Monday, September 21, 2026

অপেক্ষা সেই সুদিন দেখবার

জনস্বার্থে সরকারের বিধিবিধান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে, সরকারি সম্পত্তির হেফাজত, বে-আইনী কর্মকাণ্ড থেকে জনসাধারণকে বিরত রাখতে, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সেবাদানের জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিয়ে সরকারি  কর্মকর্তা কর্ম'চারীদের প্রতিপালন করা হয়ে থাকে। এক সময় সরকারি  কর্মকর্তা কর্ম'চারীদের বেতন ভাতা সু্যোগ সুবিধা কম ছিলো। বউ বাচ্চা কাচ্চার ভরণপোষণ- শিক্ষা খরচ সামাল দেয়া নাকি সম্ভব ছিলো না। তাই অনেকেই ঘুষ দুর্নীতিতে জড়াতে বাধ্য হতেন। বিগত আওয়ামী সরকার সেই দিক আমলে রেখে ঘুষ দুর্নীতি রোধ করার লক্ষে বেতন ভাতা সু্যোগ সুবিধা অনেক বেশি বাড়িয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের অভিমত ছিল সরকার ক্ষমতায় থাকার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিতে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে। সেই সুবাদে সরকারি কর্মচারী-কর্ম'কর্তাগণ দেশের সবচাইতে বেশি সুযোগ সুবিধাভোগী হয়েছিলেন। কিন্তু ঘুষ দুর্নীতি  কমে নাই বরং তা বেড়েছিল বহুগুন। বত'মান সরকারও ক্ষমতার ছয় মাস পার না হতেই সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তদের বেতন তিন কিস্তিতে নিম্ন গ্রেডের জন্য মূল বেতনের ১৪২ শতাংশ এবং সবো'চ্চ গ্রেডের জন্য মূল বেতনের ১০০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছেন। ক্ষমতার ছায়াতলে থাকা  মানুষদের সুযোগ সুবিধা পাওয়া নতুন নয়। সেই রাজা বাদশা জমিদারদের আমল থেকে  পাইক-পেয়াদা-বরকন্দাজরা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে আজও তার ব্যতিক্রম নাই কেবল পদ পদবীর নামের পরিবর্তন হয়েছে। 

আঠার কোটি মানুষের দেশে আনুমানিক পনের লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা'-কর্মচারী, এম পি মন্ত্রীর সুখ শান্তি এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তার ব্যয় ভার জোগানোর জন্য সরকারি সকল সেবার মূল্য বিভিন্ন অজুহাতে বাড়ানো হবে বিদেশী ঋনের উপর নিভ'র করতে হতে পারে৷ জনগণের যা হয় হউক সরকারের আয় ঠিক থাকলেই হবে। একেক জন নির্বাহীর জন্য প্রায় কোটি টাকার গাড়ি, রক্ষণাবেক্ষনে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা। সুযোগ সুবিধামতো সদলবলে বিদেশ ভ্রমন, সবইতো জনগণেরই টাকা। সরকারের কর বলি আর সেবার মূল্য বলি, তা বাড়ানোর খবর বাজারে আসতে না আসতে ঘড় ভাড়া,গাড়ি ভাড়া দ্রব্য মূল্য সবই বাড়তে থাকবে। কিন্তু আনুমানিক সতের কোটি পচাশি লক্ষ মানুষের ভেতর রিক্সা চালক তার ভাড়া বাড়াবে, ট্যাক্সী চালক ভাড়া বাড়াবে, দিন মজুর তার রোজ বাড়াবে কিন্ত সংবাদ পত্রের কমী' সহ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী কর্মকর্তাদের কি হবে ?

বাড়তি কর ট্যাক্স দিয়েও মানুষ যে তার কাংখিত সেবা পায় তা কিন্তু নয়। কারণ যেখানেই যত বেশি জন-গণ স্বার্থ সেখানেই ততো বেশী ভেজাল ততো বেশী দুর্নীতি। অতিত থেকে জানা যায়  বেতন ভাতা বাড়ানোর পরও জনগণের সেবকগণের  দুর্নীতি অপরাধ কমে নাই বরং বেড়েছে অনেক বেশী। সাধারণ মানুষ তাদের কাছ থেকে একটু সুন্দর ব্যবহার পাবে সেই আশাও কম। সবাই অপরাধী বলা যাবে না। তবে যারা অপরাধ করতে অভ্যস্ত তারা দেখে অপরাধ করে পার পাবার অপার সুযোগ। তা না হ’লে সাত খুনের আসামীদের বিচারের রায় একযুগেও কেন কার্যকর হয় না ? অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা হত্যাকান্ডের সাজা প্রাপ্ত আসামী এখনও কেন জনগনের ট্যাক্সের টাকার সরকারী খাবার খেয়ে বেচে থাকে? ১৪ বছরেও সাংবাদিক সাগর-রূনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন দাখিল হয় না। মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ নিয়ে ছোট সাহেব থেকে বড় সাহেব হয়ে অবসরে গেছেন। তার জেল জরিমানা সহ পরিবার পথে বসার কথা কিন্তু শোনা যায় পেনশন সরকারী সুবিধা নিয়ে সুখেই আছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া এবং বিচার কার্যে দীর্ঘ সুত্রিতার সুযোগ থাকায় দিনকে দিন মানুষের ভেতর লোভ সাহস দুটাই বাড়ছে।

একবার কথা প্রসঙ্গে এক দীর্ঘ যাত্রার সহযাত্রী আক্ষেপ করে বলেছিলেন এদেশে দুর্নীতি প্রচলিত ব্যবস্থায় রোধ করা কখনো সম্ভব নয়। তিনি বলেন কেউ দোষী সহজে হয় না কারণ ভুত তাড়াবার সরিষায়ও ভুত থাকে। মনে করেন কপালের ফেড়ে পড়ে ধরা খেয়ে চাকুরি হারালাম । ২০ কোটী টাকা আত্মসাতের মামলা হলো । চাকুরীর মেয়াদ খুব বেশি নাই। অবসরে গেলে দেড় কোটী টাকা পেতাম। নিজের চাকুরী জীবনে ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা শেষ করে দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। জমি-জমা সহায়-সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে ছেলে-মেয়েদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। শহরে-গ্রামে মাথার উপর ছাদ আছে নগদ টাকা আছে বাকি জীবন এমনি চলে যাবে। মামলা চুলুক তার গতিতে একসময় প্রকৃতির ডাকে সবার মত পৃথিবীর মায়া ছাড়তে হবে। ছেলে-মেয়েদের ভবিষৎ চিন্তা নিয়ে এতো কম’যজ্ঞ তারা এখন প্রতিষ্ঠিত তাই আর আফসোস নাই ?   

আমরা দেখছি ক্ষমতার হাত বদল হয় নেতা-মন্ত্রী বদলায় আইনের অপরাধে কাঠগড়ায় দাঁড়ায় সাজা হয় কিন্ত মন্ত্রীদের সহযোগী রাজকর্ম'কর্তা'-রথী-মহারথীরা বহাল তবিয়তে থাকে। সময়ের সাথে সাথে গিরগিটির মত রঙ বদলায়। সংখ্যায় অতি অল্প অপরাধী ধরা পড়লেও অপরাধ ভেদে শাস্তি বড় জোড় বদলী অথবা ওএসডি করে রাখা। এখন সময় এসেছে জনগণের সেবক দেশের সবচাইতে বেশি সুবিধাভোগী অপরাধী সরকারি কর্মকর্তা- কম'চারী, রথী-মহারথীদের বিচারের ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা। তাদের শাস্তির ব্যবস্থা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা। প্রয়োজন দ্রুত বিচার সম্পন্নের জন্য বিশেষ আদালত। তদন্ত হবে আন্তমন্ত্রনালয় কমিটি দিয়ে । প্রয়োজন অপরাধ ভেদে অপরাধীর চাকুরীচ্যুতি। চাকুরীকালিন নিজ নামে অথবা পরিবারের কারো নামে ক্রয় করা সকল সহায় সম্পত্তি,ব্যংক আমানত সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা রাখার ব্যবস্থা ।

জনগণের সেবকদের  পদস্খলন সাধারণ ভাবে গ্রহণ করা কাম্য নয়। ক্ষেতের ফসল বেড়ায় খেলে সেই ফসল রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই ফসল রক্ষা করতে বেড়া আগে ঠিক করতেই হবে। শুধুমাত্র ক্লোজ,সাময়িক বরখাস্ত কিংবা বদলি, একই বিভাগের লোকজন দিয়ে তদন্তে সীমাবদ্ধ রাখলে যে কোনো ব্যক্তির অপরাধ করার উৎসাহ ও উৎসাহিত হবার কমতি হবে না কখনো। সরকারের উন্নয়ন কাজে জনগণের সেবকদের নিয়ে বর্তমানে প্রচলিত “ কিছু কাজ কিছু চুরি “ প্রকল্প কখনো বন্ধ হবার নয়। যতই শক্ত কঠীন আইন হোক না কেন অপরাধ কমার আশা করা হবে স্বপ্নবিলাস মাত্র। অপরাধীরা আথি'ক অপরাধ, হত্যা ধর্ষন মাদক ব্যবসা নানা রকম অপরাধ করতে গিয়ে নতুন নতুন কলা-কৌশল ব্যবহার করছে, সেই সাথে আছে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়। শোনা যায় প্রতিবেশি দেশে প্রধান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) আছে। যারা দুর্নীতি প্রতিরোধ করা, দেশের প্রশাসনিক সততা বজায় রাখা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের গুরুতর অপরাধ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে।তারা এব্যাপারে সাফল্য দেখিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অপরাধ দমনে আমাদের দেশেও দুদক এর পাশাপাশি সিবিআই এর মত একটা সংস্থা গড়া যায় কিনা ভাবা দরকার।

শোনা যাচ্ছে সরকার তার সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। গুগল থেকে “ইপন”এর অনেক আগের গবেষণার তথ্য থেকে জানা যায় শহরে প্রতি দশ হাজারে সতের শিশু অটিজমে আক্রান্ত। গ্রামে এর সংখ্যা প্রতি দশ হাজারে চৌদ্দ জন। এদের কারো দরকার বিহেবিয়ার থেরাপি, কারো প্রয়োজন স্পিচ থেরাপি কারো অকুপেশনাল থেরাপি কারো দরকার ফিজিও থেরাপি সাথে শিক্ষাদান। তাদের শিক্ষাদান ও চিকিৎসার পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাই ।  যা আছে তার ব্যয়ভার বহন করার সামর্থ্য' সাধারণ মানুষের নাগালেও নাই। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কি অমানুষিক কস্ট করতে হয় তা একমাত্র তাদের বাবা-মা জানেন। সেই কস্ট সেই বেদনা সরকারী কর্মকর্তা' কম'চারী আর সাধারণ মানুষের আলাদা নয়। প্রতিটি  বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু এ দেশের নাগরিক তাদের সবার সমান অধিকার। সেখানে শুধুমাত্র সরকারী কর্মকর্তা কর্ম'চারীদের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা কেন ? এমন ব্যবস্থা কেবল বৈষম্যমূলক নয় অসচ্ছল অসহায় মা-বাবার প্রতি চরমতম অবিচার যা অতিদ্রুত সাম্যতার ভিত্তিতে পুন'বিবেচনার দাবী রাখে। 

সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের  সুযোগ সুবিধা নিয়ে সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আছে । তবে দেশ ও জনগণের সেবক এই আনুমানিক পনের লক্ষ মানুষের সুবিধা বৃদ্ধিতে আপত্তি নাই। ইনটেরিম সরকারের সময়ে শোনা গিয়েছিল গরিব দেশে মন্ত্রী পাড়ায় মহারথীদের জন্য দুইটি সুইমিং পুল সহ সুবিশাল আবাসন ব্যবস্থা করার তাতেও মানুষের করার কিছুই নাই। মানুষ দেখছে নিবা'চনে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার রাস্ট্র পরিচালনায় থাকলেও আমলারাই প্রকৃত দেশ পরিচালনা করছে। যাকে গনতান্ত্রিক সরকার না বলে আমলা নির্ভর সরকার বললে বোধকরি  ভাল শোনা যায়। সুতরাং তাদের সুযোগ-সুবিধা তারাই নিধা'রন করছে। সাধারণ মানুষের দাবি নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হওক। কেবল আশা সরকারী কর্ম'কর্তা কর্মচারীরা সৎ-নিষ্ঠাবান এবং জনবান্ধব হবেন, সাম্য ও ন্যায়-বিচারের লক্ষে আইন সঠিকভাবে প্রয়োগের ব্যবস্থা হবে । শুধু ক্ষমতাসীন নয় সকল রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী সৎ-নিষ্ঠাবান এবং দেশ-প্রেমিক হবেন।বাস্তবায়ন জানি কঠিন কর্ম তবে বিশ্বাস  পরিবর্তন আসবেই,তাই অপেক্ষা সেই সুদিন দেখবার ।

https://www.youtube.com/channel/UCO9Em15PgixJY8mgVh78rjA

No comments: