিহাসিক জাতীয় ঐক্যের ফাটল ধরেছে।বিশ্ববরেণ্য নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের ভেতরে বাহিরে জটিল থেকে জটিলতর অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন।ব্যক্তি ইমেজে আন্ত’জাতিক অঙ্গন সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারলেও আভ্যন্তরীণ জন নিরাপত্তা,দ্রুত নিবা’চনের ব্যবস্থা,লুন্ঠীত অস্ত্র উদ্ধার,ফ্যাসিস্ট সরকারের গুম-খুন লুটপাটের নায়কদের আইনের আওতায় আনার সফলতা নাই।গুম-খুন লুটপাটের নায়কদের যারা পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যাবস্থা নেওয়ার খবর নাই।এই ব্যথ’তার দায় শুধু ইনটেরিম সরকারের নয় দায় আছে রাজনৈ্তিক দল এবং তার নেতাদেরও।   

জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারীরা সম্মানের উচ্চ আসনে থাকবে।জাতি তাদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে।আমরা সবাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বলি কিন্তু নিজেরা তা করি না।স্বাধীনতার পর  প্রতারিত হয়ে মানুষ পরিবত’নের অপেক্ষায় থেকেছে।৭৫ দেখলো,৯০ দেখলো পরিবত’ন হয় নাই আবারও অপেক্ষায় থেকেছে।জুলাই’২৪ বিপ্লবে জাতির মাঝে নতুন করে আশা জেগেছিল অনেক অনেক বছরের প্রত্যাশা পূরণের।কিন্তু বিপ্লবের নায়করা তড়িঘড়ি রাজনৈতিক দল গঠন, বিভিন্ন অনৈতিক কম’কান্ডে নিজেদের জড়িয়ে ফেলে,নিজেদের ভেতর দলাদলি কোন্দলে সেই প্রত্যাশা পূরনে ব্যথ’ হয়েছে।বাস্তবে কোন আক্ষরিক পরিবতন’ হয় নাই।বরং আমাদের আচার-আচরণে অবক্ষয়ের মাত্রা শত গুন বেড়েছে।নিবা’চন কমিশনে দলের নিবন্ধন নিতে ব্যথ’ হয়ে সমন্বয়কদের নিবা’চিত উপদেষ্টাদের গঠিত কমিশনকে বিত’কিত করা হচ্ছে।তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী ছায়া দানকারী উপদেষ্টা ডঃ আসিফ নজরুলকে নিয়ে কুটুক্তি হয়েছে।অনেকের ধারনা উপদেষ্টাদের কারো কারো আশী’বাদপুষ্ট এনসিপি নিবা’চন চায় না।তারা চায় সরকারের ছায়া তলে আরও কিছুদিন থেকে সকল সু্যোগ সুবিধা ভোগ করবে এবং দল গোছানোর চেষ্টা করবে।

প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ইউনুস ফেব্রুয়ারীতে নিবাচ’ন ঘোষনা করায় জাতীয় নিবা'চন একেবারে দোর গোড়ায় দাড়িয়ে গেছে।তাই অনেকেই রুষ্ট, নেতাদের কথাবাতা’য় ডঃ ইউনুস এবং সেনাবাহিনী কাউকে কুটুক্তি থেকে বাদ রাখা হচ্ছে না।যখন তখন যাকে তাকে ফ্যাসিষ্ট,ফ্যাসিষ্টের সহযোগী ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে।সংস্কার বিচার পিআর পদ্ধতির অজুহাত তুলে জামাতের সাথে সুর মিলিয়ে নিবা’চন না করার ও কথা বলছে।তারা ভুলে যাচ্ছে তারা দল করবে,ক্ষমতার অংশিদার হবে,তারা সংস্কার করবে সেই শতে’ জনগণ তাদের পাশে দাঁড়ায় নাই।সংস্কার দীঘ’ মেয়াদী ব্যবস্থা।দীঘ’ একবছরে জুলাই সনদ করা হলেও তাতে কেউ সন্তুষ্ট না।বৈঠক আর বৈঠকে বছর পার করেও জাতীয় ঐক্যমত্য কমিটি সংস্কার প্রশ্নে এখনো ঐক্যমতে পৌছাতে পারেন নাই।সংস্কারের জন্য ইনটেরিম সরকার কত বছর থাকতে হবে?সকল স্থানে দেড় দশকের ফ্যাসিষ্ট সরকারের অনুগত দলকানা কম’কতা’ কম’চারী রেখে সংস্কারে আশা করা আদৌ কি সম্ভব?এদেশে রাজনৈতিক নেতারা একমত হবেন এটা আশা করি কিভাবে?সুতরাং নিবা’চন দ্রুত হওয়া জরুরী।নিবা’চনে ভোট প্রয়োগ জনগণের অধিকার, দলের মেনুফেষ্টে দলের কম’কান্ড তুলে ধরা হওক জনগণ তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাতে চাইলে বসাবে।কিন্ত কোনো দলের নিজেদের সুবিধার দাবীতে নিবা’চন পেছানোর চেষ্টা করলে জনগণের ভোট প্রয়োগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে।

সাধারণ মানুষ জুলাই বিপ্লবে রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবত’ন আশা করেছিল কিন্তু তা হয় নাই।জুলাই বিপ্লবের প্রথম ক’দিন সব থমকে ছিল তারপর যেমন আগে ছিল তেমনি চলতে শুরু করেছে,কোথাও কোথাও তার মাত্রা বেড়েছে।নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ আর ঘাপটি মেরে বসে থাকা জাতীয় পাটি’ বিহীন রাজনীতির মাঠে যারা স্থানীয় নিবা’চনে জামানত হারাবে তারাও নিজেদের এখন হিরো ভাবতে শুরু করেছে।ব্যালটের যুদ্ধের আগে সবাই রাস্তায় নেমে পড়েছে ক্ষমতার শো-ডাউনে।ইনটেরিম সরকারের নিরপেক্ষতায় প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।প্রতিদিন একপক্ষের ধমক আবার অন্যপক্ষের পাল্টা ধমক চলমান।সব দলের নেতাদের বচন বাচনে আগ্রাসীভাব।উদ্দেশ্য ক্ষমতার মসনদে বসতেই হ'বে।রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মারমুখী আচার আচরণ,মব জাষ্টিসে মানুষের মাঝে আতংক সেই আগের মতই।আগের মতই রাজনৈতিক নেতাদের যে অবস্থা দেখছি তাতে ডঃ মুহাম্মাদ ইউনুস  সরকারের নিবা'চনের সময় নিয়ে,সংস্কার নিয়ে তারা একমত  হতে পারছেনই না।নিবা’চনের পর ফলাফলে হারু পাটি’ সেই রায়  মেনে নেবে তার নিশ্চয়তা কোথায় ?

এই অবস্থায় গুটি কয়েক মান্যবর উপদেষ্টা দিয়ে গঠিত ইন্টেরিম সরকার কি করতে পারবেন দেশের?যদি কম্বলের পশম বাছতে যাওয়া হয় সেখানে কম্বলই কি খুজে পাওয়া যাবে?রাষ্ট্রের সংস্কার চাইছি,রাজনীতিকরা কি নিজেদের এবং দলের সংস্কার করছেন?একসময় প্রজাতন্ত্রের কম’কতা’-কম'চা্রীদের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ থাকলেও প্রকাশ্যে কেহ রাজনীতি করতেন না।বড়-বড় কম’কতা’রা কেহ সচরাচর জনসমাগমে আসতেন না।কিন্তু জনতার মঞ্চের মাধ্যমে এখন আর সেই রীতিনীতি নাই।জনতার মঞ্চের নায়কদের পরবতী'তে ফ্যাসিষ্ট হাসিনার অথ'-সম্পদ পদ-পদবীতে ফুলে ফেপে রাজকীয় জীবন যাপন করতে দেখে এখন অতি সহজ পথ রাজনীতির তকমা লাগিয়ে কেবলই উপরে উঠার পথ খুজছেন।সেই আমলাদের কি সংস্কার করা হয়েছে? রাজনীতিকরা আগের মতো কেহ যেন কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না।সবাই মেতে আছে জিঘাংসায়।

পি আর এবং সংস্কার, নিবা'চন কমিশনের নিরপেক্ষতা,প্রশাসনের নিরপেক্ষতা,সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে মিডিয়ায় গরম গরম বচন বাচন চলমান। নিবা'চন বয়কটের হুমকি,প্রধান উপদেষ্টার কেবলা নাকি লন্ডন বলা হচ্ছে।এমনি অবস্থায় তলে তলে আসন ভাগাভাগির চেষ্টা চলছে বলে গুজবের হাটে খবর রটেছে।যদি সত্যি হয় মন্দ না।আসন ভাগাভাগির ফয়সালা হলে নিবা'চন করে অযথা দেশের মানুষের রক্ত-ঘামের অথ' ব্যয় করার প্রয়োজন নাই।দরকার নাই ইভিএম,ব্যালট বাক্স,ব্যালট পেপার পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিরোধ বাধাবার।প্রয়োজন কি ভোটের জন্য প্রজাতন্ত্রের লক্ষ লক্ষ কম'কতা'-কমচারী নিয়োগের।প্রয়োজন নাই হাজার হাজার গাড়ীর জন্য লক্ষ লক্ষ লিটার তেল পোড়ানোর।কি প্রয়োজন আছে হাজার হাজার টন কাগজ ছাপানোর?মিছিল মিটিং রাস্তায় রাজনৈতিক দলের অন্ধ সমথ'কদের মারামারি খুনাখুনির প্রয়োজন নাই।বরং একটা কমিটি করে লটারির মাধ্যমে নিবা'চন আসন বরাদ্দ,মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দল ভিত্তিক ব্যবস্থা করলে খারাপ হবে না।যদি লটারি কমিটিতে দলকানার সন্দেহ থাকে সেক্ষেত্রে একমাত্র নিরপেক্ষ ফুটপাতের ভাগ্য গননার টিয়া পাখি বিকল্প রাখা যেতে পারে।একবার ভাবুন ,এমন হলে কেমন হয়? জনগণের ভোটাধিকার থাকুক না সংবিধান কিংবা জুলাই সনদের কাগজে।প্রশ্ন রেখে শেষ করি আর কত জনগণের রক্ত লাশের উপর রাজনীতিকগণ নীতি-নৈতিকতাহীন ভাগ-বাটোয়ারায় নিজেরা হালুয়া রুটির আর অধুনা হাসের মাংসের রসনায় আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলবেন?দেশ এবং দেশের মানুষের কথা এবার অন্তত ভাবুন।

" আমার কথা " ডিসেম্বর-২০২৬ ইং

Friday, August 22, 2025

মাৎস্যন্যায় : প্রসঙ্গ বাংলাদেশ

ইতিহাস থেকে জানা যায় শশাংকের মৃত্যুর পর ৬৫০ থেকে ৭৫০ খ্রীষ্টাব্দ পয্য’ন্ত প্রাচীন বাংলায় কোনো শক্তিশালী শাসকের অধীনে কোনো সুসংহত কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা ছিল না।ফলে বড় বড় মাছ যেমন ছোট ছোট মাছ গুলিকে গিলে খেতে চায় তেমনি রাজ্য জমিদার ও সামন্তরা ক্ষমতার জোরে যে যার মতো রাজ্য দখল করতে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে।ফলে দূযো’গপুণ’ অরাজক অবস্থা তৈরী হয়েছিল যাকে ইতিহাসে মাৎস্যন্যায়ের যুগ বলা হয়।এভাবে প্রায় একশত বছর পার হওয়ার পর পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল ক্ষমতা এসে অরাজক অবস্থার অবসান ঘটান।বিংশ শতাব্দীতে এসে সারা বিশ্বব্যাপী যেন সেই মাৎস্যন্যায়ের ছায়া দেখা যাচ্ছে।১৯১৪ সালে শুরু এবং ১৯১৮ সালে অবসান হওয়া প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর বড় বড় সাম্রাজ্য গুলি ভেঙ্গে বিভিন্ন জাতীয় শক্তির উদ্ভব ঘটে,ইউরোপ জুড়ে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়।আমেরিকা বিশ্বে শক্তিশালী দেশ হিসাবে আবি’ভুত,কমিনিষ্ট সোভিয়েত এবং জামা’নীর হিটলারের উত্থান তরান্বিত হয়।১৯১৯ সম্পাদিত ভাসা’ই চুক্তিতে জামা’নির উপর শাস্তিমূলক শত’ প্রয়োগে ইউরোপ আবারও অস্থির হয়ে পড়ে।বিশ্বকে যুদ্ধ থেকে বাচতে এবং  শান্তির জন্য ১৯২০ সালে লীগ অব নেশন দাড় করানো হয়।কিন্তু ব্যাথ’ হয় এবং শান্তি প্রিয় মানুষকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্মুখীন হয়১৯৩৯ সালে শুরু এবং ১৯৪৫ শেষ হওয়া  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের হতাহতে এবং অবননীয়-অকল্পনীয় ক্ষয়-ক্ষতিতে  শান্তিপ্রিয় মানুষ ব্যথলীগ অব নেশন বিলুপ্ত করে আন্তর্জাতিক শান্তি নিরাপত্তা বজায় রাখা, জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জন করা এবং জাতিসমূহের কর্মকাণ্ডকে সমন্বয় করার জন্য ১৯৪৫ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘ গঠন করেআজ ২০২৫ইং সালে জাতিসঙ্ঘকেও লীগ অব নেশন এর পথে হাটতে দেখছি।

হোলোকাষ্ট থেকে বেচে আসা ইউরোপীয় ইহুদীদের জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালে দুই রাষ্ট্রের ভিত্তিতে ইজরাইলকে স্বীকৃতি দিলেও  প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠনে কোনো ব্যবস্থা করে নাই।সেই থেকে ফিলিস্তিনীদের হত্যা বাস্তচ্যুত করে নিজেদের সীমান্ত সম্প্রসারণ শুরু।আজ তথাকথিত মানবতা রক্ষাকারী-গণতন্ত্রের রক্ষাকারী, আমেরিকা ইউরোপীয়ানরা রক্তপিপাসু দানব ইজরাইলীদের দিয়ে পোড়া-মাটি নীতি অবলম্বন করে জাতিগত নিধনে ব্যস্ত।সকল অবাকাঠামো ধ্বংস করে বোমা-গোলা থেকে বাচবার কোনো আশ্রয় আর ফিলিস্তিনীদের জন্য অবশিষ্ট রাখে নাই।চিকিৎসা সেবা বন্ধ খাদ্য-পানীয় বন্ধ করে ফিলিস্তিনীদের অনাহারে মারার জন্য খাদ্যকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে।ত্রান সাহায্যের নামে ফিলিস্তিনীদের স্থানচ্যুত করে লাইনে দাঁড়ানো ত্রান প্রত্যাশী বুভুক্ষ ফিলিস্তিনীদের উপর নিবি’চারে গুলি করে হত্যা করচ্ছে।বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষের প্রতিবাদ ধিক্কার তিরস্কার কোনো কিছুতেই দানব থামানো যাচ্ছে না।ক্ষমতাবান বিশ্ব বিবেক জাগ্রত হয় না।জাতিসংঘে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবে বার বার ভেটোও প্রয়োগ করে আমেরিকা ইজরাইলকে উৎসাহিত করছে।জাতিসঙ্ঘ কেবলই লিপ সাভি’স দিয়ে দাপ্তরিক কায’ সমাধা করছে নিজ কম’কতা’-কম’চারীদেরই লাশের সংখ্যা সংগ্রহ করছে।ওআইসি আরবলীগ অনেক আগেই ইউরোপ আমেরিকার দাসত্ব গ্রহন করে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ ভাবে দানবকে উৎসাহিত করছে।ইজরাইল প্রতিরোধহীন আগ্রাসী অভিযানে ওয়াক ওভার পেয়ে বৃহত্তর ইজরাইলের মানচিত্র প্রস্তুত করে অন্যান্য আরব ভুখন্ড দখলের পায়তারা করছে।চলমান যুদ্ধ বিরতি চুক্তির আলোচনার মাঝে ইজরাইল গাজা সিটি ধংসে অতিরিক্ত ষাট হাজার সেনা নিয়ে যখন অগ্রসরমান তখন  ইজরাইলী নেতাদের যুদ্ধাপরাধের অভি্যোগে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির কারণে আন্ত’জাতিক অপরাধ আদালতের দুইবিচারক ও দুই প্রসিকিউটরের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ট্র্যাম্প প্রশাসন।

আমেরিকার কূটনৈতিক পারদশি’তায় গবা’চেভকে দিয়ে ওয়ারশজোট ভেংগে দেওয়ার পর ন্যাটো জোট  রাখা এবং তা সম্প্রসারণ করতে হবে কেনো ? রাশিয়া  তার সীমান্ত পয্য'ন্ত ন্যাটো সম্প্রসারণ মানতে রাজি নয়ফেব্রুয়ারী ২০২২ সালে রাশিয়া মানবাধিকার লংঘন নিজ সীমান্ত নিরাপদ রাখার অজুহাত দেখিয়ে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায়।ইউক্রেন আজ এই ন্যাটো জোট ভুক্ত হওয়ার খায়েশে বলীর পাঠা।লোভে ফেলে ইউক্রেনকে যুদ্ধে নামিয়ে মানবাধিকার ও গনতন্ত্র রক্ষাকারী তথাকথিত বিশ্ব মোড়ল দেশ গুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউক্রেনকে সামরিক সহযোগীতা করছে যুদ্ধ এখনো চলছেতৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশংকা ছিল অবস্থা দেখে মনে হয় নাহ,তেমন কিছু হবার নয়পশ্চীমারা কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধকে নিজের ঘড়ে ডেকে এনে তাদের জনগণকে মানবিক বিপয'য়ের মুখে ফেলতে চাইবে নাঅস্ত্র উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী বিশ্বমোড়লদের প্রয়োজন অস্ত্র বিক্রয় করা।তারা চায় অস্ত্র গোলাবারুদ লাগে নেও তোমরাই যুদ্ধ করো তোমাদের দেশে, জিতলে ভালো কথা মরলে তোমরাই মরো অস্ত্র-গোলাবারুদের মূল্য সময়ে বুঝে নেওয়া হবে।যেমনভাবে গত ফেব্রুয়ারিতে ট্র্যাম্প হোয়াট হাউজে জেলনস্কিকে ডেকে এনে হোয়াইট ওয়াশ করে ইউক্রেনের বিরল খনির উপর আমেরিকার দাবি মেনে নিতে বাধ্য করেছে।

গত সপ্তাহে বহু আকাঙ্ক্ষিত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষে ট্র্যাম্প পুতিন আলোচনা আলাস্কায় সম্পন্ন হয়েছে কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই।আলোচনায় পুতিন যুদ্ধবিরতির শতে’ দোনেস্ক ও লুহানস্ক ইউক্রেনকে রাশিয়ার হাতে তুলে দেয়ার দাবী তুলেছে।ট্র্যাম্প বৈঠকের বিষয় জেলনস্কিকে ফোনে যুদ্ধ বিরতির জন্য পুতিনের শতে’র কথা জানান।বৈঠকের পর ট্র্যাম্প ট্রুথ সোস্যাল মিডিয়ায় পোষ্টে জানান যে রাশিয়া বড় শক্তিধর রাষ্ট্র সেই তুলনায় ইউক্রেন কিছুই না।যুদ্ধবিরতি দীঘ’ মেয়াদী হয় না।যুদ্ধ শেষ করতে চাইলে আপোষ করতেই হবে।পাকাপাকি শান্তিচুক্তি করতে হবে।জেলনস্কির আপত্তিতে হোয়াট হাউজে ট্রাম্পের সাথে জেলনস্কির ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের নেতাদের বৈঠক হয়েছে।ট্র্যাম্প জেলনস্কিকে জানিয়েছেন শান্তির জন্য ক্রিমিয়ার আশা ছাড়তে হবে ন্যাটোতে সদস্যপদ লাভের স্বপ্ন ভুলতে হবে।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পের প্রশংসা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ধারনাকে সমথ’ন করায় মনে হচ্ছে জেলনস্কির ইউক্রেনের নতুন মানচিত্র আকা ছাড়া অন্য কোনো পথ আর খোলা নাই। 

আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে যাই দেখতে পাবো এই আমেরিকা ইউরোপীয় দেশ গুলিই জোট বেধে গনতন্ত্র রক্ষার নামে  জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের বানানো অজুহাতে ইজরাইলের হুমকী আরব দেশ গুলিকে ধ্বংস করেছে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে ।আফগানস্থানে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে নরককুন্ড বানিয়েছেইজরাইল তার ইচ্ছানুযায়ী সিরিয়ায় আক্রমণ করছে,লেবাননে আক্রমণ করছে। হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করে লেবাননকে দূব’ল করার ষড়যন্ত্রে লেবাননে গৃহযুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা চলছেফিলিস্তিন আর ফিলিস্তিনীদের হবার সম্ভাবনা নাই।ইরানের পরমাণু সক্ষমতা অজ’নের চেষ্টা বানচাল করতে আমেরিকা-ইজরাইল যৌথভাবে ইরান আক্রমণ করেছে।ভারত কাশ্মীরে হত্যা নিযা'তন চালিয়ে যাচ্ছেইয়াঙ্গুনের জাতিগত নিধনে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আরাকানে ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণতর হচ্ছে।বিদ্রোহী আরাকান আমী’র অত্যাচার-নিযা’তনে নতুন করে আরও কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায়।আশংকা হয়, রাশিয়ার ইউক্রেনের ভুখন্ড দখল আমেরিকা আর ইজরাইলের প্যালেষ্টাইন দখলে উৎসাহিত হয়ে  চীন তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হতে পারেশান্তি নিরাপত্তা,জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্রত নিয়ে গঠিত জাতিসংঘ নামক প্রতিষ্টানটি এখন কেবলই নখ দন্তহীন বাঘ ছাড়া কিছুই না।বিশ্বব্যাপী শক্তিধর দেশ গুলির দূব’লতম দেশ গুলির উপর চলমান আধিপত্যবাদী কতৃত্ববাদী কম’কান্ড দেখে অতীতের মাৎস্যন্যায় যুগের আগমণের ছায়া দেখতে পাচ্ছি।

এমতাবস্থায় তিন দিকে ক্ষমতাধর শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশি বেষ্টিত বহুজাত,বহুমত দেশপ্রেমের ঘাটতিপুন’ অতি ঘন জনবসতি পূন্য’ ক্ষুদ্র বাংলাদেশকে এখন গাজার কথা মাথা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি "সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়" এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে গঠিতদুভাগ্য’ আমরা সুপ্রতিবেশি পাই নাই,ইচ্ছা করলেও প্রতিবেশি পরিবত’ন করতেও পারবো না। আমাদের সকল বিভেদ ভুলে সকল হটকারী সিদ্ধান্ত ত্যাগ করে দেশ-প্রেমিক হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা ছাড়া বিকল্প নাই।শিক্ষাঙ্গনে শৃংখলা ফিরিয়ে ছাত্র-ছাত্রদের পড়ায় মনোযোগী করাতে হবে।জাতিকে শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে উন্নত হতে হবে।পরনিভ’শীলতা কমিয়ে সকল বিষয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী হতে হবে।দেশের প্রতিটি নাগরিককে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া এবং সকল বাহিনীকে আধুনিকায়নে ব্যবস্থা করতে হবে।নতুবা দুব’ল হয়ে সবলের কাছ থেকে দেশ ও জাতির অস্তিত্ব ধরে রাখা যাবে না।

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA